তুর্কি দখলদাররা হিন্দু জাতিকে ‘ব্রহ্মজ্ঞান’ ভুলিয়ে চিরতরে পঙ্গু করতে ‘ভক্তিবাদে’ উৎসাহিত করেছে

দেবাশীষ মুখার্জী (কূটনৈতিক প্রতিবেদক) : তুর্কি দখলদাররা হিন্দু জাতিকে ‘ব্রহ্মজ্ঞান’ ভুলিয়ে চিরতরে পঙ্গু করে দিতে, কিছু দালালকে কাজে লাগিয়ে ‘ভক্তিবাদ’ প্রচার উৎসাহিত করে। মহাভারতের শান্তিপর্বে ‘ভৃগু ভরদ্বাজ সমাচার’ – অংশে আছে,’অতীতে সবাই ব্রাহ্মণ ছিল। পেশা থেকে বর্ণ সৃষ্টি হয়েছে – যা পরিবর্তনযোগ্য।’

সাহা,বনিক,কুণ্ডু,ঘোষ(যাদব) প্রভৃতি পদবীধারীরা বর্ণভেদের যুগেও পৈতাধারী বৈশ‍্য ছিল। কর্নাটকের ব্রহ্ম-ক্ষত্রিয় সেন রাজারা সব তছনছ করে দিয়েছে। স্থানীয় ব্রাহ্মণদের তারা বানিয়েছে নমঃশূদ্র-চর্মকার। এর আগে বৌদ্ধ পাল সম্রাটরা ক্ষত্রিয়দের বানিয়েছে কৈবর্ত। বৌদ্ধ সম্রাটরা হিন্দুদের বিভাজিত করতে,’কৌলিন‍্য’ প্রথা চালু করেছে ; ‘কায়স্থ’ বর্ণ সৃষ্টি করেছে।

