ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের চাপ অগ্রাহ্য করলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের চাপ অগ্রাহ্য করলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী
ইসরায়েলিদের ভ্রমণে সতর্কতা

গাজায় চলমান সংঘাত শেষে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তার কোনো সমর্থন থাকবে না। এ কথা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি গাজায় ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয় অর্জন’ না হওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন। হামাসকে ধ্বংস এবং অবশিষ্ট ইসরায়েলি জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে ‘আরও অনেক মাস’ সময় লাগতে পারে।

তিনি বলেন, জর্ডান নদীর পশ্চিমের সমস্ত ভূমির ওপর ইসরায়েলের নিরাপত্তার নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। এখানে ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়ে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রসঙ্গ টেনে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘কী করার আছে? আমাদের আমেরিকান বন্ধুদের আমি এই সত্যটা বলেছি। সেই সঙ্গে ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য ক্ষতির কারণ হবে, এমন বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টাও বন্ধ করে দিয়েছি।’ নেতানিয়াহু বলেন, এটি একটি প্রয়োজনীয় শর্ত এবং এটি (ফিলিস্তিনের) সার্বভৌমত্বের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কি করতে হবে? আমি আমাদের আমেরিকান বন্ধুদের এই সত্যটি জানিয়ে দিয়েছি। আমাদের ওপর এমন একটি বাস্তবতা (ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা) চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টাও আমি বন্ধ করে দিই যা ইসরায়েলের নিরাপত্তার ক্ষতি করবে।

গাজায় হামলার পর এ পর্যন্ত সেখানে ২৫ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। সেখানকার জনসংখ্যার ৮৫ শতাংশ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইসরায়েলের এমন আক্রমণাত্মক হামলার লাগাম টানতে এবং যুদ্ধের টেকসই সমাপ্তির জন্য অর্থপূর্ণ আলোচনায় জড়িত হওয়ার জন্য তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে ইসরায়েল।

মধ্যপ্রাচ্যের ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের কথা বলে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েলে ইহুদি উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন করা হয়। এরপর থেকে পর্যায়ক্রমে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করে বসানো হয় ইহুদি বসতি। এমনকি মুসলমান, ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কাছে পবিত্র আল-আকসা মসজিদও নিয়ন্ত্রণে নেয় জায়ানবাদীরা।

এসব নিয়ে লেগেই আছে সংঘাত। ফিলিস্তিনিরা কখনোই নিজেদের বসতভিটা হারানো এবং আল-আকসার প্রার্থনায় বাধা দেওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি, মেনে নেননি জাতিসংঘের দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানও। তারপরও এতেই একমাত্র সমাধান দেখেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা। তারা সেই সমাধানের প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন।  ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের অবসানে দুই রাষ্ট্র সমাধানের ধারণা কয়েক দশক ধরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে আলোচিত হয়ে আসছে। এই কূটনীতির মূল ভিত্তি ইসরায়েলের পাশাপাশি সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।

যুক্তরাষ্ট্রসহ ইসরায়েলের মিত্ররা চিরশত্রু এই দুই দেশের সংঘাত নিয়ন্ত্রণে ‘দুই-রাষ্ট্র সমাধান’ প্রক্রিয়ার ওপর জোর দেন যেখানে ইসরায়েল রাষ্ট্রের পাশাপাশি একটি ভবিষ্যত ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে। এর লক্ষ্য- ওই অঞ্চলে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা। তবে এই প্রথম ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের চাপ প্রত্যাখ্যান করলেন প্রকাশ্যে। এ অবস্থায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের চিড় করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।

ফিলিস্তিনিদের ভূমি উদ্ধারের আন্দোলন নিয়ে বহু সংঘাত-যুদ্ধ হলেও যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কেবল দ্বিরাষ্ট্রের সমাধানের কথা বলেছে। কার্যত তারা সমাধান করেনি। এখন ইসরায়েল পুরো জেরুজালেম নগরীকেই তাদের রাজধানী বলে দাবি করে। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে চায়। আল-আকসায় প্রার্থনায় বাধা ও ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ নিয়ে বিরোধ ও সংঘাতে প্রাণহানিও ঘটেছে প্রচুর। এমন পরিস্থিতিতে ফের দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাইডেন। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের পাশাপাশি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই সংঘাতের ‘একমাত্র জবাব’। তিনি দ্বিরাষ্ট্রের সমাধানের কথা বললেও বাস্তবে তার এ বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। এ জন্য বিশ্নেষকরা বলছেন, অদূর ভবিষ্যতে এই সংকটের সমাধান দেখা যাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের একটা অংশ মনে করেন, এমন অবস্থান নেতানিয়াহু ও তার প্রশাসনের সঙ্গে পশ্চিমা মিত্রদের সম্পর্কে ব্যবধান বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
সংবাদ প্রতিনিধি

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।