আরিফ মোল্ল্যা, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: এক সময়ে বাসা বাড়ি অথবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে গ্রাহকদেরকে দিনের পর দিন ঘুরতে হতো। এক শ্রেণীর দালালদের দিতে হতো পকেটের টাকা। তারপরও সময়মত মিলতো না বিদ্যুৎ সংযোগ।
আজ সে অবস্থার অসান হয়েছে। কেননা বর্তমানে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন ফেরিওয়ালা সেজে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছেন। প্রতিদিন সকাল থেকেই প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাড়ি বাড়িতে পৌছে যাচ্ছেন তারা। এরই ধারাবাহিকতায় ”আলোর ফেরিওয়ালা” মিটারিং কার্যক্রমের সেবামূলক কাজে রোববার সকালে পল্লী বিদ্যুতের লোকজন সরঞ্জাম বোঝাই ১৫ টি ভ্যান নিয়ে তাদের অফিস থেকে বের হয়ে ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের প্রত্যন্তঞ্চালের গ্রামগুলোতে। বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের ভাষ্য,গ্রাহক হয়রানি রোধ ও ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে দিতেই তারা এখন গ্রামে গ্রামে ফেরিওয়ালার মত কাজ করে চলেছেন।
কালীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম আব্দুর রব বলেন, নতুন সংযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে এক সময়ে বিদ্যুৎ বিভাগের অনেক বদনাম শুনেছেন। সংযোগ নিতে গ্রাহকদের অফিসে এসে আবেদন জমা দিয়েও শুধু ঘুরতেই হয়েছে। অপেক্ষা করতে হয়েছে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস। গ্রাহকদের পকেটের টাকাও হাতিয়ে নিয়েছে অনেকে। এ সকল গ্রাহক হয়রানি থেকে বাঁচাতেই আজ বিদ্যুতের ফেরিওয়ালারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। গ্রাহকেরা সকাল হলেই ঘরের দরজায় পেয়ে যাচ্ছেন বিদ্যুতের ফেরিওয়ালাদের। ওয়্যারিং সম্পন্ন করে তাদের কাছে আবেদনসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও জমানতের অর্থ জমা দিলেই ৫ মিনিটের মধ্যে মিলে যাচ্ছে বিদ্যুৎ সংযোগ।
তিনি বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ ”আলোর ফেরিওয়ালা” কার্যক্রমের আওতায় প্রতিদিন সকাল হলেই মানুষের বাড়ি বাড়ি ভ্যানে করে বিদ্যুৎ সংযোগের সরঞ্জামাদি ও মিটার পৌঁছে যাচ্ছে। সংযোগ প্রদানকারী ফেরিওয়ালা টিমে সংশ্লিষ্ঠ বিভাগের ২ জন লাইনম্যান ও একজন ওয়ারিং পরিদর্শক থাকছেন। তিনি বলেন, হয়রানিরোধ ও শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতেই তারা এমন উদ্যোগ গ্রহন করেছেন।
বিদ্যুৎ বিভাগের এই কর্মকর্তা আরও জানান, সেবামুলক এ খাতে গ্রাহকের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতেই ফেরিওয়ালা সেজে সেবা দিচ্ছেন।