নগরকান্দায় মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে গৃহবধুর নির্যাতনের অভিযোগ

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:  ফরিদপুরের নগরকান্দায় অডিও রেকর্ড নিয়ে বিরোধের জের ধরে মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে গৃহবধুকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের দক্ষিন কান্দী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় ঐ গৃহবধুকে উদ্ধার করে নগরকান্দা উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, দক্ষিন কান্দী গ্রামের নাসিম মাহমুদ সাব্বু স্থানীয় মুনসুরাবাদ বাজারে বিকাশ, ফ্লেক্সি লোডের ব্যবসা ও বিভিন্ন যাত্রী পরিবহনের টিকিট কাউন্টারের কাজ করে। একই গ্রামের জিন্দার খানের ছেলে রিজাউল এর সাথে তার বিরোধ চলে আসছিল। রিজাউল মুনসুরাবাদ গ্রামের রুবেল নামে এক ব্যক্তিকে ভাড়া করে সাব্বুর দোকানে ১১৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট রেখে সাব্বুকে পুলিশের হাতে ধরে দিবে। এই কথপথন গুলো সাব্বু টের পেয়ে উক্ত অডিও রেকর্ডটি সংগ্রহ করে এলাকার লোকদেরকে জানান। এতে ক্ষীপ্ত হয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে রেজাউলের নেতৃত্বে ৫/৬ জন সাব্বুর বাড়ীতে হামলা চালায়। সাব্বু পালিয়ে গেলে তার স্ত্রী কনিকা বেগমকে ধরে রিজাউলদের বাড়ীতে নিয়ে যায়। কনিকা হাত- পা বেধে শারীরিক নির্যাতন করে। পরে স্থানীয় মুরুব্বী বাবু তালুকদারসহ এলাকার লোকজন গিয়ে কনিকাকে উদ্ধার করে নগরকান্দা উপজেলা হাসপাতালে পাঠায়।

কনিকার স্বামী নাসিম মাহমুদ সাব্বু অভিযোগ করে বলেন, রেজাউল তার ভাই ওবায়দুর, একই গ্রামের তাপস শীল ও নান্টু এরা এলাকায় মাদকের ব্যবসা করে। আমি বাধা দেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে। রুবেল নামে এক যুবককে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়া করে আমার দোকানে ১১৬ পিস ইয়াবা রাখবে। পরে পুলিশকে সংবাদ দিয়ে আমাকে গ্রেফতার করাবে। আমি এটা বুঝতে পারি এবং এ বিষয়ে মোবাইলে একটি অডিও রেকর্ড আমার হাতে আসে। অডিওটা আমি এলাকার মুরব্বীদের শুনাই। এতে রিজাউল আমার উপর ক্ষীপ্ত হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে ওরা রামদা নিয়ে আমার উপর হামলা করে। আমি পালিয়ে প্রান রক্ষা করি। কিন্তু ওরা আমার স্ত্রীকে ধরে নিয়ে হাত-পা বেধে শারীরিক নির্যাতন চালায়। বর্তমানে সে নগরকান্দা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আমার স্ত্রীর চিকিৎসায় ব্যস্থ আছি। পরে থানায় অভিযোগ দায়ের করিবো।
বাবু তালুকদার বলেন, রিজাউল এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। ও আমাদের এলাকার যুব সমাজটাকে ধ্বংশ করছে। আর কনিকাকে হাত-পা বেধে শারীরিক নির্যাতন করছে। আমিসহ এলাকার কয়েকজন মিলে রিজাউলদের বাড়ী থেকে কনিকাকে উদ্ধার করি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ঘটনা আমি শুনেছি। রিজাউল একটা ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। তা ছাড়া ওরা মাদকের স¤্রাট হয়েছে তাই এলাকার সবাই ওদের ভয় পায়।

এ বিষয়ে রিজাউলের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে এলাকায় উভয় গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
সংবাদ প্রতিনিধি

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।