× Banner
সর্বশেষ
ওভারথিংকিং ডিটক্স ব্লুপ্রিন্ট বইটির মোড়ক উন্মোচন করলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, অধিকাংশ জেলায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরছে প্রস্তাবিত কর্পোরেট গভর্ন্যান্স রুলস ২০২৬ নিয়ে আইসিএসবির সিপিডি প্রোগ্রাম মাগুরায় ১০ হাজার গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান পানি সম্পদমন্ত্রীর মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে পুশইন চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি ঝিনাইদহে প্রথমবার পালিত হলো বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে কাজ করাই পেশাদার সাংবাদিকতার মূল দর্শন – তথ্যমন্ত্রী Inner Wheel Club of Dhaka Cosmopolitan 2026–2027 Handover Ceremony & Collar Exchange Program ব্যবসা সম্প্রসারণেই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব, ব্যবসায়ীদের প্রতি পরিবেশমন্ত্রীর আহ্বান

কোরবানি উপলক্ষে ভারত থেকে ও গরু আসছে, সিংহ ভাগ পার হচ্ছে কর ফাঁকি দিয়ে

admin
হালনাগাদ: রবিবার, ৩১ জুলাই, ২০১৬

মো: মাসুদুর রহমান বেনাপোল থেকে: কোরবানি ঊপলক্ষে বেনাপোল  শার্শার গরুর খামারীরা তাদের গরু মোটাতাজাকরনে ব্যাস্ত সময় পার করছে অধিক মুনাফা লাভের আশায় সেই সাথে ভারত থেকে ও পুটখালি সীমান্ত দিয়ে গরু আসছে যার অধিকাংশ সরকারি ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে। শার্শা উপজেলায় ছোটবড় মিলে প্রায় ৩ শতাধিক গরুর খামার আছে। এসব গরু ভারত থেকে চোরাই পথে এনে ৭/৮ মাস এরা বাড়িতে লালন পালন করে কোরবানির সময় বাড়তি আয়ের জন্য বাজারে বিক্রি করে।

শার্শা বেনাপোলের সবচেয়ে বড় গরুর খামার বেনাপোলের পুটখালিতে নাসির উদ্দিন ও জসিম উদ্দিনের। এখানে এরা গরুর জন্য ফ্যান মোটর এবং থাকা খাওয়া ও গোসলের জন্য সব ব্যাবস্তা করে রেখেছে।

সরেজমিনে নাসির উদ্দিন ও জসিমের গরুর খামারে যেয়ে দেখা যায় বড় টিনের ঘরের ভিতর সামনে গরুর খাবারের পাকা চাড়ি এবং মাথার উপর গরুকে ঠান্ডা রাখার জন্য পাখা ঘুরছে। নাসির উদ্দিনের খামারে ১৭০ টি গরু আছে অপরদিকে জসিমের খামারে প্রায় শতাধিক গরু আছে। উভয় খামারে গরুর পরিচর্যার জন্য এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্নের জন্য ১০/১২ জন করে লোক রাখা আছে। সারাদিন এ লোকগুলো গরুর খাওয়া গোসল জায়গা পরিস্কার করার কাজে ব্যাস্ত থাকে।

এদের উভয়ের খামারে দেশী গরু নাই বললে চলে। খামারের কর্মচারী আলী হোসেন জানান, এ গুলো উন্নত জাতের গরু। গরুগুলো হচ্ছে ভারতীয়, নেপালী, ভুটান থেকে আনা। তবে হরিয়ানা জাতের গরু দেখতে সবচেয়ে বড় । তিনি জানান, ইতি মধ্যে খামার থেকে ২০ টি গরু সাড়ে ৩ লাখ টাকা দরে বিক্রি হয়ে গেছে। আর বাকি গরু বিক্রি হবে আরো কয়েক দিন পর। খামারে বর্তমানে যে সব গরু রয়েছে তার প্রতিটি গরু কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকায় বিক্রি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গরুকে কি খাবার খেয়ে মোটা তাজা করা হচ্ছে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভাত, গমের ভুসি, পালিস ধানের কোড়া বিছালী খাবার খাওয়ানো হয়।

