সাবাশ বাংলাদেশ, সার্ক ফোয়ারাসহ বিখ্যাত ভাস্কর্যের স্থপতি নিতুন কুণ্ডুর প্রয়াণ দিবস

সাবাশ বাংলাদেশ, সার্ক ফোয়ারাসহ বিখ্যাত ভাস্কর্যের স্থপতি নিতুন কুণ্ডুর প্রয়াণ দিবস
বিখ্যাত ভাস্কর্যের স্থপতি নিতুন কুণ্ডুর প্রয়াণ দিবস

নিতুন কুণ্ডুর প্রয়াণ দিবস আজ। বাংলাদেশী চিত্রশিল্পী, সাবাশ বাংলাদেশ, সার্ক ফোয়ারা প্রমুখ বিখ্যাত ভাস্কর্যের স্থপতি, মুক্তিযোদ্ধা ও উদ্যোক্তা একুশে পদক প্রাপ্ত নিত্য গোপাল কুণ্ডু (নিতুন কুণ্ডু) ১৭তম প্রয়াণ দিবস। পরম শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে সবার সঙ্গে নিবিড়ভাবে স্মরণ করি।  তিনি ২০০৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হন। পরে ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ১৬ সেপ্টেম্বর পোস্তগোলা শ্মশানে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। নিতুন কুণ্ডুর প্রয়াণ দিবস

মুক্তিযোদ্ধা, স্রষ্টা ও শিল্প-উদ্যোক্তা, বহু গুণে গুণান্বিত ও শিল্পী নিতুন কুণ্ডু ১৯৩৫ সালের ৩ ডিসেম্বর দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।পিতা জ্ঞানেন্দ্রনাথ কুন্ডু,মাতা বীণাপাণি কুন্ডু। তার লেখাপড়ায় হাতেখড়ি ১৯৪২ সালে দিনাজপুর বড়বন্দর পাঠশালায়। ১৯৪৭ সালে ভর্তি হন দিনাজপুর শহরের গিরিজানাথ হাইস্কুলে। ১৯৫২ সালে তিনি মেট্রিকুলেশন পাস করেন। পড়ালেখা করেছেন তদানীন্তন ঢাকা আর্ট কলেজে (বর্তমানের চারুকলা ইনস্টিটিউট)। সেখান থেকে তিনি ১৯৫৯ সালে চিত্রকলায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। নিতুন কুন্ডু সিনেমার ব্যানার এঁকে নিজের আয়ে শিক্ষা অর্জন করেন।

স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় তার আঁকা পোস্টার ‘সদা জাগ্রত বাংলার মুক্তিবাহিনী’ ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সাবাস বাংলাদেশ’, কারওয়ান বাজারে স্থাপিত ‘সার্ক ফোয়ারা’ তার জনপ্রিয় ভাস্কর্য।

ষাটের দশকের স্বাধিকার আন্দোলনে বামপন্থি রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা ছিল নিতুন কুন্ডুর। নিতুন কুন্ডু পরে ঢাকার মার্কিন তথ্যকেন্দ্রে যোগ দিয়ে ১৯৭১ সালের মার্চ পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের অধীনে তথ্য ও প্রচার বিভাগে নকশাবিদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময়ে তার আঁকা ‘সদাজাগ্রত বাংলার মুক্তি বাহিনী’-সহ কয়েকটি পোস্টার মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রেরণা জোগায়।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালে ‘অটবি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যা বর্তমানে দেশের একটি বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত। চিত্রশিল্পী হিসেবে ঢাকা (১৯৬৫, ১৯৬৬), চট্টগ্রাম (১৯৬৬) ও রাজশাহীতে (১৯৬৮) চারটি একক চিত্রপ্রদর্শনী করেছিলেন নিতুন কুন্ডু।

এছাড়া দেশে-বিদেশে বহু উল্লেখযোগ্য যৌথ প্রদর্শনীতে তিনি অংশ নিয়েছেন। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এ শিল্পী তেলরং, জলরং, অ্যাক্রিলিক, এচিং, সেরিগ্রাফ, পেনসিল বা কালিকলম মাধ্যমে চিত্র রচনা করেন।

নিতুন কুন্ডু নির্মিত ভাস্কর্যগুলোর মধ্যে রয়েক ‘মা ও শিশু’ (১৯৭৫),‘সাবাস বাংলাদেশ’,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৯২),‘সাম্পান’,চট্টগ্রাম বিমানবন্দর (২০০১)। এছাড়া রাজধানীর ‘সার্ক ফোয়ারা’ও‘কদম ফোয়ারা’ দুটি তার নির্মিত।

ঢাকার মধুমিতা সিনেমা হল, হোটেল শেরাটন ও গুলশান জনতা ব্যাংকের ম্যুরাল তার করা। একুশে পদক,জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, প্রেসিডেন্ট গোল্ডকাপ,এশিয়া কাপ ক্রিকেট পুরস্কার, বাংলাদেশ টেলিভিশনের নতুন কুঁড়ি পুরস্কারসহ জাতীয় পর্যায়ের বহু পুরস্কার-পদক-ট্রফি-ক্রেস্ট-মেডেলের নকশাকার তিনি।

শিল্পকলায় অবদানের জন্য তিনি জাতীয় চিত্রকলা পুরস্কার (১৯৬৫) এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘একুশে পদক’(১৯৯৭) লাভ করেন।

তিনি ২০০৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হন। পরে ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ১৬ সেপ্টেম্বর পোস্তগোলা শ্মশানে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

উল্লেখযোগ্য ভাস্কর্য ও শিল্পকর্ম

সার্ক ফোয়ারা, ঢাকা (১৯৯৩), প্যান প্যাসেফিক সোনারগাঁও হোটেলের সামনে অবস্থিত।

শাবাশ বাংলাদেশ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৯২)

কদমফুল ফোয়ারা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

মুর‌্যাল (পিতল), পাকিস্তান এয়ারলাইন অফিস, হোটেল শেরাটন, ঢাকা

ম্যুরাল (তেল রং) জনতা ব্যাংক, ঢাকা

ম্যুরাল (কাঠ, লোহা, পিতল) মধুমিতা সিনেমা হল, ঢাকা

সাম্পান, ঐতিহ্যবাহী নৌকার প্রতীক, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর (২০০১)

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের সম্মুখে ফোয়ারা নির্মাণ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
সংবাদ প্রতিনিধি

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।