ছাত্রদল করায় ১২ বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নেই শ্রাবণের। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হয়েছেন কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ। তিনি যশোরের কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী রফিকুল ইসলামের ছেলে। ছাত্রদল করার কারণে ১২ বছর ধরে শ্রাবণের পরিবার যোগাযোগ রাখেনি তার সঙ্গে। শ্রাবণও দীর্ঘদিন বাড়িতে যান না। এমনকি পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠানেও অংশ নেন না তিনি। রোববার (১৭ এপ্রিল) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
ওই কমিটি ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানাভাবে আলোচিত হচ্ছে শ্রাবণের সভাপতি হওয়ার বিষয়টি।
২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী ছিলেন কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ। সেই সময় আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী হওয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। ওই সম্মেলনে ভোটে হেরে তিনি সিনিয়র সহসভাপতি মনোনীত হন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রফিকুল ইসলামের বড় ছেলে কাজী মুস্তাফিজুর রহমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। মেজো ছেলে কাজী মুজাহিদুল ইসলাম পান্না উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক। সেজো ছেলে কাজী আজাহারুল ইসলাম মানিক উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান আহ্বায়ক। অর্থাৎ তারা পুরোটাই আওয়ামী পরিবার।
কিন্তু ছোট ছেলে কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ পারিবারিক ঐতিহ্যের বাইরে গিয়ে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। আজ শ্রাবণ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ বলেন, “আমার বাবা একজন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা। বিগত উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে বিদ্রোহ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আমার পরিবারের অন্য ভাইয়েরাও আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। আমি চাইলে হয়তো বিসিএস দিয়ে সরকারী চাকুরী বা পরিবারের পরিচয় দিয়ে ছাত্রলীগ করে বড় নেতা অথবা জেল-জুলুমের জীবন বেছে না নিয়ে বিলাসিতার জীবন বেছে নিতে পারতাম । কিন্তু আওয়ামী আদর্শ আমাকে কখনো টানেনি। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতির প্রতি আকর্ষণ বোধ করি।
আমার বিবেচেনায় মনে হয়েছে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শই সর্বশ্রেষ্ঠ। তাই সেই আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমি আমার পরিবারের রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে পদদলিত করে এবং পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আর্দশকে বুকে ধারণ করে নেই। আমি জানতাম আমার এই পরিবারের কারনে নেতৃত্ব গ্রহণের প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। এই বাস্তবতা মেনে নিয়েই শহীদ জিয়ার আদর্শকে ভালবেসে দল ও দেশের জন্য আজ অবধি কাজ করে যাচ্ছি।
আজ আমি আপনাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র হিসেবে আমার বিবেক, বুদ্ধি ও আদর্শ বোধ থেকে আমি কি বাবার আদর্শের বিরুদ্ধে যেতে পারি না? যদি তাই না হতো তাহলে ১৯৭১ সালের পর থেকে আওয়ামী আদর্শের বাইরে আর কোন দল গড়ে উঠতো না। কিন্তু বিএনপি কেন গড়ে উঠেছে? কারণ হচ্ছে, এই মানুষগুলো শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রামকে লালন করে বলেই বিএনপি আজ সংখ্যাগরষ্ঠি মানুষের প্রিয় দল। বিএনপির এই আদর্শকে ধারণ করার কারনে ১২ টি বছর ধরে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন আছি। এই বিএনপি, এই ছাত্রদলই আজ আমার পরিবার।”




