পুলিশের ওসিসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা, তদন্তের নির্দেশ

বিশেষ প্রতিবেদক অসিত কুমার ঘোষঃ রাজধানীর খিলগাঁও জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (ওসি) নাদিয়া জুঁইসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেছেন সাপ্তাহিক তদন্ত চিত্র এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক জিয়াউর রহমান।

সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম কনক বড়য়ার আদালতে তিনি মামলা দায়ের করেন। শুনানি শেষে বিচারক পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই) কে মামলার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার অপর আসামীরা হলেন- খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমান, এসআই মোঃ নাছির উদ্দিন তুহিন, এএসআই ফজলু ও মাসুদ, কনস্টেবল আমিরুল, মাদক ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান স্বপন, সোর্স রহমান ও লুঙ্গি ফারুক। মামলায় বাদী অভিযোগ করেন, আসামী নুর মোহাম্মদ একজন মাদক ব্যবসায়ী এবং তিনি আওয়ামী লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকার মাদকাশক্তি নিরাময় কেন্দ্রর নামে মাদকের আখড়া, নারী ব্যবসা, চাঁদাবাজ, সিন্ডিকেট হিসেবে কাজ করেন।

খিলগাঁও থানা পুলিশ তার বিরুদ্ধে মামলা নেয় না। সাধারণ জনগণ প্রশাসন বা আদালতের আশ্রয় নিলে এসি নাদিয়া জুঁই এর সহযোগিতার ফলে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না। বরং যারা অভিযোগ করেন নাদিয়া জুঁই এর সহযোগিতায় তাদের ভয়ভীতি, হুমকি, হামলা, গুমসহ মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেয়া হয়। গত ২৩ জুলাই নুর মোহাম্মদ ও নাদিয়া জুঁয়ের বিরুদ্ধে সাপ্তাহিক তদন্ত চিত্রে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশ করায় ২৯ জুলাই জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে খিলগাঁও থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরদিন বাদীর পত্রিকা অফিস ডিআইটি রোড মালিবাগ রেলগেটে পুলিশ অভিযান চালায়।

সেখানে নাদিয়া জুঁই ও মশিউর রহমান বাদে অপর আসামীরা উপস্থিত থাকে। সেখানে বাদীকে মারধর করা হয়। তার অফিস থেকে ৫ লাখ চার হাজার ৪শ টাকার মালামাল এবং ৫শ কপি তদন্ত চিত্রের বর্ষ ২৪, সংখ্যা ৩৪ নিয়ে যায়। আর এই ঘটনা কাউকে জানালে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা হবে বলে হুমকি দেন নুর মোহাম্মদ। ওইদিন তাকে গ্রেপ্তার করা হলে ৩১ তারিখে রামপুরা থেকে বাদীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা।

আদালতে আনার আগে কনস্টেবল আমিরুল বাদীকে মারধর করে। পুলিশ তার ১০ দিন রিমান্ড চাইলে আদালত দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে এনেই আসামী নাছির উদ্দিন তুহিন ও মাসুদ বাদীর স্ত্রী রেশমী রহমানকে ফোন করে এক মাদক ব্যবসায়ীকে মারধর করে তার কান্না শুনিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এরপর তাদের ৫০ হাজার টাকা দেন বাদীর ভাই জহিরুল ইসলাম। ওই ঘটনার সকল বিষয় বাদী মশিউর রহমানকে জানালে তিনি আরো মামলা দেয়ার হুমকি দেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।