× Banner
সর্বশেষ
ধর্মমন্ত্রীর আশু আরোগ্য কামনায় দেশজুড়ে হেফাজতে ইসলামের বিশেষ দোয়া দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত ১১২ টাকায় সরকারি চাকরি পাওয়া স্বচ্ছ নিয়োগের প্রমাণ: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বাংলাদেশে ২৫-২৬ জুলাই ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিআইইআর সামিট ২০২৬ বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন ২০২৬-এর খসড়া অনুমোদন, পরিকল্পিত আধুনিক নগর গঠনের উদ্যোগ বাজেট বাস্তবায়নেই সাফল্য, কক্সবাজারকে আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরী গড়ার পরিকল্পনা: অর্থমন্ত্রী FICCI FDI Conference 2026-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে FICCI FDI Conference 2026, উন্মোচিত হলো এফডিআই রিপোর্ট মাদারীপুরে বৈশাখী ভাতা ও ঈদ বোনাস না পাওয়ায় দপ্তরিদের শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও কোটালীপাড়ায় উল্টো রথযাত্রায় ভক্তদের ঢল

ঝিকরগাছা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভুয়া নিয়োগ কমিটি তৈরি করে ব্যাক ডেটে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে অর্থবাণিজ্যের অভিযোগ:মামলা

admin
হালনাগাদ: মঙ্গলবার, ৮ আগস্ট, ২০১৭

স্টাফ রিপোর্টার: যশোরের ঝিকরগাছা ও কেশবপুরের সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনিয়মের আরও ভয়ংকর তথ্য মিলছে। বহুল আলোচিত এই শিক্ষা কর্মকর্তা ঝিকরগাছা বসেই কেশবপুরের একটি প্রতিষ্ঠানে ব্যাক-ডেটে শিক্ষক নিয়োগের ভুয়া কাজপপত্র তৈরী করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে দুদক যশোরের পরিচালক ওয়াজেদ আলী বাদী হয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় কেশবপুর থানায় মামলা করেন। মামলা নং-২৪,তারিখ: ১৮-০৪-১৭ইং। ওই মামলায় সংশ্লিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও গভানিং বোডি’র সভাপতিসহ অন্যান্যরা হাজতবাস করলে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন অপকর্মের মুলহোতা ও ঝিকরগাছা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র সরকার।

দুদকের দায়ের করা মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলাধীন বগা শাহ কারারীয়া আলিম মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। একমাত্র চাকরি প্রত্যাশী ছাড়া আর কেউ ওই সব পদে কেউ আবেদন করেছে এমন কোন প্রমান মেলেনি। প্রতিষ্ঠান কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি ২২-১০-২০১৫ তারিখে সরকারী কর্র্তৃক আদেশ দ্বারা বন্ধ করা হয়। ইহার পূর্বে বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগের জন্য নিয়োগ কমিটিতে ডিজি’র প্রতিনিধি হিসেবে যশোর সরকারী সিটি কলেজের অধ্যক্ষ থাকবেন মর্মে মহা পরিচালক,শিক্ষা অধিদপ্তর,ঢাকা হতে একটি আদেশ ছিল। যেহেতু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম সরকার বন্ধ করে দিয়েছেন সেহেতু বগা শাহ কারারীয়া আলিম মাদ্রাসার গভাণিং বডির সভাপতি এসএম বাবর ও অধ্যক্ষ আলী আহসান পিছনের তারিখ দিয়ে শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা করেন।

তারা ০৪-০৬-২০১৫ ইং তারিখ দিয়ে শিক্ষক নিয়োগের জন্য নিয়োগ পরীক্ষার চুড়ান্ত ফলাফল বিবরণী ও রেজুলেশন তৈরী করে নিজেরা স্বাক্ষর করে এবং নিয়োগ কমিটির সদস্য হিসেবে কেশবপুরের দারুল উলুম মহিলা ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ,র নিকট হতে স্বাক্ষর গ্রহণ করেন। যেহেতু যশোর সিটি কলেজের অধ্যক্ষকে ডিজির প্রতিনিধি নির্ধারণ করা আছে তাই তারা যশোর সিটি কলেজের প্রধান সহকারী মিজানুর রহমানের নিকট আসেন এবং মিজানুর রহমানের সাথে পরামর্শ করে পিছনের তারিখ দিয়ে ডিজির প্রতিনিধি প্রফেসর আবু তোবার মো: হাসান এবং বিষয় বিশেজ্ঞ হিসেবে একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যাপক মো: আব্দুল হালিম ও প্রভাষক আশীষ কুমার সরকারের স্বাক্ষর করিয়ে দেওয়ার জন্য মিজানুর রহমানের নিকট পূর্ব থেকে প্রস্তুতকৃত নিয়োগ পরীক্ষার উক্ত চুড়ান্ত ফলাফল বিবরণী মাদ্রাসার রেজুলশন জমা দেন।

