দেশের সব চেয়ে বড় কাঁচা বাজার যশোর রাজারহাটের চামড়ার মোকামে ধ্বস

যশোর থেকে ই.আর.ইমন: দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় কাঁচা চামড়ার বাজার যশোরের রাজারহাট। ঈদের পর এই হাটে প্রচুর পরিমাণ চামড়া এনেছেন ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। ট্যানারি মালিকদের প্রতিনিধিরা চামড়ার যে দাম বলছেন তাতে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। আবার চড়া দামে চামড়া কিনে ঝুঁকি নিতে চান না ট্যানারি মালিকদের প্রতিনিধিরাও। এই পরিস্থিতে উভয় পক্ষই সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

যশোর ছাড়াও খুলনার বিভাগের ১০ জেলার ক্ষুদ্র -মাঝারি ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজশাহী, পাবনা, ঈশ্বরদী ও নাটোরের বড় বড় ব্যবসায়ীরা এই হাটে চামড়া এনেছেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া বিক্রি করতে না পারায় তারা বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে চামড়া ব্যবসায়ীরা ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাবে। হাটে ৪০০ পিস গরুর চামড়া এনেছেন গোপালগঞ্জের ব্যবসায়ী সঞ্জয় বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘সরকারের বেধে দেওয়া দামের চেয়ে অনেক কম দামেই চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে। হাটে দাম বলা হচ্ছে প্রতি ফুট ২০ থেকে ৩০ টাকা। আমার কেনা চামড়ার এখন যে দাম বলা হচ্ছে, তাতে হাটে বসেই প্রায় ৪০ হাজার টাকা ক্ষতি হবে।’

বাগেরহাটের মোংলা থেকে আসা ব্যবসায়ী রণজিৎ মন্ডল বলেন, ‘২২৫ পিস চামড়া এনেছি। যে দাম বলা হচ্ছে, তাতে ২৫-৩০ হাজার টাকা ক্ষতি হবে। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা লাটে উঠবে। বউ-বাচ্চা নিয়ে পথে বসতে হবে।’ খুলনার বটিয়াঘাটা থেকে আসা ব্যবসায়ী শঙ্কর দাস বলেন, ‘দাম বাড়ার খবর কেবল টিভিতেই দেখি আর শুনি। হাটে এসে চিৎ হয়ে পড়ছি দাম শুনে। এখন দেখছি, চামড়া ফ্রি দেওয়া লাগবে।’ এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
তবে ক্ষদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের এসব দাবি নাকচ করে দেন ট্যানারি মালিকদের প্রতিনিধিরা। সুপার এস লেদারের প্রতিনিধি মিজানুর রহমান বলেন, ‘গত হাটের চেয়ে আজকের হাটে চামড়ার দাম প্রায় দ্বিগুণ। আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দাম খুবই কম। আমরা বিক্রি করছি ৬০ সেন্ট থেকে এক ডলারে। এ ক্ষেত্রে প্রসেসিং করতে আমাদের ৬০ টাকার বেশি খরচ হয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় এই হাটে চামড়া কেনার সাহস পাচ্ছি না।’

ঢাকার তোফায়েল লেদার কমপ্লেক্সের প্রতিনিধি বলেন, ‘চামড়ার দাম কিন্তু বেশিই। আমি নিজে ১১শ’ টাকা দরে কিনেছি। কেউ কেউ ১২শ’ টাকা দিয়েও কিনেছেন। ভালো চামড়ার দাম বেশি। ৩০-৩৫ টাকা যে চামড়ার দাম বলা হচ্ছে—সেগুলো পঁচা, নরম ও নরমাল সিলেকশনের।’ তিনি বলেন, ‘সরকার ট্যানারি মালিকদের যেমন ১০ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে, তেমনি ট্যানারির হয়ে যারা কাজ করেন তাদেরও কিছু প্রণোদনা দেয়, তবে প্রতিযোগিতামূলক দামে চামড়া কেনা যেত। বিষয়টি সরকারের দৃষ্টিতে এলে ব্যবসায়ীদের জন্যেও সুখকর হবে।’

যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুকুলের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। চামড়ার বাজার ফের চাঙা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঈদের পরে তৃতীয় হাটে প্রচুর চামড়া উঠেছে। যেসব ব্যবসায়ী মজুত রেখেছিলেন, তারাও হাটে চামড়া এনেছেন।’ তিনি বলেন, ‘কাঁচা চামড়ার ওপর সরকার নীতিমালা তৈরি করেছেন। ট্যানারি মালিকদের কাছের বকেয়া টাকা আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে সমাধানের বিষয়ে নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের নগদ টাকার যে সংকট ছিল, তার সমাধান হবে এবং তারা প্রচুর চামড়া কিনতে পারবেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।