চিকিৎসকের মৃত ঘোষণার তিন দিন পরে ভূমিষ্ট হলো জীবিত শিশু

সৈকত দত্ত, শরীয়তপুর থেকে ॥ শরীয়তপুরে চিকিৎসকের ঘোষণা মতো শিশু মাতৃগর্ভে মারা গেছে। আলট্রাসনোগ্রাম করে নিশ্চিৎ হয়ে ঘোষনা দেয় বেসরকারী হাজী শরীয়তউল্লাহ জেরারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ও শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মহিলা, প্রসূতি, শিশুরোগ বিষয়ে অভিজ্ঞ ডাঃ আম্বিয়া আলম কণা। এ বলে ৭২ ঘন্টা চিকিৎসকের তত্বাবধায়নে রাখা হয় রোগীকে।

শুক্রবার গর্ভবতী সেই রুনাকে অস্ত্রপচার করা হয়। অস্ত্রপচারের পরে মৃত নয়, এক জীবিত শিশুর ভূমিষ্ট হয়। তবে বাচ্চা মৃত ভেবে গর্ভবতী রুনাকে যে ঔষধ প্রয়োগ করা হয়েছে তা জীবিত শিশুর জন্য ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করছে রুনার পরিবার। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলে রোগীর পরিবার প্রতারণার আশ্রয় গ্রহন করছে। যাতে ক্লিনিকের বিল না দিয়ে পারে।

রুনা ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছয়গাঁও ইউনিয়নের ডামগারি গ্রামের মোশারফ আলী বিশ্বাসের মেয়ে। স্বামীর বাড়ি একই ইউনিয়নের মনুয়া গ্রামে। কয়েক মাস হলো রুনার স্বামী বিদ্যুৎ স্পর্শে মারা যায়। এর পূর্বেও রুনার দু’টি সন্তান রয়েছে। এবার গর্ভের সন্তানের বয়স সাড়ে ছয়মাসের সময় প্রশস বেদনা অনুভব করে রুনা। তাৎক্ষনিক রুনাকে হাজী শরীয়তুল্লাহ জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। কর্তব্যরত ডাঃ আম্বিয়া আলম কণা রোগীর আলট্রাসনোগ্রাম করে বলে বাচ্চা মারা গেছে। সেই থেকে ৭২ ঘন্টা তত্বাবধায়নে রেখে স্বাভাবিক প্রসবের নামে বিভিন্ন পরীক্ষা মূলক ঔষধ প্রয়োগ করে। এতে কোন সুফল না পেয়ে রুনাকে অস্ত্রপচারের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন ডাক্তার। অস্ত্রপচার শেষে মৃত সন্তানের পরিবর্তে বেরিয়ে আসে অসুস্থ জীবিত বাচ্চা।

রুনার ভাই রাশেদ বলে, আমাদের সাথে প্রতারণা করেছে ডাঃ আম্বিয়া আলম কণা। গত মঙ্গলবার এ ক্লিনিকে ভর্তি হয় আমার বোন রুনা। রুনার গর্ভের সন্তানের বয়স সাড়েছয় মাস। অনেক পরীক্ষা করে বলে বাচ্চা মারা গেছে। তখন মরা বাচ্চা প্রসব করাতে রুনাকে বিভিন্ন প্রকার ঔষধ প্রয়োগ করে আর বলে ৭২ ঘন্টা চিকিৎসা দিতে হবে। শুক্রবার রুনার অস্ত্রপচার হয়। তখন জীবিত বাচ্চা বেরিয়ে আসে। মৃত বাচ্চা ভেবে যে সকল ঔষধ প্রয়োগ করা হয়েছে সে ঔষধ বাচ্চার ক্ষতি করেছে। এখন বাচ্চার শরীর হলুদ হয়ে গেছে। ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় এ সমস্যা হয়েছে। এ কথা বলায় ডাক্তারকে বাঁচাতে ক্লিনিকের চেয়ারম্যান পরিচয়ে এসএম নজরুল ইসলাম নয়ন সহ মালিক পক্ষ আমাদের হুমকি দিয়েছে। আমাদের এখানে রাখবে না। চলে যেতে বলেছে।

বিষয়টি নিশ্চিৎ হতে শরীয়তপুর শহরের চৌরঙ্গি মোড়ে অবস্থিত হাজী শরীয়তুল্লাহ জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে ডাঃ আম্বিয়া আলম কণাকে পাওয়া যায় নি। তার মোবাইল ফোনে অনেক চেষ্টা করে একবার তাকে পাওয়া যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদকে উল্টো প্রশ্ন করে রুনাকে যে ভুল চিকিৎসা দেয়া হয়েছে এমন কোন প্রমাণ আছে আপনার কাছে?

হাজী শরীয়তুল্লাহ জেনারেল হাসপাতালের চেয়ারম্যান এসএম নজরুল ইসলাম নয়ন বলেন, এ ধরণের কোন ঘটনা ঘটে নাই। তাদের প্রতিবন্ধী বাচ্চা হয়েছে তাই হাসপাতালের বিল না দেয়ার জন্য এ বাহানা শুরু করেছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।