মিজানুর রহমান ২ লাখ ১৫ টাকা ঘুষ গ্রহণ করে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে যশোর সিটি কলেজের ছাপানো প্যাডে কলেজের ভুয়া স্বাক্ষর নং ২২৩তাং ২৭-৫-১৫ ব্যবহার করে শিক্ষক নিয়োগের বিষয় বিশেষজ্ঞ ও ডিজির প্রতিনিধি মনোনয়নের পত্র তৈরী করেন। যাতে অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু তোবার মো: হাসানের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। পরে মো: মিজানুর রহমান প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ৪-৬-২০-১৫ তারিখ দিয়ে প্রস্ততকৃত ভুয়া নিয়োগ পরীক্ষার চুড়ান্ত ফলাফল বিবরণী ও মাদ্রাসার রেজুলেশনে ডিজি’র প্রতিনিধি হিসেবে সরকারী সিটি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু তোবার মো: হাসান,বিষয় বিষয় বিশেজ্ঞ অধ্যাপক মো: আব্দুল হালিম ও প্রভাষক আশীষ কুমার সরকারের স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগ বোর্ড কর্তৃক নিয়োগ পরীক্ষা চুড়ান্ত ফলাফল বিবরণী সম্পন্ন করা হয়েছে মর্মে ভুয়া ফলাফল বিবরণী ও রেজুলেশন এসএম বাবর ও অধ্যক্ষ মো: আলী আহসানকে প্রদান করেন। এর পর ওই প্রার্থীদের গত ১০-৬-২০১৫ তারিখে নিয়োগপত্র প্রদান করিয়ে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করানো হয়।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, জাল জালিয়াতির মাষ্টার শিক্ষা কর্মকতা বিকাশ চন্দ্র সরকারের মাধ্যমে ওই ভুয়া নিয়োগ সম্পন্ন হলেও ওই মামলায় তার নাম উল্লেখ করা হয়নি। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সংশ্লিষ্ঠতা ছাড়া একটি প্রতিষ্ঠানে কীভাবে ভুয়া নিয়োগ কমিটি করে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয় তার কোন সুদুত্ত মিলছে না। বিকাশ চন্দ্র সরকারই ওই নিয়োগের যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে। ওই নিয়োগের ডিজির প্রতিনিধিসহ অন্যানদের স্বাক্ষর জাল হলেও বিকাশ চন্দ্র সরকারের স্বাক্ষর আসল।

দুদকের দায়েরকৃত ওই মামলায় ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও গভানিং বডির সভাপতি ও সিটি কলেজের প্রধান সহকারী হাজতবাস করলেও অপকর্মের মুলহোতা ঝিকরগাছা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র সরকার ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন । তিনি ঝিরকগাছা বসেই তার জাল-জালিয়াতি সিন্ডিকেট দিয়ে ওই সব কাজ সম্পাদন করেছেন। অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে ফেলেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তাদের। যার ফলে ওই নিয়োগ তিনি কেশবপুর থাকাকালীন সম্পন্ন হয়েছে দেখানো হলেও তাকে মামলার আসামী করা হয়নি। ওই ভুয়া নিয়োগের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করলেই বিকাশ চন্দ্র সরকারের জড়িত থাকার বিষয়টি ধরা পড়বে বলে সংশ্লিষ্ঠ একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।

সুত্র বলছে, ওই প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ ও সভাপতি প্রথমে এত বড় জাল- জালিয়াতি করতে রাজি হননি। বিকাশ চন্দ্র সরকার তাদের বলেছেন উপরের সব কিছু আমি দেখবো। পরে তারা রাজি হন।

এদিকে পত্রিকা ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ হলে বেশামাল হয়ে পড়েছেন ঝিকরগাছা উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিকাশ চন্দ্র সরকার। তিনি সংবাদ বন্ধের জন্য বিভিন্নস্থানে দেনদরবার করছেন। এছাড়া মামলা করারও হুমকি দিচ্ছেন।

অপর একটি সুত্রে জানা গেছে,বিকাশ চন্দ্র সরকার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে গিয়েও ধর্ণা দিচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে যাতে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না হয় সেজন্য মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে দেনদরবার অব্যাহত রেখেছেন।

অভিযোগের ব্যাপারে প্রথমে মুঠোফোনে এ প্রতিবেদক ঝিকরগাছা উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিকাশ চন্দ্র সরকারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি রাগন্বিত হয়ে বলেন, ‘ কার সাথে কথা বলছেন জানেন? আমি একজন শিক্ষা অফিসার, আমার কথা বোঝেন নাই ? অফিসে আসেন বুঝাই দিব।’

অভিযোগের ব্যাপারে যোগযোগ করা হলে জেলা শিক্ষা অফিসার আমিনুল ইসলাম টুকু বলেন, ‘তার স্বার্থের হয়তো আঘাত লেগেছে। এজন্য হয়তো খারাপ ব্যবহার করতে পারে।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..