মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর)আওয়ামী লীগের বিবাদমান দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা দফায় দফায় এ সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত অর্ধশত আহত হন।
এসময় পুলিশ শতাধিক রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় পুরো হাজীগঞ্জ শহরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। হাজীগঞ্জ বাজারে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অবমাননা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে শহরের বিশ্বরোড এলাকায় এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। এতে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ যোগ দেওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু বিকেলে সমাবেশ শুরুর আগে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সমর্থকরা সেখানে হামলা করে সমাবেশের মঞ্চ ভাঙচুর করে। এ ঘটনার পর উভয়পক্ষ দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এসময় হাজীগঞ্জ থানা পুলিশের সঙ্গে জেলা থেকে আসা দুই প্লাটুন পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
এদিকে, হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে এই সমাবেশ পণ্ড হলেও সেখানে প্রতিপক্ষকে হটিয়ে দিয়ে শহরে মিছিল করেন তারা। অন্যদিকে, সংঘর্ষে আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।সমাবেশ পণ্ড হওয়ার জন্য নেতারা স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলামের সমর্থকদের দায়ী করেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হেলাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গাজী মাইনউদ্দিন বলেন, সম্প্রতি কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে জেলা আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় এই সমাবেশের আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু কোনো যুক্তি ছাড়া যুবলীগ নামধারী কতিপয় দুর্বৃত্ত এবং বহিরাগতদের সহযোগিতা নিয়ে আমাদের সমাবেশ মঞ্চে হামলা করা হয়।
এসময় হামলাকারীরা সমাবেশ মঞ্চ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় এমন অভিযোগ করেন তারা।
অন্যদিকে, হাজীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মাসুদ ইকবাল দাবি করেন, এ ঘটনায় সংসদ সদস্যের কোনো অনুসারী কিংবা যুবলীগের কেউ জড়িত নয়। তারপরও যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে যুবলীগের কোনো নেতাকর্মী হামলার সঙ্গে জড়িত তার জন্য অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের হাজীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আফজাল হোসেন জানান, পুলিশ বেশ ধৈর্য ধারণ করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে।



