× Banner
সর্বশেষ
কৃষিভিত্তিক শিল্প ও অ্যাগ্রো বিজনেসে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের গৌরবময় ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরলেন পর্যটনমন্ত্রী বাংলাদেশকে উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য সরকারের: প্রযুক্তিমন্ত্রী আবহাওয়ার সতর্কবার্তাবঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত ২৭ জুলাই থেকে শুরু ২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন, ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা বান্দরবানে সাঙ্গু নদীতে নৌকাডুবির দুই দিন পর নিখোঁজ পর্যটকের লাশ উদ্ধার সাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত আদালতে রাষ্ট্রপ্রতির বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শেষ হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’

দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ গণহত্যা কেতনা বিলে, আজ সেই দিন

Kishori
হালনাগাদ: শনিবার, ১৬ মে, ২০২০
Hindu killing at Ketna Bill Barisal

দিনেশ চন্দ্র জয়ধরঃ দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ গণহত্যা কেতনা বিলে। কেতনা বিলের গণহত্যা দিবস আজ। বাহিনীর হাতে জীবন দিতে হয়েছে পাশ্ববর্তী আটটি গ্রামের নিরীহ দেড় সহস্রাধিক লোককে।
আজ ১৬ মে। ১৯৭১ সালের আজকের দিনটি ছিল রবিবার।  ছিল ১৩৭৮ বঙ্গাব্দের ১ জ্যৈষ্ঠ।  মহান মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানী হিংস্র বাহিনীর হামলায় কেতনার বিলে এদিন শহীদ হন অসংখ্য সাধারণ মানুষ। বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলাধীন রাজিহার ইউনিয়নের রাংতা গ্রামের উত্তর পাশের বিস্তীর্ণ মাঠটি কেতনার বিল নামে পরিচিত।
কেতনার বিলের চারদিকের গ্রামসমূহ দক্ষিণে রাংতা, পূর্বে চেঙ্গুটিয়া, উত্তরে কান্দিরপাড়-চৌদ্দমেদা, পশ্চিমে রাজিহার-বাশাইল। যুদ্ধকালে পাকবাহিনী গৌরনদী কলেজে ক্যাম্প স্থাপন করে। ১৬ মে হানাদার বাহিনী  চাঁদশির মধ্য দিয়ে উত্তর শিহিপাশা, রাংতাসহ বিভিন্ন গ্রামে অনেক বাড়িঘর আগুনে পুড়িয়ে দেয়। চাঁদশিতে তারা শহীদ পরিমল মণ্ডলের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়।পরিমলের বৃদ্ধা মা গোলাপি রাণী মণ্ডল কচুরিপানা ভর্তি পুকুরে প্রায় নাক পর্যন্ত ডুবিয়ে রেখে প্রাণ বাঁচিয়েছিল। এ অবস্থায়ই তিনি নিজের বাড়ি পুড়ে যেতে দেখেছেন।

উত্তর শিহিপাশার পূর্ব হাওলাদার বাড়িতে একটি ডোবায় প্রাণভয়ে লুকিয়ে ছিল ১৩ জন বারী ও শিশু। তাঁদের ব্রাশফায়ার করে সেখানে মেরে ফেলা হয়। একদল গিয়ে পুড়িয়ে দেয় কুমার পাড়া। এলাকার সন্তান  নূর মোহাম্মদ আঁকন তাঁর স্মৃতিচারণে লেখেন,

” সকাল থেকে বিকাল ২.৩০ পর্যন্ত হানাদার বাহিনীর তাণ্ডব চলে। আমার বড় ভাই আব্দুর রাজ্জাক হানাদার বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ করেন।”
এসময় প্রাণভয়ে  এসব অঞ্চলের সাত-আটটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নেয় নিম্ন জলাভূমি কেতনার বিলে। মিলিটারি এগিয়ে যায় কাঁচা রাস্তা ধরে পশ্চিম দিকে। জীবন বাঁচানোর তাগিদে মানুষ ছুটছে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে। হঠাৎ শত শত মানুষ কেতনার বিলে পড়ে যায় মিলিটারির গুলির আওতায়। শুধু এখানেই মারা যায় প্রায় সহস্রাধিক লোক। এদের মধ্যে ছিল চাঁদশি নিবাসী  স্বপন বোস ও তাঁর দুই বোন যূথী ও শেফালী। স্বপন ১৯৬৮ সালে যশোর বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিল। স্বপন পড়ত ঢাকা মেডিকেল কলেজে। তাঁর দুই বোন ছিল ১৯৭১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী।
সেদিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রাজিহার গ্রামের কাশী নাথ পাত্রের পুত্র অমূল্য পাত্র জানান, স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগীতায় পাকিস্তানী সৈন্যরা কেতনার বিলে লুকিয়ে থাকা নিরীহ গ্রামবাসীদের ওপর প্রধান রাস্তা থেকে পাখির মতো গুলি করে অন্তত দেড় সহস্রাধীক নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যা করে। এরপর রাজিহার গ্রামের হিন্দু পাড়ায় আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয় সকল বাড়ি ঘর। এরইমধ্যে চলে লুটপাট। আগুনের লেলিহান শিখায় গাছের একটি পাতাও সেদিন অবশিষ্ট ছিলোনা।
অমূল্য পাত্র আরও জানান, ওইসময় প্রাণ বাঁচাতে পালানো মানুষের ভীড়ে বিভৎস লাশ সৎকার বা কবর দেয়ার লোক খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার পরেও মৃত্যুপুরী থেকে পাত্র বাড়ির বেঁচে যাওয়া হরলাল পাত্র ও অমূল্য পাত্রর নেতৃত্বে হরলালের পুত্র সুশীল পাত্র, কেষ্ট পাত্র, রাধা কান্ত পাত্রসহ কয়েকজনে পরেরদিন তাদের হারানো স্বজনসহ প্রায় দেড় শতাধিক লোকের লাশ এনে তাদের পাত্র বাড়ির পার্শে¦র কয়েকটি স্থানে বড় বড় ছয়টি গর্ত করে একত্রে মাটি চাঁপা দিয়ে রাখেন। বাকী লাশগুলো কেতনার বিলে শেয়াল, কুকুরের খাবার হয়ে যায়।
আজকের এই স্বাধীন সার্বভৌম সোনার বাংলাদেশ পেতে এভাবেই সারাদেশে অজস্র মানুষ শহীদ হয়েছুল। তাঁদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সোনালি ফসল বাংলাদেশ। দুঃখজনক হলেও সত্য যে আজ পর্যন্ত কোনো শহীদ বেদি কিংবা স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ হয়নি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি স্মৃতিভাস্কর্য নির্মাণ সময়ের দাবি। ১৯৭১ সালের আজকের দিনে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হওয়া সকল শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা  জ্ঞাপন করছি।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..