বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নাটকীয় এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ ১৩ মিনিটে তিন গোল করে ৩-২ ব্যবধানে মিসরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে থাকে মিসর। শক্তি ও র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকলেও আফ্রিকার দলটি শুরু থেকেই আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখে।
ম্যাচের ১৫তম মিনিটে মারওয়ান আত্তিয়ার দারুণ এক ক্রস থেকে হেডে গোল করে মিসরকে এগিয়ে দেন ইয়াসির ইব্রাহিম। গোল হজমের পরপরই সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। পেনাল্টি পেলেও সেটি কাজে লাগাতে পারেননি অধিনায়ক লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস।
এরপরও একের পর এক আক্রমণ চালায় আর্জেন্টিনা। মেসির দূরপাল্লার শট লক্ষ্যে থাকেনি, আর নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর কাটব্যাক থেকে হুলিয়ান আলভারেজের নেওয়া শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা। ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে মিসর।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও আক্রমণের ধার বাড়ায় আর্জেন্টিনা। তবে মিসরের ঘন রক্ষণভাগ বারবার তাদের হতাশ করে। ৬৭তম মিনিটে দ্রুতগতির এক পাল্টা আক্রমণ থেকে হাসানের বাড়ানো পাস ধরে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করে জিকো গোল করলে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০।
ম্যাচ তখন প্রায় মিসরের নিয়ন্ত্রণেই। ৭৫ মিনিট পর্যন্ত আর্জেন্টিনার ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল না। কিন্তু এরপরই শুরু হয় অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন।
৭৯তম মিনিটে লিওনেল মেসির ডান দিক থেকে ভাসানো নিখুঁত ক্রসে দুর্দান্ত হেডে ব্যবধান কমান ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো।
মাত্র পাঁচ মিনিট পর, ৮৪তম মিনিটে নিজের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেন মেসি। তার জোরালো শট গোলরক্ষকের গায়ে লেগে ক্রসবারের নিচে আঘাত করে জালে জড়ালে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল আর্জেন্টাইন অধিনায়কের অষ্টম গোল।
সমতায় ফেরার পরও থেমে থাকেনি স্কালোনির দল। যোগ করা সময়ে আক্রমণ অব্যাহত রেখে জয়ের গোল আদায় করে নেয় তারা। লাউতারো মার্টিনেজের নিখুঁত ক্রসে দারুণ এক হেডে বল জালে পাঠান এনজো ফার্নান্দেজ। তাতেই ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার।
শেষ গোলের আগে বিল্ডআপে ফাউলের দাবি তোলে মিসরের খেলোয়াড়রা। তবে রেফারি সেই আবেদন নাকচ করে দিলে গোল বহাল থাকে।
শেষ পর্যন্ত রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে ২-০ গোলের পিছিয়ে থাকা অবস্থা থেকে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।