আদি পিতা মনুর বংশধর হিসেবে, সমস্ত সনাতন হিন্দু জন্মসূত্রে ব্রাহ্মণ। এছাড়া সনাতন ধর্মের  মূলতত্ত্ব ‘ব্রহ্মজ্ঞান’ যিনি ধারণ করেন তিনি ব্রাহ্মণ। ― এই তত্ত্ব যদি বাস্তবায়ন করা যায়, হিন্দু জাতি সমস্ত ভেদ-বৈষম্য ভুলে উচ্চতম বর্ণ ব্রাহ্মণ-এ উন্নীত হয়ে ঐক্যবদ্ধ হবে। এখন অত‍্যাচারিত অপমানিত হয়ে, সনাতন ধর্ম ছেড়ে লোক চলে যাচ্ছে। যদি ব্রাহ্মণের মর্যাদা দেওয়া হয়,তাহলে সনাতন ধর্মে বাইরে থেকেও লোক আসবে।
ব্রহ্মজ্ঞান অর্জন করতে পারলে, জাগতিক সমস্ত কর্ম নিষ্পন্ন করা সম্ভব – সমস্ত সমস‍্যা সমাধান করা সম্ভব। যুদ্ধবিদ‍্যা-বানিজ্যবিদ‍্যা সহ জাগতিক সমস্ত বিদ‍্যাই ব্রহ্মজ্ঞানের অংশ‌। সুতরাং বিজ্ঞানের যুগে যোদ্ধা কিংবা ব‍্যবসায়ী হতে ব্রহ্মজ্ঞান অত‍্যাবশ‍্যক। এই আধুনিক যুগে সনাতন ধর্মের মূলতত্ত্ব ব্রহ্মজ্ঞান-ধারণকারী ‘ব্রাহ্মণ’-এ পরিনত হওয়া প্রতিটি হিন্দুর কর্তব্য।
মাত্র ৫০ লক্ষ ইহুদি উৎকৃষ্ট ব্রহ্মজ্ঞানে পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করছে ; যদি হিন্দু জাতিকে ব্রাহ্মণে পরিনত করে, জ্ঞানমুখী করা যায় এবং ৫ কোটি উৎকৃষ্ট ব্রহ্মজ্ঞানী তৈরি করা যায়, তাহলে বিশ্ব হাতের মুঠোয় চলে আসতে বাধ্য।
বৌদ্ধ শাসকরা হিন্দু জাতিকে ধবংস করতে, ‘ব্রহ্মজ্ঞান’-কে টার্গেট করেছিল। তারা হিন্দু জাতিকে ব্রহ্মজ্ঞানচ‍্যুত করতে ব্রহ্মজ্ঞান-ধারী ‘ব্রাহ্মণ’ বিদ্বেষ প্রচার করতো এবং ব্রাহ্মণদের নির্যাতন করতো। আক্রান্ত ব্রাহ্মণরা নিজেদের রক্ষা করতে সাধারণের থেকে নিজেদের আড়ালে রাখার চেষ্টা করতো – যা থেকে ছুতমার্গের উৎপত্তি।
দেশ বিভাগ পূর্ববর্তী বিভেদ-বিদ্বেষের রাজনীতিতে, মুসলিম লীগ কিছু দালালকে হাত করে ‘ব্রাহ্মণ‍্যবাদ’-বিরোধী নতুন তত্ত্ব হাজির করে। অথচ বিগত দুহাজার বছরে আর্যাবর্তে কেন্দ্রীয় শাসকদের মধ্যে একজনও ব্রাহ্মণ শাসক নেই। ব্রাহ্মণদের সামাজিক ক্ষমতা বলতে যা ছিল, তা হচ্ছে পূজা করে দু চার পয়সা(সস্তার যুগে) দক্ষিণা চেয়ে নিতো ; জোর করে নিতো না – নেওয়ার শক্তিও তাদের ছিল না। তাহলে মুসলিম লীগ ‘ব্রাহ্মণ‍’ – বিরোধী প্রচার চালালো কেন ? প্রচার করছে, তাদের পূর্বসূরি বিদেশি দখলদারা যে অগনিত হিন্দু নারী এবং হিন্দুর অপরিমিত সম্পদ লুন্ঠন করেছে, অজস্র দেবালয় ধ্বংস করে দিয়েছে – নিজস্ব উপাশনালয়ে রূপান্তরিত করেছে ; সেই সব অপকর্ম আড়াল করে ব্রাহ্মণদের ঘাড়ে সমস্ত দোষ চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা স্বরূপ,এই ব্রাহ্মণ‍্যবাদ বিরোধী প্রচার। এই ব্রাহ্মণ বিদ্বেষ প্রচারের ফলে হিন্দু জাতি বিভাজিত হয়েছে এবং ব্রহ্মজ্ঞান বিমুখ হয়ে স্থবির ভক্তিবাদী হয়েছে। এই অপকর্মে তারা সঙ্গী হিসেবে পেয়েছে, চরম হিন্দু বিদ্বেষী কমিউনিষ্ট ও সেক‍্যুলারদের। এই বহুমুখী ব্রাহ্মণ বিদ্বেষ প্রচার, সনাতন ধর্মকে ধ্বংস করে দেওয়ার সুগভীর ষড়যন্ত্র। মুঘল শাসক ঔরঙ্গজেব ভারতভূমি কাফের-শূন্য করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘ব্রাহ্মণদের হত্যা করো, তাহলে হিন্দু জাতিকে বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব দেওয়ার কেউ থাকবে না। হিন্দুরা দলে দলে আমাদের ধর্মে চলে আসবে।’
সেই ষড়যন্ত্র আজও অব‍্যাহত আছে। এই চক্রান্ত সবাই হয়তো বুঝতে পারবে না। তাছাড়া হিন্দু সমাজে  ব্রাহ্মণ-বিদ্বেষ এত গভীরে প্রোথিত,তা দূর করা মোটেও সহজ কাজ নয়। জ্ঞানী লোকরা অবশ্যই বুঝবেন। আপনারা জাতির স্বার্থে বাস্তবসম্মত চিন্তা ভাবনা করুন ; নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করুন ;  যদি সম্ভব হয় সাংগঠনিক ঐক্যে জনসচেতনতা সৃষ্টি করুন। হিন্দু জাতিকে রক্ষা করা যাবে। এমনকি বিশ্ব জয় করাও সম্ভব – একটি মাত্র পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারলে ― তা হচ্ছে আদিপিতা মনু স্বায়ম্ভুবের বংশধর হিসেবে সমস্ত সনাতন হিন্দু যদি ব্রাহ্মণে পরিনত হয়ে জ্ঞানমুখী হয়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
সংবাদ প্রতিনিধি

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।