× Banner
সর্বশেষ
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক যোগাযোগের খবরে কমেছে তেলের দাম ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ৫০% কমানোর অঙ্গীকার বাংলাদেশের ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা, ১৭ জেলার নদীবন্দরে সতর্কতা আজ ৪ শ্রাবণ মঙ্গলবারের রাশিফল ও গ্রহদোষ প্রতিকারের উপায় আজ ২১ জুলাই মঙ্গলবারের পঞ্জিকা ও ইতিহাসের এইদিনে সততা চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন পাইলট প্রকল্পে ৯৯ হাজার শিক্ষার্থী পাবেন বিনামূল্যের পাটের স্কুল ব্যাগ সরকারের ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিমার্জনের উদ্যোগ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগে এনজিওদের এগিয়ে আসার আহ্বান জ্বালানিমন্ত্রীর ২০২৭ সালের হজে ব্যাকঅ্যাপ আবাসন ১% রাখার অনুরোধ বাংলাদেশের

পিআইডি

দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত

Kishori
হালনাগাদ: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬
বন্যায় মৃত্যু ১৮

ঢাকা: দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও পাহাড়ধসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। দুর্যোগকবলিত এলাকায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা নির্দেশনা প্রচার এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর।

গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের জেলা ও উপজেলা তথ্য অফিস এবং তথ্য অধিদফতরের আঞ্চলিক কার্যালয়গুলো দুর্যোগ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করছে।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক তথ্য অফিস ও জেলা তথ্য অফিসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৫টি উপজেলা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত সংক্রান্ত জরুরি তথ্য প্রচার, ঝুঁকিপূর্ণ বসতবাড়ি এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সাপে কাটার ঝুঁকি থেকে সতর্ক থাকা, শিশু, নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপদে রাখা, ত্রাণ গ্রহণের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকা এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার থেকে দূরে থাকার বিষয়ে মাইকিং ও সড়ক প্রচার চালানো হচ্ছে।

এ ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশে পানি জমে না থাকার বিষয়েও জনসাধারণকে সচেতন করা হচ্ছে।

পাহাড়ি জেলাগুলোতে উন্নতি হচ্ছে পরিস্থিতির

খাগড়াছড়িতে বর্তমানে বৃষ্টি না থাকায় নতুন করে কোনো পাহাড়ধস বা ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। অধিকাংশ এলাকায় বন্যার পানি নেমে গেছে। তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ভারী বৃষ্টির শুরু থেকেই জেলা তথ্য অফিস পাহাড়ধস, বন্যা ও পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

কক্সবাজারে পৌরসভা ও আক্রান্ত ইউনিয়নের সংখ্যা ৭৪টি। জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হলেও নতুন করে কোনো পাহাড়ধস বা ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। জেলা তথ্য অফিসের পক্ষ থেকে মাইকিং ও প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

রাঙামাটিতে পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। ভারী বর্ষণের পর থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার বিষয়ে জেলা তথ্য অফিসের পক্ষ থেকে নিয়মিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

বান্দরবানেও দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষজন নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। জেলা তথ্য অফিস সচেতনতামূলক প্রচার ও চলচ্চিত্র প্রদর্শন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

সিলেট ও মৌলভীবাজারে নদ-নদীর পানি নজরদারিতে

সিলেট আঞ্চলিক তথ্য অফিস এবং সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলা তথ্য অফিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিলেট জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩ দশমিক ৪ মিলিমিটার এবং সকালে তিন ঘণ্টায় ৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

বৃষ্টিপাত বাড়ায় সুরমা, কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন ও পিয়াইন নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার নিচে থাকলেও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে নতুন করে বড় ধরনের বা দীর্ঘস্থায়ী বন্যার আশঙ্কা নেই বলে জানানো হয়েছে। নদীসংলগ্ন কিছু নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি জলাবদ্ধতা রয়েছে।

সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীর পানি কিছুটা বাড়ছে। মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

হবিগঞ্জের সদর, বাহুবল ও বানিয়াচং উপজেলায় খোয়াই নদীর ভাঙনে আকস্মিক বন্যা দেখা দিলেও বর্তমানে পানি কমতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৪ দশমিক ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। নতুন কোনো পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেনি। জেলা তথ্য অফিসের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

মৌলভীবাজারে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। মনু নদীর পানি বিপদসীমার নিচে রয়েছে। জেলার ১৫টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছিল, যার মধ্যে সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তবে কমলগঞ্জ উপজেলায় নদীরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। জেলা তথ্য অফিস বন্যাকালীন ও পরবর্তী সময়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..