বিশেষ প্রতিবেদক অসিত কুমার ঘোষ (বাবু)ঃ ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারী (১৪) আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস ও শাখার প্রধান জিন্নাত আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেছে সিএমএম আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারীর উপস্থিতিতে এ চার্জশিট গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন অনুযায়ী শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে অব্যাহতির আদেশ দেন।
এর আগে গত ২৫ মার্চ মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক কামরুল হাসান তালুকদার আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর গত ১০ এপ্রিল আদালত ৩০ এপ্রিল বাদীর উপস্থিতিতে চার্জশিট গ্রহণের শুনানীর দিন ঠিক করেন। সে অনুযায়ী মঙ্গলবার বাদী আদালতে উপস্থিত হন এবং তার কোন আপত্তি নেই বলে জানান।
মামলার চার্জশিটে বলা হয়, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীর সঙ্গে মোবাইল রাখা নিষিদ্ধ থাকলেও ২০১৮ সালের ২ ডিসেম্বর অরিত্রী (১৪) মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করেন। যা পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে হলের শিক্ষিকা আফসানা আমতু রাব্বী অরিত্রীর নিকট থেকে নিয়ে নেয় এবং পরদিন পিতা-মাতাকেসহ স্কুলে আসতে বলে।
সে অনুযায়ী অরিত্রী পরদিন সকাল ১১টার দিকে স্কুলে এসে মা-বাবাকে নিয়ে শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনার সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে কিছু সময় বসে থাকার পর তিনি অরিত্রী ও তার মা-বাবাকে আসামী জিন্নাত আক্তারের কাছে নিয়ে যান। দেখেই তিনি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং অরিত্রীর মা-বাবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে মেয়েকে টিসি দিয়ে দিবেন বলে জানান। তখন মা-বাবা অরিত্রীকে নিয়ে আসামী নাজনীন ফেরদৌসের রুমে যান।
সেখানে অরিত্রী আসামী নাজনীন ফেরদৌসের পা ধরে ক্ষমা প্রার্থণা করেন। সঙ্গে তার মা-বাবাও মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ক্ষমা প্রার্থণা করেন। কিন্তু নাজনীন ফেরদৌস তাদের কথাবার্তা ও ক্ষমা প্রার্থণায় কর্ণপাত না করে তিনিও টিসি দিয়ে দিবেন বলে জানান। এতে অরিত্রীর মা-বাবার সঙ্গে নাজনীনের কথা কাটাকাটি হওয়ার সময় অরিত্রী বাসায় চলে যায় এবং আসামী নাজনীন ও জিন্নাত আক্তারদের নির্মম আচরণে কারণে সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আত্মহত্যা করে। আসামীদের নির্দয় ব্যবহার এবং অশিক্ষিত সুলভ আচরনই অরিত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে।




