বিশেষ প্রতিবেদকঃ সভা–সমাবেশের অনুমতির ক্ষেত্রে নিজেদের জন্য এক আইন আর অন্য রাজনৈতিক দলের জন্য আরেক আইন করেছে সরকার বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এ অভিযোগ করেন।
বিএনপি নেতা বলেন, ‘গণতন্ত্রের কথা বলবেন, বলবেন যে দেশে গণতন্ত্র আছে, অধিকার আছে, অথচ একটা সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলকে, তাকে আপনি সমাবেশ করতে দেবেন না। অথচ আপনার ওইখানেই কিছু আগে কাউন্সিল করেছেন, তাহলে পরিষ্কার বলে দিলেই তো হয়, ইউ হ্যাভ টু রুলস—দুটো আইন আছে। একটা হচ্ছে আওয়ামী লীগের জন্য, সরকারের জন্য; আরেকটা রেস্ট অব দি পিপল (বাকিদের জন্য)।’
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমি ধন্যবাদ জানাব আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাহেবকে। তিনি কালকে একটা সত্য কথা উচ্চারণ করেছেন যে বিএনপিকে দুর্বল ভাবলে ভুল করা হবে। একটা ভোটের অধিকার পাবে, সেদিন তারা শক্তিটা প্রদর্শন করবে—বিএনপির সমর্থক যারা রয়েছে। দ্যাটস দ্য ডেমোক্রেসি। আপনারা আসলে জানেন বলেই আমরা আবার সমবেত হতে না পারি, সংগঠিত হতে না পারি, আমরা যেন মিছিল করতে না পারি তার জন্য আপনারা সেটাকে ওইভাবে দূরে সরিয়ে রাখছেন এবং নির্বাচনটাকেও নিজের কন্ট্রোলে রাখার চেষ্টা করছেন।’
গত ৭ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু এ কর্মসূচি পালন করতে পারেনি দলের নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া ৫ জানুয়ারি নিজেদের ডাকা ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবসের’ কর্মসূচি করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয় দলটি।
একই বছরের হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক এস এম নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করে। বিভিন্ন সময়ে এই স্থগিতাদেশ বাড়ানো হয়।
২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজত ইসলামের সমাবেশে আইন–শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহতের সংখ্যা নিয়ে অধিকারের প্রকাশিত এক রিপোর্টে অসত্য ও তথ্য বিকৃতির অভিযোগ আনা হয়। ঐ অভিযোগে সম্পাদক আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক এস এম নাসির উদ্দিন এলানের বিরুদ্ধে ৪ সেপ্টেম্বর পুলিশি প্রতিবেদন দেয় পুলিশ।