এলাকার জনৈক ব্যাক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে  বলেন আসলে এসব গরু ভারত থেকে আনা হয় অত্রান্ত ক্ষীন শরীরে । দেখলে মনে হয় যে কোন সময় এরা মরে যাবে। এসব গরুকে খাবারেরর পাশাপাশি গায়ে মাংশের জন্য এক ধরনের ইনজেকশন এবং মোটা তাজাকরন ট্যবলেট ভারত থেকে এনে খাওয়ানো হয়। যার জন্য এসব গরু এত মোটা হয়েছে। দেখলে মনে হয় সব একটা একটা হাতি। উপজেলা থেকে এসব গরুর তদারকির ব্যাপাওে কোন উপজেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তাকে দেখা যায় না।

এসব বড় বড় খামারের পাশাপাশি বেনাপোল শার্শার প্রতিটি গ্রামে ৫-১০ টি গরু নিয়ে বাড়িতে মহিলারা বাড়তি আযের জন্য খামার গড়ে তুলেছে। বৎসরে একবার এসব গৃহবধুরা ধার দেনা করে গরু লালন পালন করে সংসারের অভাব অনটন বাচ্চাদের লেখা পড়ার খরছ যোগাতে এক বৎসর অত্যান্ত অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। তাদের কোরবানি আসার সাথে সাথে অক্লান্ত পরিশ্রম হারিয়ে যেন সদা মুখে হাসি থাকে শুধু মাত্র এক বৎসরের কষ্টের ফলাফল পাওয়ার আসায়।

অপরদিকে জীবনের ঝুকি নিয়ে ভারত থেকে বেনাপোলের দুর্গম জনপদ পুটখালি সীমান্ত দিয়ে গরু আনছে এদেশের অভাবী রাখালরা। এরা ব্যবসায়িরদের কেনা গরু মাত্র রাত্রে বিএসএফএর গুলি উপেক্ষা করে মাত্র ৫০০ টাকা মজুরি পেয়ে নিয়ে আসে। এর সিংহ ভাগ সরকারি ট্যাক্স্র ফাঁকি দিয়ে গরু নিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন হাটে। এলাকা বাসি জানায় ভারত থেকে গরু আসার পর আগে বাজারের পাশে খাটালে গরু তুলত। বর্তমানে তা দেখা যায়না। ব্যবসায়িরা গরু এনে গ্রামের ভিতর বাড়ি রাখে তারপর সেখান থেকে কিছু গরুর ট্যাক্স করে হাটে তোলে এবং হাটে গরু রেখে আবার ট্যাক্সের কাগজ নিয়ে বাড়ি থেকে গরু নিয়ে যায়। অনেক সময় দুরের ব্যবসায়িদের সাথে যোগ সাজসে বাড়ি থেকে গরু বিক্রি করে ট্রাকে লোড দিয়ে বেনাপোল পার হয়ে আবার গ্রামে যেয়ে গরু নিয়ে তারা যায়।

সরেজমিনে এলাকায় যেয়ে দেখা যায় নছিমনে করে গরু বের হচ্ছে গ্রাম থেকে । বিজিবির চেকপোষ্টে দাঁড়িয়ে তারা তাদের বৈধ ট্যাক্সের কাগজ দেখায় চলে যাচ্ছে। কিন্তু নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায় ঐ গরু যাওয়ার পর বিজিবি চেক পার হযে আবার একই কাগজ দেখিয়ে তারা পুনরায় গরু পার করছে।

এলাকাবাসি জানান, আগের তুলনায় গরু কম উঠছে। তবে গতবছররের তুলনায় অনেক বেশী উঠছে। প্রতিদিনি গড়ে এ পথে ১ হাজারের উপরে গরু আসে।

সুত্র জানায় মাঝে মধ্যে বিজিবি এর দু-একটি চালান ধরে নিলামে বিক্রি করলে ও বড় অংশ ধরা ছোয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে।
আবার ভারত থেকে এসব কোটি কোটি টাকার গরু ব্যবসায়িরা অবৈধপন্থার  মাধ্যমে টাকা পার করছে  বলে সুত্র দাবি করে।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..