বিদ্যালয়ের সবচেয়ে অবহেলিত কক্ষ লাইব্রেরি

স্টাফ রিপোর্টারঃ সরকারি স্কুলে লাইব্রেরিয়ান নেই কেন? গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হোসেন এই প্রশ্ন করেছিলেন- জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানের কাছে। আরেক শিক্ষার্থী প্রশ্ন করলো, কেন নবম শ্রেণিতে উঠার পর আমাদের বিভাগ ভাগ করে দেয়া হয়?

আড়াইশ’ শিক্ষার্থীর এমন শত প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন ড. মিজানুর ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞজনরা।

গণসাক্ষরতা অভিযানের রজত জয়ন্তী উপলক্ষে শনিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত শিক্ষার্থী সম্মেলনে রাজধানীর ১৭ টি স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আড়াইশ’ শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেন, বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন স্কুল কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে হুট করে লাইব্রেরিতে ঢুকতে চাইতাম। তখন লাইব্রেরির দরজায় গিয়ে দেখতাম তালা দেয়া।

আমাকে বলা হতো, চাবি হারিয়ে গেছে অথবা যার কাছে চাবি আছে তিনি ছুটিতে। কিন্তু আমি তা মানতাম না। তালা ভেঙ্গে লাইব্রেরিতে ঢুকে দেখি বই আর টেবিলের উপর ধুলো-বালির আস্তরণ পড়ে আছে। লাইব্রেরির বইপুস্তুকে কেউ কোন দিন হাত দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে না।

সেই থেকে একের পর এক অভিজ্ঞতায় দেখেছি, দেশের বিদ্যালয়গুলোর সবচেয়ে বেশি অবহেলিত যে কক্ষ সেটি লাইব্রেরি-বলেন মিজানুর রহমান।

তিনি আরও বলেন, নামকরা শহরের নামকরা বিদ্যালয়ে গেলাম। দেখলাম তাদের এসএসসি-এইচএসসি ফলাফল জিপিএ ৫ এ ভরা। কিন্তু যখন লাইব্রেরি দেখতে গেলাম, তখন দেখতে পেলাম লাইব্রেরিয়ান নেই অথবা তালা দেয়া।

শেষে মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ে প্রতি বছর নতুন বই পুস্তক কেনার জন্য যে বাজেট দেয়া হয় সেটার ঠিকমতো ব্যবহার হচ্ছে কি না সে খোঁজ নিতে।

নবম শ্রেণিতে বিভাগ আলাদা করে কেন দেয়া হয় এক ছাত্রীর এমন প্রশ্নের জবাবে মিজানুর রহমান বলেন, এটি নিয়ে অনেক চিন্তাভাবনা চলছে। সরকারেরও চিন্তাভাবনা রয়েছে। একিভূত শিক্ষাকার্যক্রম অন্তত মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত করার পক্ষে আমি নিজেও ।

সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের আরও প্রশ্নের উত্তর দেন- অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলিকুজ্জমান, গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হুমায়ুন খালিদ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর-উন-নবী, অভিনেতা জাহিদ হাসান, গ্রীন ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা চৌধুরী, সংগীত শিল্পী নকীব খান ও হায়দার হোসেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।