প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব স্বকীয়তায় উৎসব পালনের আহ্বান পার্বত্য মন্ত্রীর

প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব স্বকীয়তায় উৎসব পালনের আহ্বান পার্বত্য মন্ত্রীর

 আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান ও চাংলান’ উপলক্ষ্যে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

            মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতি আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখন থেকে আর ‘বৈসাবি’ নয়, আমরা এই সামাজিক উৎসবগুলোকে যার যার সম্প্রদায়ের নিজস্ব স্বকীয় রীতিতে পালন করবো। আমরা চাই না এ ধরনের সামাজিক উৎসবে কোনো প্রকার বৈষম্যের সুযোগ থাকুক।

            তিনি বলেন, আমাদের চাকমা সম্প্রদায়ের সামাজিক উৎসব হলো বিজু। এ বিজু উৎসব আগে মন্ত্রণালয় পালন করতো বৈসাবি হিসেবে। সেখানে বৈসাবি তিনটি সম্প্রদায়ের তিনটি আদ্যক্ষর থেকে এসেছে। ত্রিপুরা সম্প্রদায় বলে বৈসু, মারমা সম্প্রদায় বলে থাকে সাংগ্রাই, আর চাকমা সম্প্রদায় এ উৎসবকে আখ্যায়িত করে বিজু নামে। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের ১১টি সম্প্রদায়ের উৎসবের নাম শুধু বৈসাবি হতে পারে না। এই বৈসাবি নামকরণ দিয়ে বিগত সরকার অন্যান্য সম্প্রদায়ের জাতিসত্ত্বাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছে। প্রধামন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়টি উপলব্ধি করেছেন- বাংলাদেশে জাতিসত্ত্বার ভিত্তিতে যে যে সম্প্রদায় রয়েছে, সব সম্প্রদায়ের নিজস্ব স্বকীয় নাম নিয়ে এ মানবিক উৎসবটি পালিত হবে। কাউকে বঞ্চিত করে নয়, কাউকে বাদ দিয়ে নয়- যে সম্প্রদায় যে নামে এই সামাজিক উৎসবটি পালন করবে সেই নামেই তা অভিহিত হবে। মন্ত্রী আরো বলেন, বিজু, সাংগ্রাই, বৈষু, বিষু, চাংক্রান, চাংলান এ নামগুলোকে সামনে রেখে আমরা আগামি ১২ এপ্রিল রাজধানীতে বসবাসরত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সমন্বয়ে একটি প্রোগ্রাম করতে যাচ্ছি।

            অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, রংধনুর যেমন ভ্যারাইটি আছে, তেমনি সকল সম্প্রদায়ের নিজস্ব স্বকীয়তা উৎসবে ফুটে উঠবে—এটাই স্বাভাবিক। আমাদের ঐতিহ্যই আমাদের শক্তি। তিনি আরো যোগ করেন, এই উৎসবগুলো কেবল নিছক অনুষ্ঠান নয়, এটি আমাদের শেকড় ও পরিচয়। পাহাড়ি জনগণের স্বকীয়তা রক্ষা করে তাদের উন্নয়নের মূলস্রোতে সম্পৃক্ত রাখাই আমাদের সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

            মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্য সাচিং প্রু, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ।

            উল্লেখ্য, এ উপলক্ষ্যে আগামী ১২ এপ্রিল সকালে রাজধানীর বেইলি রোডস্থ ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স’ থেকে রমনা পার্কের লেক পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও পুষ্প বিসর্জন উৎসবের আয়োজন করা হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।