পূর্ব এশিয়ার উত্থান বনাম আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার পিছিয়ে থাকা

পূর্ব এশিয়ার উত্থান বনাম আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার পিছিয়ে থাকা
কথায় বলে, ‘চিরদিন কাহারো সমান নাহি যায়।’ একসময় বিশ্ব অর্থনীতির ভরকেন্দ্র ছিল পশ্চিম ইউরোপ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব অর্থনীতির ভরকেন্দ্র স্থানান্তরিত হয়ে যায় আটলান্টিক মহাসাগরের অপর পাড় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। এখন মনে হচ্ছে, বিশ্ব অর্থনীতির ভরকেন্দ্র স্থানান্তরিত হতে যাচ্ছে পূর্ব এশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরের তীরবর্তী অঞ্চলে।
পূর্ব এশিয়ার জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইয়ান, হংকং ও সিঙ্গাপুরের আর্থ-সামাজিক অবস্থা – ইউরোপ আমেরিকার সমমানের। মাত্র ২০/২৫ বছর আগেও চীনের নাম কেউ উচ্চারণ করত না। সেই চীনের অর্থনীতি বছর পাঁচেক আগেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনীতিকে অতিক্রম করে গেছে। শুধু তাই নয়, বর্তমান বিশ্ব ব‍্যবস্থায় আমেরিকার বিপরীতে চীন একটি বিকল্প প্রভাব বলায় গড়ে তুলেছে। বিগত মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে পূর্ব এশিয়ার ভিয়েতনাম যেভাবে উঠে এসেছে, সেটাও সত্যিই বিস্ময়কর।
জাপান বাদে পূর্ব এশিয়ার এই দেশগুলো অত্যন্ত হতদরিদ্র অবস্থা থেকে উঠে এসেছে। এই দেশগুলোর অভাবনীয় উত্থানের পিছনে রয়েছে শিক্ষা ও গবেষণা খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ এবং ধর্মের প্রভাবমুক্ত রাষ্ট্র ও সমাজ গঠন।
পৃথিবীর ৬৭% বুলেট ট্রেন চীনের মাটিতে চলে। চীনের রেলমন্ত্রী কিন্তু রেলগাড়িকে প্রণাম করেননি। চাইনিজ বিজ্ঞানীরা দুর্ঘটনা ঠেকানোর ব‍্যবস্থা নিয়েছেন, যেকারণে মন্ত্রীকে রেললাইন ধরে কান্নাকাটি করে পাবলিকের সহানুভূতি ভিক্ষা করতে হয়নি। চীনের প্রধানমন্ত্রী যদি বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বাদ দিয়ে জন্তু পূজা করতে বলতেন, জন্তুর মলমূত্র নিয়ে গবেষণা করতে বলতেন, দিনরাত পার্লামেন্টকে প্রণাম করতেন – তাহলে এতটা উন্নতি করতে পারত না চীন।
আফ্রিকার গৃহযুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশগুলো এবং আমাদের দক্ষিণ এশিয়া মূলত দারিদ্র্য, দুর্নীতি, অশিক্ষা, অপুষ্টি, নারী অধিকার হরণ প্রভৃতির জন্য কুখ্যাত। এই দু’টি অঞ্চলের পশ্চাদপদতার জন্য প্রধানত দায়ী অযোগ্য রাজনীতিবিদ, মাথাভারী আমলাতন্ত্র,  দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ধর্মান্ধতা ও জাতিবিদ্বেষ।
দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলোতে রাজনৈতিক শক্তির ছত্রছায়ায় একটি সর্বগ্রাসী লুটেরা গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। এই অশুভ শক্তি মোট জনসংখ্যার ৫ থেকে ১০ ভাগের বেশি হবে না। হলে কি হবে, এরা সাংঘাতিক রকম শক্তিশালী ও সর্বগ্রাসী। নিজ দেশের সিংহভাগ সম্পদ কুক্ষিগত করে ফেলেছে লুটেরা চক্র।
দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার অনুন্নত দেশগুলোর অশুভ শক্তি – জনসাধারণকে ঘুম পাড়িয়ে রাখতে, খেলোয়ার বা চলচ্চিত্র তারকাদের মহানায়ক বানায়। মিডিয়ায় দিনরাত এই সুপারস্টারদের অতি মানবীয় বন্দনা চলে। মানুষ মুখরোচক আলোচনায় ব্যস্ত থাকে।
কখনো কখনো বিদেশি মিডিয়া কিংবা গবেষণা সংস্থা যখন বলে, রাষ্ট্র শক্তির ছত্রছায়ায় অমুক গোষ্ঠী অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে; কিংবা তমুক গোষ্ঠী বিদেশে বিশাল অর্থ পাচার করে দিয়েছে। তখন সেই গোষ্ঠীর কর্ণধাররা- জাতীয় পতাকা গায়ে জড়িয়ে প্রচার চালায়, বিদেশীরা আমাদের দেশকে অপমান করেছে; জনগণের উচিত বিদেশি অপপ্রচারকারীদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া।
হতভাগা পাবলিক এই সমস্ত অতি জাতীয়তাবাদী ও ধর্মাশ্রয়ী অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হচ্ছে। তারা বুঝতে পারে না যে, বিদেশি সংস্থা বা মিডিয়াগুলো তাদের কল্যাণের জন্যই লুটেরা চক্রের মুখোশ খুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
লেখক / প্রতিবেদক

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।