বিশেষ প্রতিবেদক : দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ বুধবার (৪ জানুয়ারি)। বাঙালির স্বাধীনতা ও স্বাধিকার অর্জনের লক্ষ্যেই মূল দল আওয়ামী লীগের জন্মের এক বছর আগেই প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল গৌরব ও ঐতিহ্যের এ ছাত্র সংগঠনটি।
১৯৪৮ সালের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর নেতৃত্বেই ওই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রা শুরু হয়।তৎকালীন তরুণ নেতা শেখ মুজিবের প্রেরণা ও পৃষ্ঠপোষকতায় এক ঝাঁক মেধাবী তরুণের উদ্যোগে সেদিন যাত্রা শুরু করে ছাত্রলীগ।
৬৯ বছরে ছাত্রলীগের ইতিহাস হচ্ছে জাতির ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা, মুক্তির স্বপ্ন বাস্তবায়ন, স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনা, গণতন্ত্র প্রগতির সংগ্রামকে বাস্তবে রূপদানের ইতিহাস। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সংগ্রামে ছাত্রলীগ নেতৃত্ব দিয়েছে এবং চরম আÍত্যাগের মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে।
১৯৪৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী মুসলিম লীগের আত্মপ্রকাশ ঘটে, যা পরে আওয়ামী লীগ নাম ধারণ করে এ দেশের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়। এ প্রেক্ষাপটে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বাঙালি জাতির ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে বিভিন্ন পর্যায়েনেতৃত্ব দেওয়া সংগঠনের নেতাকর্মীরা পরে জাতীয় রাজনীতিতেও নেতৃত্ব দিয়েছেনএবং এখনও দিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমান জাতীয় রাজনীতির অনেক শীর্ষ নেতার রাজনীতিতে হাতেখড়িও হয়েছে ছাত্রলীগ থেকে।
প্রতিষ্ঠার দিনকে উৎসবমুখর করতে নয়টি উপকমিটি করা হয়েছে ও ইতিমধ্যে প্রায় সবধরনের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে বলে জানান ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগ। তিনি বলেন, নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশ গঠন ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক আসবে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী থেকে।
ছাত্রলীগের নেতৃত্বে সারা বাংলাদেশে জঙ্গি ও অপশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার আহ্বান থাকবে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে।প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনটি উৎসবমুখর করতে এবার নেওয়া হয়েছে নানা প্রস্তুতি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে আঁকা হচ্ছে সাত দশকের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস- ‘চিত্রপটে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’।এসব ছবিতে ইতিহাস আর সমকালীন অর্জনগুলো তুলে ধরার চেষ্টা রয়েছে। আছে বই উৎসবের চিত্র, বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়।
অন্য ছবিগুলোতে আছে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা; মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান আর ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রলীগেরভূমিকার কথা।ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এবার দেয়ালচিত্রের মাধ্যমে ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম ছাত্রলীগের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে।প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় পড়েছে সাজসাজ রব। লাইটিং, পোস্টার, প্ল্যাকার্ডে রঙিন হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
ছাত্রলীগেরসহসভাপতি তোফাজ্জেল হক চয়ন বলেন, ‘আমাদের সাজ-সজ্জা কমিটির প্রতিটি সদস্যের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমাদের প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রবেশ দ্বার, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে দৃষ্টি নন্দন প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন স্থাপন করা হয়েছে।’
কর্মসূচি: বুধবার সকাল সাড়ে ৬টায় ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শুরু হবে ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিকতা। সকাল ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে কাটা হবে কেক, পরে সকাল ১০টার দিকে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শুরু হবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রা।বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে হবে রক্তদান কর্মসূচি।
আর ৬ জানুয়ারি বিকেলে স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে শীতবস্ত্র বিতরণ ও পরে টিএসসিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করবে ছাত্রলীগ। এছাড়া ৮ জানুয়ারি সকাল ১০টায় কলাভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হবে।





