ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডঙ্গী উপজেলার যাউনিয়া ব্রীজটি যেকোন মহুর্ত্যে ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা

বিশেষ প্রতিবেদক,ঠাকুরগাঁওঃ ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার নহনা নদীর উপর নির্মিত যাউনিয়া ব্রীজটির উপর দিয়ে ঝুঁকি অবস্থায় এলাকার লোকজনসহ ভারী যানবাহন করছে।বর্তমানে ব্রীজটি যে অবস্থায় রয়েছে যেকোন  মহুর্ত্যে ব্রীজটি ভেঙ্গে প্রাণহানি সহ বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।

ব্রীজের পূর্ব পাশে উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ লাহিড়ী হাট ,আটোয়ারী সহ উপজেলর  তিনটি ইউনিয়নের কয়েক লক্ষ মানুষের যোগাযোগ মাধ্যম এই ব্রীজটি  । দেশের বিভিন্ন  স্থান থেকে ব্যবসায়ী ও প্রতিদিন স্কুল –কলেজ শিক্ষার্থী ছাড়াও প্রয়োজনে কয়েক লক্ষ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ ব্রীজ দিয়ে যাতায়াত করে। দীর্ঘ দিন অযতœ ও অবহেলায় ব্রীজের রেলিং ও ঢালাই ভেঙ্গে চলাচল অনুপোযোগি হয়ে পড়েছে । এছাড়া প্রতিদিন শত শত ভারি ও হালকা যানবাহন চলাচল করছে । প্রতিদিন অতিমাত্রায় ভারি যানবাহন চলাচলে ক্ষমতার চেয়ে ৪/৫গুন লোড বহন করতে হচ্ছে ব্রিজটিকে। ফলে বর্তমানে ব্রীজে মাত্রাতিরিক্ত কাপুঁনির সৃষ্টি হচ্ছে । ব্রীজটির ধারন ক্ষমতা ২০  টন । অথাৎ ২০ টন ওজনের যানবাহন ব্রিজের উপর দিয়ে যাতায়াত করতে পারে। এখন এ ব্রীজ দিয়ে ৭০ টন পর্যন্ত মালামাল পারাপার করানো হচ্ছে ।

বর্তমানে সেতুটির উপর দিয়ে বড় বড় ট্রাক্টর. কার্গো ও মালবাহী ট্রাক যাতায়াত করে ,যার কোনটির ওজন ৬০/৭০ টনের বেশি হয় ।প্রতিদিন ঢাকা গামী দিবা ও নৈশ কোচও চলা চল করছে এ ঝুঁকি পূর্ণ ব্রীজের উপর দিয়ে।এসব গাড়ির গতির কারনে চাপ আরও বাড়ে । যানজটের সময় বীজের উপর বাস ,ট্রাক  সারিবদ্ধভাবে দাড়িয়ে থাকে।তখন বড় ধরনের চাপ পড়ে ।এ সব কারনে সেতুটি অনেকটা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে ।সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে , ব্রিজের মাঝখানে ফাঁটল ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে । এছাড়াও ব্রিজের পাশের বেশি ভাগ রেলিং ভেঙ্গে গেছে ।ফলে ধীরে ধীরে ব্রীজের পূর্বপাশ ডেবে যাচ্ছে ।এলাকাবাসীর অভিমত ,যে কোন মহুর্ত্যে ব্রীজ ভেঙ্গে পড়লে কয়েক লক্ষ মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। তারা জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন। লাহিড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির পিয়াল আহম্মেদ নামে এক শিক্ষার্থী জানায় ,বিকল্প পথ না থাকায় ব্রীজটি ভেঙ্গে পড়লে স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে পড়ালেখায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটবে।

লাহিড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান এ্যাড.জিল্লুর রহমান জানান,ব্রীজের উপর দিয়ে স্কুলের শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁিক নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।ধনতলা ইউপি চেয়ারম্যান সমর কুমার চ্যার্টাজী জানান,৩ ইউনিয়নের মানুষের কথা ভেবে এ ব্রীজটি নির্মানের জন্য অসংখ্যবার উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায় প্রস্তাব করা হয়েছে।

চাড়োল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু হায়াত নুরুন্নবী জানান,ব্রিজটি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নির্মান করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজটিতে যে কোন মহুর্ত্যে প্রাণহানি ঘটতে পারে। দূর্ঘটনা এড়াতে উপজেলা পরিষদে ব্রিজটি সংস্কারের জন্য আবেদন করা হয়েছে। কোন প্রকার অনাকাঙ্খিত ঘটনার পুর্বেই অবিলম্বে ব্রীজটি নির্মান করা প্রয়োজন।

এ প্রসঙ্গে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম জানান,৫মাস আগে রংপুর বিভাগ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ নদীর উপর ব্রীজ নির্মান করার জন্য প্রকল্প পরিচালকের বরাবর আবেদন করা হয়েছে।এছাড়া আমি ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছি । ব্রিজটি বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকির  মধ্যে রয়েছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।