খবরের ফেরিওয়ালারাই বে-খবর!

খবরের ফেরিওয়ালারাই বে-খবর!
মাহফুজার রহমান মাহফুজ, ফুলবাড়ী(কুড়িগ্রাম)সংবাদদাতাঃ প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠেই চায়ের কাপে চুমুক দেয়ার সাথে খবরের কাগজটা না থাকলে অনেকেরই সকালটা যেন অপূর্ণই রয়ে যায়। খবর পিয়াসুদের খবরের পিপাসা মেটাতে যারা মোরগডাকা ভোর হতে রাত অবধি সমাজ, দেশ তথা সাড়া বিশ্বের খবর পৌঁছে দেয়- বলছি সেই খবরের ফেরিওয়ালাদের কথা।যাদেরকে আমরা হকার নামেই ডাকি।
রোদ, বৃষ্টি, ঝড় কিংবা শীত সবকিছুই উপেক্ষা করে ঘরে ঘরে খবর পৌঁছে দেয়াই যেন তাদের ব্রত। প্রতিদিনের ঘটনা কিংবা দুর্ঘটনা সাংবাদিকদের লেখনির মাধ্যমে খবরে রূপ নেয়।পত্রিকায় ছাপানোর পরে তা সকলের কাছে পৌঁছানোর দায়িত্ব এই হকারদের। ঘটনা,সাংবাদিক, পত্রিকা আর পাঠক প্রত্যেকের মাঝে অদৃশ্য সেতুবন্ধন অটুট রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এই হকারদের। করোনা মহামারীতেও যারা সাড়া বিশ্বের খবর সকলের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে তারাই আজ বে-খবর। তবুও জীবন-জীবিকার তাগিদে করোনায় সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েই ছুটে চলেছে প্রতিনিয়তই। করোনা পরিস্থিতিতে  কেমন আছেন তারা?

এ নিয়ে জানতে কথা হয় উপজেলার প্রবীণ সংবাদ পত্র বিক্রেতা মোঃ সোবহান মিয়ার সাথে।কেমন আছেন প্রশ্নের উত্তরে লম্বা এক দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে জানালেন, ভাল নেই।আগে প্রতিদিন পত্রিকা বিক্রি করে গড়ে ২৫০থেকে ৩০০ টাকা আয় হতো।তা দিয়েই কোন মতে চলতো সংসার।করোনার কারণে বর্তমানে বেশির ভাগ পত্রিকাই সরবরাহ বন্ধ।ফলে প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে রোজগারের পথ।
দীর্ঘদিন ধরে পত্রিকা বিক্রি করে জীবন সংগ্রাম চালিয়ে আসা মানুষটা বর্তমানে অসহায়।পরিস্হিতির মোকাবিলা করতে তিনি দাবি জানান সরকারি সহায়তার।
হকার এবং বর্তমান পরিস্হিতি নিয়ে কথা হয় শিশুসাহিত্যিক ও গীতিকার তৌহিদ-উল ইসলাম এর সাথে তিনি বলেন,একজন সাংবাদিক দিনে হয়তো দু’এক জায়গায় ছুটে যান খবর সংগ্রহ করতে,বার্তা সম্পাদক ঘরে বসেই তা সম্পাদনা করে ছাপিয়ে দেন,আর এই কাগজকে অসংখ্য মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার কাজটা করেন আমাদের হকার।সুতরাং দেশের এই বৈশ্বিক মহামারীতে সংবাদ পত্রের সাথে জড়িতদের মধ্যে সবচে ঝুকিতে অবস্হান হকারদের।সবার আগে তাদের প্রতি সরকারের নজর দেয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।
ফুলবাড়ী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সমকালের উপজেলা প্রতিনিধি শাহিনুর রহমান শাহিন বলেন,হকার সোবহান মিয়া উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে হকারের পেশায় কাজ করে আসছেন।বর্তমানে পত্রিকার সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় তিনি বেকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।পরিস্থিতি মোকাবিলায় তার সরকারি সাহায্য জরুরি।
উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, প্রভাষক জাকারিয়া মিয়া বলেন,করোনার কারণে একদিকে পত্রিকার সরবরাহ কম অন্যদিকে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার হকারদের রোজগার নেই বললেই চলে।এমন পরিস্থিতিতে এ পেশার মানুষদের টিকিয়ে রাখতে তাদের সহায়তা করা প্রয়োজন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।