উপকূলীয় এলাকার জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা রক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় **প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান (Nature-based Solutions)** সবচেয়ে কার্যকর ও টেকসই উপায় বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে আয়োজিত *‘প্রায়োরিটাইজিং নেচার-বেসড ইন্টারভেনশনস ফর রেজিলিয়েন্ট কোস্টাল বাংলাদেশ’* শীর্ষক এক জাতীয় কারিগরি কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ’ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনাল’ যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে।
### ওয়ান হেলথ ও পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে পরিবেশ ও প্রাণিসম্পদের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন:
* **ইকোসিস্টেম ও খাদ্য ব্যবস্থা:** উপকূলীয় বন, জলাভূমি, সবুজ বেষ্টনী এবং সমন্বিত কৃষি-বনায়ন ব্যবস্থা শুধু পরিবেশ রক্ষা করে না; বরং এটি প্রাণিসম্পদের জন্য পশুখাদ্যের নিয়মিত জোগান নিশ্চিত করে এবং প্রাণিস্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।
* **‘ওয়ান হেলথ’ ধারণা:** মানবস্বাস্থ্য, প্রাণিস্বাস্থ্য এবং পরিবেশগত স্বাস্থ্যের মধ্যে যে সুদৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে, প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান সেই ‘ওয়ান হেলথ’ (One Health) নীতিকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করে তোলে।
### উপকূলীয় ঝুঁকি ও প্রাণিসম্পদ খাতের ভূমিকা
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, এসব দুর্যোগ উপকূলের কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে।
> **”উপকূলীয় অঞ্চলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত গ্রামীণ অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কঠিন সময়েও লাখ লাখ পরিবারের জন্য গরু, মহিষ, ছাগল ও হাঁস-মুরগি একমাত্র অর্থনৈতিক ও পুষ্টি নিরাপত্তার অবলম্বন হয়ে দাঁড়ায়।”**
তিনি আরও জানান, সরকার পরিবেশ পুনরুদ্ধার এবং তথ্য-প্রমাণভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে আগামী পাঁচ বছরে **২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের জাতীয় উদ্যোগ** দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন: সাবেক সচিব ড. মোঃ ফরিদুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ শাহজামান খান, কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৌরভ মালহোত্রা।