বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো জোটবদ্ধ শুধু সময়ের অপেক্ষা

বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো জোটবদ্ধ শুধু সময়ের অপেক্ষা

ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে আমেরিকা। আমেরিকা নুতন করে ভারতের উপর আরও ২৫% শুল্ক আরোপ করলো। প্রতিক্রিয়ায় ভারত বলেছে পদক্ষেপ গুলো অন্যয্য,অন্যায় এবং অযৌক্তিক। ভারত তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। ভারত আগেই স্পষ্ট করেছে আমদানি বাজারের উপর ভিত্তি করে এবং ভারতের ১৪০কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ নিয়ে রাশিয়া থেকে কম দামে তেল কিনে থাকে। বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো জোটবদ্ধ শুধু সময়ের অপেক্ষা

ভারত রাশিয়া থেকে তেল ও অস্ত্র কেনা যদি অপরাধ হয়ে থাকে তাহলে আমেরিকা যে রাশিয়া থেকে নিয়মিত ইউরেনিয়াম এবং রাসায়নিক সার কিনছে তাতে কোন অপরাধ হচ্ছেনা কেন? ভারতের বিরুদ্ধে আরও অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক বৃদ্ধির পর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প মুখ লুকিয়ে বলেন এব্যাপারে আমি কিছু জানিনা।

আমেরিকা এতদিন সারা পৃথিবীকে ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রেখেছিল। ভারতের উপর ২৫% শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প চেয়েছিল ভারতকে পদানত করে রাখতে কিন্তু ভারত আমেরিকার রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কাঠগড়ায় দাড় করিয়ে দিয়েছে।

সারা বিশ্বকে এবার আমেরিকাকে জবাব দিতে হবে ভারত যদি রাশিয়ার সাথে ব্যবসা করে অন্যায় করে থাকে তাহলে আমেরিকা নয় কেন। আমেরিকার বিভিন্ন সংস্থা এখনো রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লোরাইড কিনে চলেছে যা পরমানু শক্তি,বিদ্যুৎ চালিত গাড়ি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া থেকে রাসায়নিক সার কিনে থাকে যা কৃষি কাজে ব্যবহৃত হয়। অথচ ট্রাম্প সারা পৃথিবীকে বুঝাতে চেয়েছে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনে ইউক্রেন যুদ্ধে মৃত্যুকে সাপোর্ট করছে। ট্রাম্পের ভালো মানুষ সাজার এই যে প্রবনতা তা এবার বেড়িয়ে পড়লো।

ভারত কার সাথে ব্যবসা করবে কার কাছ থেকে অস্ত্র কিনবে তা নির্ধারণ করবে আমেরিকা আর ভারত বসে বসে আঙুল চুষবে এটাই মনে করেছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২৫% শুল্ক বাড়িয়ে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিল ভারত যদি রাশিয়া থেকে তেল ও অস্ত্র কেনা বন্ধ না করে তাহলে ভারতের উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হবে। ভারত সাথে সাথে বলে দিয়েছিল ভারত জাতীয় স্বার্থ দেখে সিদ্ধান্ত নেয় কারো রক্ত চক্ষুকে পরোয়া করে নয়। কারো নির্দেশে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবেনা।

শুল্ক যুদ্ধে ট্রাম্প আমেরিকাকে কোথায় নিয়ে যায় সেটাই এখন দেখার। কারণ ভারতের উপর একটি মিথ্যা অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাশিয়া এবং ভারতের শত্রু চীনও ভারতের পক্ষে এসে দাড়িয়েছে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির এক প্রতিবেদনে ভারতের এই নীতির লড়াইয়ে শক্ত অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে।

চলতি মাসের শেষের দিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চীন সফরে যাচ্ছেন যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পরবর্তীতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের ভারত সফরে আসার কথা রয়েছে।এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এখন রাশিয়ায় অবস্থান করছেন। দুই চানক্যের একসাথে রাশিয়া সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই অনেকে মনে করছেন। ভারতের সাহসী পদক্ষেপে আমেরিকার ঔদ্ধত্যের একটা শেষ পরিনতির জন্য বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো জোটবদ্ধ শুধু সময়ের অপেক্ষা।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
সংবাদ প্রতিনিধি

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।