× Banner
সর্বশেষ
স্বামীকে ছেড়ে প্রেমিকের সঙ্গে নতুন জীবনের স্বপ্ন, ট্রেনের নিচে তরুণী জনগণের সেবায় আন্তরিকভাবে কাজ করতে ইউএনওদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান ৫০০ টাকার বিনিময়ে চুল বিক্রি, দুই সন্তানকে নিয়ে রেললাইনে রেহানা ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পের অবদান ৬০ শতাংশে নিতে হবে – শিল্পমন্ত্রী মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে কর্মসংস্থান বাড়াতে কাজ করছে সরকার – প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু যশোর সিমান্ত এলাকায় বিজিবি অভিযানে মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান পণ্যসহ আটক-১ বাঁশখালীকে বন্যা মুক্ত করার পদক্ষেপ নেয়া হবে – ত্রাণমন্ত্রী হাওরে বাড়বে মাছের অভয়াশ্রম, ইজারা প্রথা বাতিলের উদ্যোগ – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী তরুণদের নেতৃত্বেই টেকসই হবে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন – তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বেনাপোল ইমিগ্রেশন পরিদর্শনে এসবি প্রধান, যাত্রী হয়রানি বন্ধের নির্দেশ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি

ছয় শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর জীবন নিয়ে শঙ্কা!

Kishori
হালনাগাদ: শনিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৫
ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়

বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ৬৪৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রায় লক্ষাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জীবন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব স্কুলের ছাদ, পিলার ও দেয়াল খসে পরছে যখন তখন। এমনকি কিছু স্কুলের ভবনও রয়েছে ধ্বসে কিংবা হেলে পরার শঙ্কায়। ফলে চরম উৎকন্ঠায় চলছে এসব স্কুলের কার্যক্রম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর বর্ধিত এলাকায় দিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয় ১৯৪৩ সালে। বর্তমানে এখানে ভবন নামের একটি খোলস হয়ে পরে আছে। ক্লাশ চলাকালীন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চোখ বই-খাতার চেয়ে বেশি থাকে জরাজীর্ণ ছাদের দিকে। ১১ শতক জমির ওপর স্থাপিত স্কুলটি যেকোন সময় ধ্বসে পরতে পারে পুকুরের মধ্যে। এর তিনটি কক্ষ ২০১২ সালে পরিত্যাক্ত ঘোষনা করা হলেও এখনো ক্লাশ চলে সেখানে। বৃষ্টির আগে বাতাস শুরু হলেই শিক্ষার্থীদের নামিয়ে আনা হয় স্কুলের বাহিরে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক আফসানা মুন্নি বলেন, আমি যে ক্লাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছি এটিসহ আরো তিনটি ক্লাশরুম ১২ বছর আগে পরিত্যাক্ত ঘোষনা করা হয়েঠে। এটি আইসিটি ক্লাশরুম ছিলো। ক্লাশ চলাকালীন এখানে পিলার ও ছাদের পলেস্তারা এবং সিলিং ফ্যান খসে পরে। বর্তমানে যেকোন মুহুর্তে পুরো ভবনটি ধ্বসে পরার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা এখানে শিক্ষার উন্নয়ন করলেও একাধিকবার সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তকর্তাদের দ্বারস্থ হয়েও অবকাঠামোগত কোন উন্নয়ন করাতে পারিনি। ফলে দুর্যোগতো দূরের কথা আকাশে মেঘ দেখলেই আমরা বাচ্চাদের নিয়ে কোথায় যাবো তা ভাবতে থাকি।

অপরদিকে নগরীর প্রানকেন্দ্র সাগরদি বাজার এলাকায় ১৯৭৩ সাল থেকে সাগরদী রূপাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ফাউন্ডেশনহীন একটি দোতলা ভবনে। এখানে এ পর্যন্ত শিক্ষকসহ কমপক্ষে ১০ জন শিক্ষার্থী পলেস্তারা খসে পরে আহত হয়েছেন। একের পর এক কক্ষ ব্যবহার অনুপোযোগী হয়ে পরায় বর্তমানে এখানে শিক্ষার্থী ভর্তি প্রায় শুন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হয়েছে।

স্কুলের প্রধানশিক্ষক শাহানারা বেগম বলেন, ভবন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে সর্বদা চিন্তা করতে হচ্ছে। প্রতিনিয়ত ভীম ও দেয়াল খসে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আহত হচ্ছে। বিষয়টি দীর্ঘদিন থেকে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েও কোন সুফল মেলেনি।একাধিক অভিভাবকরা বলেন, স্কুলে পড়াশোনা ভালো হলেও চরম ঝুকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবন। এ অবস্থায় আমরা বাচ্চাদের স্কুলে রেখে বাসায় নিশ্চিন্তে থাকতে পারছি না।

সূত্রমতে, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ৬ হাজার ২৪১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে শতকরা ১০ ভাগ স্কুলের অবকাঠামোগত অবস্থা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। ওইসব ঝুঁকিপূর্ন এসব স্কুলে প্রায় লক্ষাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ স্কুলের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে প্রাথমিক শিক্ষা বরিশাল বিভাগের উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, বিভাগের ৬৪৬টি প্রাইমারি স্কুলকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীগণ এসব বিদ্যালয় পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দিয়েছেন। সেমতে, ঝুঁকিপূর্ণ স্কুলের তালিকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে দ্রæত এসব স্কুলের ভবন পুনঃনির্মান করা হবে।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..