শিশুর অত্যন্ত কষ্টদায়ক রোগ চুলকানির কিছু লক্ষণ ও চিকিৎসা

শিশুর অত্যন্ত কষ্টদায়ক রোগ চুলকানির কিছু লক্ষণ ও চিকিৎসা

চুলকানিতে শিশুরা কষ্ট পায় এমন দুটি চুলকানির রোগ হলো ‘অ্যাটোপিক একজিমা’ ও ‘ক্রাডল ক্যাপ’। শিশুর জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক এক রোগ একজিমা (অ্যাটোপিক একজিমা)। এ রোগে শিশুর মধ্যে অ্যালার্জির প্রবণতা কাজ করে। এই ধাত শিশুর মা-বাবা কিংবা পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও দেখা যায়। গরুর দুধ, ডিম বা গমজাত খাদ্য যা শিশু গ্রহণ করে, তার যেকোনো একটাতে শিশুর অ্যালার্জি হতে পারে।

এমনকি এসব শিশু উল, নাইলন, কখনো বা ঠাণ্ডা পানির সংস্পর্শে এসেও অ্যালার্জিতে ভোগে।

লক্ষণ

সাধারণভাবে শিশুর দুই-তিন মাস বয়স থেকে অসুখের লক্ষণ দেখা দেয়। লাল গুটি বা দানাদার বা আঁশের মতো গুটিযুক্ত চামড়ার অসুবিধা প্রথমে দেখা দেয় দুই গালে। পরবর্তী সময়ে তা মুখে, গলায়, হাত ও পায়ের বাইরের অংশে প্রকট হয়ে দেখা দেয়। কনুই ও হাঁটুর ভাঁজে, গলার পেছনের দিকে অনেক দিন পর্যন্ত এগুলো বর্তমান থাকে। এগুলো প্রচণ্ড চুলকায়। শিশুর পাঁচ বছর বয়সের দিকে রোগটির প্রকোপ কমে যায়।

চিকিৎসা

চিকিৎসাব্যবস্থার প্রধান দিক হচ্ছে—সম্ভাব্য অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী খাবারটি খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দেওয়া। শিশু যাতে না চুলকায় বা চুলকাতে না পারে সে বিষয়ে সব ব্যবস্থা নিতে হবে। শিশুর নখ সব সময় ছোট রাখা চাই। শিশু চিকিৎসকের পরামর্শ মতো মলম সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্য লাগাতে হবে।

শিশুর মাথার ফুসকুড়ি

শিশুদের আরেকটি চুলকানির রোগ হলো ‘সেবোরিক ডারমাটাইটিস’। যেকোনো বয়সে হতে পারে। শিশুর প্রথম বছর বয়সে ও প্রাক-যৌবনকালে বেশি হয়। বিশেষ করে শিশুর চার থেকে আট সপ্তাহ বয়সে শিশুর মাথা লাল ফুসকুড়িতে ভরে যায়। প্রথমে মাথার নরম অংশে ওঠা শুরু হয় বলে এর অন্য নাম ‘ক্রাডল ক্যাপ’। তাৎক্ষণিক চিকিৎসা না করালে খুব দ্রুত পুরো মাথায়, কপালে, কানের পেছনে, ভ্রু, চোখের পাতা, থুঁতনি, হাতের তালু, বগলের নিচে এবং এভাবে দেহের সর্বাংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণে এর চিকিৎসা শুরু করা চাই আগেভাগে।

চিকিৎসা

এ সময় মাথায় তেল দেওয়া যাবে না। অ্যান্টি সেবোরিক শ্যাম্পু দিয়ে প্রতিদিন বা এক দিন অন্তর পরিষ্কার করতে হবে। এতে উপকার না পাওয়া গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতে মলম লাগাতে হবে। চিকিৎসা করালে তাড়াতাড়ি এটি সেরে গেলেও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মলম লাগিয়ে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে, তৈলাক্ত আঁশের মতো এই ফুসকুড়ি তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত বারবার হতে পারে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
সংবাদ প্রতিনিধি

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।