দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের স্ত্রী অগ্নিকন্যা বাসন্তী দেবীর মৃত্যুদিন আজ

দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের স্ত্রী অগ্নিকন্যা বাসন্তী দেবীর মৃত্যুদিন আজ
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের স্ত্রী অগ্নিকন্যা বাসন্তী দেবীর মৃত্যুদিন

অগ্নিকন্যা বাসন্তী দেবী মৃত্যুদিন  ।।  ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন ব্যক্তিত্ব ও অগ্নিকন্যা বাসন্তী দেবীর মৃত্যুদিন আজ।  তিনি ছিলেন ব্রিটিশ কারাগারে কারারুদ্ধ প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামী নারী। অগ্নিকন্যা বাসন্তী দেবী

বাসন্তী দেবী ২৩ মার্চ ১৮৮০ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম বরদানাথ হালদার ও মাতার নাম হরিসুন্দরী দেবী। তার পিতা ছিলেন আসামের বিজনি ও অভয়াপুরী এস্টেটের দেওয়ান। দশ বছর বয়েসে তিনি দার্জিলিংয়ের লরেটে কনভেন্টে শিক্ষার জন্যে ভর্তি হন। ১৮৯৬ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের সাথে বিবাহ হয়।

১৯২০ সালে চিত্তরঞ্জন দাশের সাথে অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন। তিনি ১৯২১ সালে নারীদের অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য উদ্ভূত করেন। ১৯২১ সালে চিত্তরঞ্জন দাশ যখন গ্রেপ্তার হন তখন তিনি আইন অমান্য ও হরতালের ঘোষণা দেন। এর পরে তিনিও গ্রেপ্তার হন বড়বাজার এলাকায় হরতাল করার সময়। তাদের গ্রেপ্তারে সারা বাংলা জুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু তাকে ‘মা’ সম্বোধন করতেন। তিনি ও চিত্তরঞ্জন দাশ মিলে সম্পাদনা করতেন বাঙলার কথা পত্রিকা।

১৯২০ সালে,মহাত্মাগান্ধী যখন অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন-আর আন্দোলনের তুঙ্গে চিত্তরঞ্জন দাস কারাবন্দী হলে বঙ্গীয় কংগ্রেসের সভাপতি হন তাঁর স্ত্রী বাসন্তী দেবী (১৯২১-১৯২২)। এ সময়ে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো কংগ্রেস সম্মেলন। যে সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাসন্তী দেবী এবং এ শহরের শত শত নারীর এসভায় উপস্থিত অভূতপূর্ব জমায়েত সম্পর্কে সমকালীন পত্র পত্রিকা দুটো বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করেছিল প্রথমবারের মতো একজন বাঙালি নারীর সভাপতিত্ব ও পিতৃতান্ত্রিক অবদমনের চিরায়ত সামাজিক কাঠামো ভেঙে নারীর আত্মশক্তি অনুধাবনের মনস্তাত্ত্বিক আবেগ।

১৯২২ সালে এপ্রিল মাসে চট্টগ্রামে যে বঙ্গীয় প্রাদেশিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় সেখানে তিনি সভানেতৃত্ব করেন এবং দেশবন্ধুর নতুন কর্মপন্থা ইঙ্গিত করেন। দেশবন্ধু তখনও জেলে ছিলেন। তিনি দেশবন্ধুর সাথে সংগঠন গড়ে তোলা ও ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন জন্য কাজ করেছেন। ১৯২২ সালে চট্টগ্রামে বঙ্গীয় প্রাদেশিক সম্মেলনে সভানেত্রী ছিলেন। দেশবনধু ও তার তিন সন্তান- দুই কন্যা, অপর্ণা ও কল্যাণী ও একপুত্র চিররঞ্জন। ১৯২৬ সালে একমাত্র পুত্র চিররঞ্জনের মৃত্যুর পর রাজনৈতিক জীবন থেকে অবসর নেন। এর পরেও অনেক পারিবারিক বিপর্যয় ও ব্যক্তিগত শোক সহ্য করতে হয়েছিল। প্রথমে স্বামী, পুত্র, এরপর নাবালিকা পৌত্রী, পুত্রবধু, জামাতা এবং জ্যেষ্ঠা কন্যার মৃত্যু হয় তার জীবদ্দশায়। তার দৌহিত্র সিদ্ধার্থ শংকর রায় পশ্চিম বাংলার ভূতপূর্ব মুখ্যমন্ত্রী ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত এবং এক দৌহিত্রী মঞ্জুলা বসু প্রথম মহিলা এডভোকেট জেনারেল।

বাসন্তী দেবী ৭ মে ১৯৭৪ মৃত্যুবরণ করেন। কলকাতা ক্যাওড়াতলা মহাশ্মশান প্রাঙ্গণে তার স্মৃতি সমাধি মন্দির বর্তমান।

ব্রিটিশ কারাগারে কারারুদ্ধ প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামী নারী অগ্নিকন্যা বাসন্তী দেবীর মৃত্যুদিনে শ্রদ্ধা

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
সংবাদ প্রতিনিধি

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।