পাইকগাছায় প্রচন্ড শৈতপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত মৃত ২

ইমদাদুল হক,পাইকগাছা খুলনাঃ পাইকগাছায় টানা শৈতপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিতান্তই প্রয়োজন ছাড়া মানুষজন ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। অপরদিকে প্রচন্ড শীতে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব অনেক বেড়ে গেছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগে ঠান্ডা জনিত রোগীর সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

গতকাল ঠান্ডাজনিত কারনে হার্ট এ্যাটাকে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নেই। তবে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে প্রাপ্ত কম্বল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিতরণ করা হচ্ছে। গত কয়েক দিনের প্রচন্ড ঠান্ডা পাইকগাছার জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। সকাল থেকে রাস্তা-ঘাট একেবারেই ফাঁকা থাকে। বেলা ১০/১১টার আগে পৌর সদরের তেমন কোন দোকানপাট খুলতে দেখা যায়নি। তবে পুরাতন কাপড়ে দোকনের ভীড় ছিল লক্ষণীয়।

মানুষজনও অনেকটা কর্মহীন হয়ে পড়েছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। সকাল থেকে রোদের দেখা মেলেনি। গত বৃহস্পতি বার ছিল সূর্যগ্রহণ। সারাদিন রৌদ্রের দেখাই মেলেনি। এরপর আবার দুপুরের দিকে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি নামে। প্রচন্ড ঠান্ডার কারনে সকালে রাস্তা-ঘাট অনেকটা ফাঁকা ছিল। আবার সন্ধ্যার পরপরই পৌর সদরের বাজার অনেক ফাঁকা হয়ে যায়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অনেকে বন্ধ করে বাড়ি ফিরে গেছেন।
লস্কর গ্রামের অমল রাজ মন্ডল জানিয়েছেন, তার প্রায় ৮ বিঘা জমির ধান কাটতে হবে।কিন্তু ঠান্ডায় পর্যাপ্ত কাজের লোক পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে ঠান্ডা জনিত রোগেরও প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগে আসা রোগীদের অধিকাংশ সর্দি, কার্শি, শ্বাসকষ্ঠ ও বুকে ব্যাথার চিকিৎসা নিতে এসেছেন। মেডিকেল অফিসার ডাঃ সঞ্জয় কুমার মন্ডল জানিয়েছেন, যারা আসছেন তারা ঠান্ডা জনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে আসছেন। হাসান নামে এক রোগী জানিয়েছেন, হাসপাতালে শ্বাসকষ্ঠের ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না।
মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ সাফিকুল ইসলাম শিকদার জানিয়েছেন, বহির্বিভাগের চাহিদা অনুয়ায়ী কাশির সিরাপ ও শ্বাসকষ্টের পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নেই। তিনি জানান, গত এক সপ্তাহে হাসপাতালের আন্তঃ বিভাগে ভর্তিকৃত রোগীর মধ্যে বেশী ছিল ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত। গত বৃহস্পতিবার ঠান্ডার কারনে হার্ট এ্যাটাকে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না গত কয়েক দিনের প্রচন্ড ঠান্ডায় রাতে নিজেই দুস্থ ও অসহায় মানুষগুলোর অবস্থা জানতে ছুটে যাচ্ছেন তাদের দুয়ারে দুয়ারে। তিনি দুস্থ ও অসহায় মানুষদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ত্রাণ তহবিল থেকে প্রাপ্ত ৫ হাজার কম্বল ছিন্নমূল মানুষের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। এই ঠান্ডার কারনে যেন কেউ অসুস্থ হয়ে না পড়ে সে জন্য সকল অসহায় মানুষকে চাহিদা অনুয়ায়ী কম্বল প্রদান করা হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।