বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী হিন্দু গনজাগরণ মঞ্চের অন্যতম নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ গ্রেফতারের পর পরই তাকে খাবার, ওষুধ দিতে গেলে আরও দুই ইসকন সন্নাসীকে গ্রেফতার করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কোতোয়ালি থানা।
বৃহস্পতিবার তাদেরকে গ্রেফতারের পরপরই হাজতে সোপর্দ করেন। গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন-রকি মজুমদার ( রাধা কেশব দাস ব্রহ্মচারী) ও রুবেল দাস (রঙ্গ নাথ শ্যামা সুন্দর দাস)। শনিবার সন্ধ্যেয় গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কাজী তারেক আজিজ।
জানা যায়, নগরীর গত মঙ্গলবার চিন্ময় কৃষ্ণের জামিন না মঞ্জুর করেন চট্টগ্রাম আদালত। এরপর বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের পুন্ডরিক ধাম থেকে চিন্ময় কৃষ্ণের জন্য খাবার নিয়ে যান এ দুই সাধু। তবে তাদের পরনে সাধুর পোশাক ছিল না। নিরাপত্তার কারনে সেদিন তারা রাস্তায় ধমীয় গেরুয়া পোশাক পরে বের হননি। সাধারন মানুষের পোশাক পরেই তারা খাবার, ওষুধ ও হাত খরচের অর্থ দিয়ে আসেন। এসময় আসার পথেই তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
চট্টগ্রাম ইসকন প্রবর্তক মন্দিরের পরিচালনা কমিটির সদস্য স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাস বলেন, চিন্ময় প্রভুকে খাবার দিতে গেলে তারা গ্রেফতার হন বলে আমাদের কাছে দুইটি ভয়েস রেকর্ড পাটিয়েছেন। সেখানে আমরা একটাতে শুনি তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে আরেকটাতে শুনি তাদেরকে হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এখন আমরা ঠিক বলতে পারছি না তাদেরকে আদৌ গ্রেফতার করা হয়েছে কিনা!
বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কাজী তারেক আজিজ বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় সিএমপি কোতোয়ালি থানার পুলিশের দায়ের করা ৪২/১১ এর মামলায় তাদেরকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করেন।
মামলায় আবেদনে আসামিদের নাম নেই কিন্তু গ্রেফতার কেন জানতে চাইলে এই মামলার তদন্তকারী কোতোয়ালি থানার এস আই ন‚র উদ্দিন বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামিদেরকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ গত ২৫ নভেম্বর সোমবার বিকালে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী গণজাগরণ মঞ্চের ম‚খপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আটক করা হয়। পরদিন তাকে আদালতে আনার পর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন আদালত। সেদিন দুপুরে চট্টগ্রাম আদালতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিক্ষোভ করেন। এবং তিন ঘন্টা ধরে পুলিশের প্রিজন ভ্যান আটকে রাখেন। পরে সিএমপির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আসার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করেন। এ ঘটনায় কোতোয়ালির লালদীঘি, টেরীবাজার, জলসা মার্কেট, জেলা পরিষদ মার্কেটসহ প্রায়স্থানে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সেদিন ৩১ জনকে গ্রেফতার, পরের দিন দুইজনকে গ্রেফতার করেন। এ মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামিদের নাম না থাকলেও অজ্ঞাত ৬০০ থেকে ৭০০ জনের মামলায় তাদেরকে গ্রেফতার দেখিয়ে হাজতে প্রেরণ করা হয় বলে জানান পুলিশ।





