পাবনা প্রতিনিধিঃ দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর ধরে কোনো কমিটি না থাকায় পাবনা মোটর মালিক সমিতিতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আর এ সুযোগে সমিতির একটি অংশ অবৈধভাবে টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছে আরেক অংশ।
তাঁদের অভিযোগ, পাবনা মোটর মালিক সমিতির নাম ভাঙিয়ে তাঁদেরই একটি অংশ গত সাড়ে তিন বছরে অবৈধভাবে প্রায় ১০ কোটি আট লাখ টাকা আদায় করেছে।
আজ রোববার দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবহন মালিকদের একটি অংশ এ অভিযোগ করে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাইরের জেলার গাড়ি পাবনায় প্রবেশ করলে মালিক সমিতিকে গাড়িপ্রতি ৪৭০ টাকা দিতে হয়। এ ছাড়া জেলার ভেতরে প্রায় ৩১টি পয়েন্টে মালিক সমিতির লোক বিভিন্ন টাকা আদায় করে থাকে।
কিন্তু অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ২০১২ সালের জুন মাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পাবনা মোটর মালিক সমিতির তৎকালীন কমিটি বাতিল করে পাবনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোল্লা মাহমুদ হাসানকে ‘প্রশাসক’ নিয়োগ দেন। এরপর তিনি যাচাই-বাছাই শেয়ে ২০১৪ সালে ২০৭ জন মালিককে ভোটার করে একটি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরি করেন।
কিন্তু তারপরও অজ্ঞাত কারণে নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। এর পর থেকে অতিরিক্ত জেলা ‘প্রশাসক’ মালিক সমিতির দায়িত্ব পালন করছেন। পরপর ছয়জন প্রশাসক পরিবর্তন হলেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
মালিক সমিতির এই অংশের আরো অভিযোগ, মালিক সমিতির দায়িত্ব প্রশাসনকে দেওয়া হলেও চাঁদা আদায়ের দায়িত্ব আগের ওই মালিকদের হাতেই থেকে যায়। এসব মালিকের মধ্যে পাবনা এক্সপ্রেসের মালিক আবুল আহসান খান রেওন, রাজদূত গাড়ির মালিক আবদুল মোমেন বিভিন্ন স্থানে তাঁদের নিজেদের লোক বসিয়ে চাঁদা আদায় অব্যাহত রাখেন।
তাঁরা আরো বলেন, এসব স্থানের মধ্যে মুলাডুলিতে ওয়াজেদ, দাশুড়িয়ায় মিন্টু, শালগাড়িয়ার বাবলু, মোছাব নামের ব্যক্তিরা এসব চাঁদা আদায় করে থাকেন। তাঁরা বিভিন্ন রুট থেকে এভাবে প্রতিদিন প্রায় ৮০ হাজার টাকা আদায় করেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনে বারবার লিখিত অভিযোগ করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে আরো অভিযোগ করা হয়, জেলার ৩১টি অভ্যন্তরীণ এবং বাইরের রুট থেকে প্রতি মাসে গড়ে ২৪ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এভাবে গত সাড়ে তিন বছরে প্রায় ১০ কোটি আট লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে।
সমিতির কমিটি না থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে মালিকদের একটি অংশ টাকা তুললেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তা ছাড়া কমিটির প্রশাসনকে বারবার তাগিদ দিয়েও কোনো সুরাহা হচ্ছে না। অবিলম্বে অবৈধভাবে টাকা আদায় বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে ঘোষণা দেয় মালিক পক্ষের এই অংশ।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত পাবনা এক্সপ্রেসের মালিক আবুল আহসান খান রেওনের নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করে হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পাবনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাকসুদা বেগম সিদ্দিকা বলেন, চাঁদা আদায়ের অভিযোগ সত্য নয়। গত জুন মাস থেকে পাবনা মোটর মালিক সমিতির কোনো প্রশাসক নেই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রশাসকের সময় বাড়ানোর আবেদন করা হলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মোটর মালিক সমিতি এখন অভিভাবকহীন।
তবে সমিতির নির্বাচনের বিষয়ে পাবনার জেলা প্রশাসক রেখা রানী বালো বলেন, পাবনা মোটর মালিক সমিতি বিভিন্ন দল, উপদলে বিভক্ত। তাই জটিলতার কারণে নির্বাচন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পাবনা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি সরকার ট্রাভেলসের মালিক এম এ কাফী সরকার, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশারাফ হোসেন খোকন মালিথা, আসিফ মাহমুদ, খায়রুল আলম, মাসুদ সরকার, আলাল হোসেন প্রমুখ।





