নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নতুন গঠিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জনতা পার্টির (বিজেপি) সভাপতি মিঠুন চৌধুরী ও দলটির কেন্দ্রীয় নেতা আশিক ঘোষ অসিত দীর্ঘ ৫ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। গত ২৭ অক্টোবর রাতে সাদা পোশাকে পুলিশ পরিচয়ে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বুধবার মিঠুন চৌধুরীর স্ত্রী সুমনা চৌধুরী সীমা পরিবর্তন ডটকম বলেন, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১২টা ১০ মিনিটে পুরান ঢাকার সূত্রাপুর থানার ফরাশগঞ্জের প্রিয় বল্লব জিউ মন্দিরের ফটক থেকে তার স্বামী ও আশিককে একটি কালো গাড়িতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাদা পোশাকধারী পুলিশের পরিচয়ে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।
সীমা অভিযোগ করেন, ওই ঘটনায় সূত্রাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জিডি নেননি। থানা থেকে বলা হয়েছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট থেকে তাদেরকে আটক করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে জিডি নেয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, আমার স্বামী এ দেশের একজন নাগরিক। তার রাজনীতি বা দল করার অধিকার রয়েছে। তাকে যদি গোয়েন্দা পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য কোনো সদস্য আটক করে থাকেন তাও জানার অধিকার আমাদের রয়েছে। কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত জানিনা কে বা কারা আমার স্বামীকে আটক করেছে।
সীমা আরো বলেন, আমার স্বামী যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন কিংবা তার বিরুদ্ধে যদি কোনো মামলা থাকে তাহলে আমরা আইনিভাবে তা মোকাবিলা করতে পারি। কিন্তু কারা, কি অভিযোগে তাদের ধরে নিয়ে গেছে সেটাই তো এখন পর্যন্ত জানতে পারলাম না।
থানায় জিডি না নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আশরাফ উদ্দিন বলেন, এমন কোনো অভিযোগ নিয়ে মিঠুন চৌধুরীর পরিবার থানায় আসেননি। তাই আমি এ বিষয়ে কিছুই বলতে পারছি না।
প্রসঙ্গত, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে ‘বাংলাদেশ জনতা পার্টি (বিজেপি)’ নামে সংখ্যালঘুদের জন্য একটি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দেন মিঠুন চৌধুরী।
তখন দলটির নাম প্রকাশ করে মিঠুন চৌধুরী বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের দাবিতে ও অর্ধশতাধিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত আমাদের ৩০০ আসনের প্রার্থী মনোনয়নের স্বার্থে, সকলের সমন্বিত উদ্যোগে আজ থেকে এই রাজনৈতিক জোট ‘বাংলাদেশ জনতা পার্টি (বিজেপি)’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা হল। যার নির্বাচনী প্রতীক থাকবে পদ্মফুল ও পদ্মফুলের নীচে দু’টো হাত আছে।
মিঠুন চৌধুরীর বাড়ি সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে। পরিবার নিয়ে তিনি সিলেট নগরের বালুচর এলাকায় বসবাস করতেন।



