একসময় শতকরা ৯৫ ভাগ লাশ পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া হতো -রাষ্ট্রপতি

হাওরাঞ্চল একসময় চরম অবহেলিত ছিল। বর্ষাকালে মানুষ মারা গেলে কবর দেওয়ার জায়গা পাওয়া যেত না। শতকরা ৯৫ ভাগ লাশই পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া হতো। আমি নিজে এ দৃশ্য দেখেছি। কিন্তু আজকে আর লাশ পানিতে ভাসাতে হয় না। এখন রাস্তা হয়ে হাওরের চেহারা পালটে যাচ্ছে। আরো উন্নতি হবে। এখানে পর্যটনের হোটেল-মোটেল হবে, শিল্পকারখানা হবে। বলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ।

গতকাল শুক্রবার হাওর অধ্যুষিত মিঠামইন উপজেলা সদরে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হক সরকারি কলেজ সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি সন্ধ্যায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে মতবিনিময় করার পর মিঠামইন সদরে নিজ বাড়িতে রাতযাপন করেন।

আজ শনিবার রাষ্ট্রপতি কিশোরগঞ্জ জেলার  মিঠামইন উপজেলার ইটনা, মিঠামাইন, অষ্টগ্রাম সড়কসহ উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করবেন।

তিনি বলেন, ‘আমি স্কুলজীবন থেকে রাজনীতি শুরু করেছি। বাড়ি আমার হাওরে। একসময় হাওরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না। মিঠামইনের মাত্র চার-পাঁচ জন কলেজে পড়তাম। মেয়েরা পঞ্চম শ্রেণির বেশি পড়ত না। এখন প্রতি ইউনিয়নে হাইস্কুল হয়েছে। আব্দুল হক কলেজে শিক্ষার্থী প্রায় ১৪০০। স্কুলেও প্রায় ১৪০০ শিক্ষার্থী পড়ে।’

রাষ্ট্রপতি হাওরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বলেন, সাবমার্জেবল সড়ক হওয়ায় এখন মানুষ ১৫ মিনিটে মিঠামইন থেকে ইটনা বা অষ্টগ্রাম উপজেলা সদরে যেতে পারেন। আগে নৌকায় যেতে সারা দিন লাগত। অথবা হেঁটে যেতে হতো। অলওয়েদার উঁচু রাস্তাও হয়েছে।

মিঠামইন উপজেলা চেয়ারম্যান আছিয়া আলমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক এমপি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান ও পাবলিক প্রসিকিউটর শাহ আজিজুল হক। এর আগে মঞ্চে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন মিঠামইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শরীফ কামাল।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।