পুলিশের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করে পাননি কোনো বিচার

পুলিশের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করে পাননি কোনো বিচার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ধর্ষণের শিকার এক নারী পুলিশের কাছে অভিযোগ করেও পাননি কোনো বিচার। কারণ অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেই একজন পুলিশ কর্মকর্তা। উল্টো এ ঘটনায় ধর্ষিতার স্বামীকে জড়িয়ে করে দেওয়া হয় ধর্ষণ ও অপহরণের মামলা।

 শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন ভূক্তভোগী আনোয়ার হোসেন। এ সময় তার পাশে ছিলেন স্ত্রী।

 ধর্ষিতার ওই নারীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার স্বামী আনোয়ার হোসেন।

 তিনি বলেন, পুলিশ সদস্য কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়েছি এবং ন্যায়বিচারের জন্য সংগ্রাম করছি। পুলিশ প্রশাসনে অভিযোগ জানালেও থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি, বরং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্য তার সহযোগীরা পরবর্তীতে আমাকে ব্যবহার করে আমার স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ অপহরণ মামলা দায়েরের ষড়যন্ত্র করেছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, মূল ধর্ষণ মামলা দুর্বল করা এবং আমাকে আইনি জটিলতায় ফেলে মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য করা। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি এবং পুলিশি চক্র থেকে মুক্তি শান্তিপূর্ণ জীবন ভিক্ষা চাই

২০২৪ সালের মার্চ মাসে পারিবারিক জমি সংক্রান্ত একটি অভিযোগ জানাতে বোরহানউদ্দিন থানায় গেলে, এসআই মোঃ রাজিব হোসেন তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি তদন্তের নামে প্রতারণাপূর্ণ আচরণ করে তাকে বিশ্বাস স্থাপনে বাধ্য করেন এবং জমি উদ্ধারের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি প্রলোভন দেখিয়ে সুচতুর কৌশলে ঘনিষ্ঠ হওয়ার অপচেষ্টা চালান। তার সরকারি পদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে, পরিকল্পিতভাবে প্রতারণা উদ্দেশ্যে প্রলোভনের মাধ্যমে আমাকে ফাঁদে ফেলে একাধিকবার ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন মানসিকভাবে বিপর্যন্ত করেছেন

আমার স্বামীর বিরুদ্ধে একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হাতিরঝিল থানা পুলিশের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এক রহস্যময় বিতর্কিতউদ্ধার অভিযানপরিচালিত হয়, যেখানে নেতৃত্ব দেন এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি, যিনি সাদাপোশাকে উপস্থিত থেকে নিজেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, উক্ত ব্যক্তি মূলত এসআই রাজিবের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী একই থানার (ডিএমপি, যাত্রাবাড়ি) পুলিশ সদস্য। রাজিবের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে, তার বন্ধু সহকর্মী এসআই জহিরুল ইসলাম হাতিরঝিল থানাকে পক্ষপাতদুষ্টভাবে (Biased) প্রভাবিত করে এবং ১৬ জানুয়ারি ২০২৫ রাত :৩০ মিনিটে, আমাকে চক্রান্তের মাধ্যমে বাদী বানিয়ে আমার স্বামীর বিরুদ্ধে আমারই মিথ্যা অপহরণ ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করা হয়

 তিনি আরো বলেন, ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি থাকা অবস্থায়, যখন আমার স্বামী কারাবন্দি, তখন এসআই রাজিব আমার বড় বোনকে পাঠিয়ে মামলা ২৩ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে ভোলা এসিপি অফিসে গিয়ে মামলা প্রত্যাহারের জন্য আমাকে চাপ প্রদান করেন এবং বিনিময়ে জামিন ভবিষ্যতে পুলিশি হয়রানি থেকে মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন যা আমি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করি

 আমার দাবিসমূহ:

১। অভিযুক্ত ধর্ষক এসআই রাজিব হোসেন এবং তার সহযোগীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক। ২। বরিশালে আমার জীবনের নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায়, এসআই রাজিবের বিরুদ্ধে FIR ঢাকায় গ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট না আসার অজুহাতে মামলা নিয়ে আর যেন বিলম্ব না হয়

৩। আমার স্বামীর বিরুদ্ধে সাজানো অপহরণ মিথ্যা ধর্ষণ মামলাটি প্রতিষ্ঠা করার বিষয়টি অবিলম্বে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হোক

৪। আমি এবং আমার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং নতুন করে কোন মিথ্যা মামলায় পুলিশ ফাঁসাতে না পারে

আমি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি, গণমাধ্যমের প্রতি, দেশীয় মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি আকুল আবেদন জানাচ্ছিআমাকে ন্যায়বিচার পেতে সহায়তা করুন। আমি চাই, আমার মতো বাংলাদেশের আর কোনো নারী যেন বাংলাদেশ পুলিশের দ্বারা ধর্ষণ নির্যাতনের শিকার না হয়। আমি বিচার চাই! আমি পুলিশি চক্র ষড়যন্ত্র থেকে মুক্তি চাই!

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
SDutta
লেখক / প্রতিবেদক

SDutta

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।