পুরোনো ঋণ কর্মসূচি বাদ দিয়ে নতুন কর্মসূচি নিয়ে সরকারের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
সচিবালয়ে অর্থ বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করেছে ঢাকা সফররত সংস্থাটির ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ফ্যাসিস্ট আমলে নেয়া ঋণ কর্মসূচি জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেনি। তাই সেটি বাদ দিয়ে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে।
ডলার সংকট মোকাবিলা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ২০২৩ সালে আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয় বাংলাদেশ। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এর আকার বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়।
এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ পেয়েছে ৩৬৪ কোটি ডলার। তবে ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ ছাড় নিয়ে প্রায় এক বছর আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত তা ছাড় হয়নি। এরই মধ্যে উভয় পক্ষ নতুন ঋণ কর্মসূচির দিকে এগোচ্ছে।
এর অংশ হিসেবে রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে অর্থ বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে বসে আইএমএফের মুদ্রা ও পুঁজিবাজার বিভাগের ডেপুটি ডিভিশন প্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল।
বৈঠকের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে তিনি আগের ঋণ কর্মসূচির সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ‘আইএমএফের আগের ঋণ কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে এসেছে বর্তমান সরকার। জনগণের স্বার্থে নতুন করে ঋণ কর্মসূচিতে যাচ্ছি। কিস্তির টাকা পাওয়া নিয়ে চিন্তা করছি না। আগের সরকার যে ঋণ কর্মসূচি নিয়েছিল, তাতে জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত করা হয়নি।’
এ সময় অর্থমন্ত্রী আরও জানান, আগের ঋণ কর্মসূচির আওতায় ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ ছাড় নিয়ে সরকারের কোনো উদ্বেগ নেই। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারী ও পর্যটকদের সুবিধার জন্য ভিসা নীতিতেও পরিবর্তন আনা হবে।
ঢাকা সফর শেষে আইএমএফের প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটনে সংস্থাটির সদর দফতরে মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই মূল্যায়ন ইতিবাচক হলে আগামী অক্টোবরে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার পর নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে আরেকটি মিশন ঢাকায় আসতে পারে।



