× Banner
সর্বশেষ
সরকার শুধু স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নয়, সার্বিক উন্নয়নে বদ্ধপরিকর – সমাজকল্যাণ মন্ত্রী চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণে বুথ ভাড়া মওকুফ করা হবে – বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার – বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী শ্যামনগরে দুই ক্লিনিককে মোবাইল কোর্টে জরিমানা আগস্টে শুরু হচ্ছে ৪ দিনব্যাপী ‘আবাসন মেলা’ বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রকল্পে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে – আফরোজা নতুন কুঁড়ি ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন সিলেট-রংপুর নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে – মহিলা পরিষদ কালীগঞ্জের পত্রিকা বিতরণকারী জাহাঙ্গীরের মৃত্যু

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির শ্রদ্ধাঞ্জলি

admin
হালনাগাদ: বুধবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রানতোষ তালুকদারঃ আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। এই দিনে আমাদের বাংলাদেশের প্রখ্যাত কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, অধ্যাপক সহ অসংখ্য বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে সেই নরপিশাচ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীরা। মিরপুরে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল সকাল ৯ টার পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন শহীদ বুদ্ধিজীবীগণের উদ্দেশ্য। তারপর শহীদ জননী জাহানারা ঈমামের কবর জিয়ারত করেন এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এবং নির্মূল কমিটির সকল সদস্যদের ১ মিনিট নিরবতা পালন করে শ্রদ্ধা জানান।

তারপর নিরবতা পালন শেষে কাজী মুকুল বলেন ১৯৭১-এ নৃশংস পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে এক অসম যুদ্ধে লিপ্ত হতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। সামরিক সামর্থ এবং নৃশংসতার পাশাপাশি তখন পাকিস্তানের পক্ষে ছিল আমেরিকা, চীন, পশ্চিম ইউরোপ ও তথাকথিত মুসলিম উম্মাহ অন্যদিকে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথমে ছিল শুধু ভারত, তারপর যুক্ত হয়েছে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পূর্ব ইউরোপীয় সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর সমর্থন।

’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে ভারত যেভাবে বাংলাদেশর পাশে দাঁড়িয়েছিল, যেভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাতের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সহ যাবতীয় সহযোগিতা প্রদান করেছে, যেভাবে ভারতের জনগণ বাংলাদেশের মানুষের দুর্ভোগ ও স্বাধীনতার আকাঙ্খার অংশীদার হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন জাতির স্বাধীনতার সংগ্রামের ইতিহাসে কখনও ঘটেনি।

মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত পাকিস্তানপন্থী মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি যখনই সুযোগ পেয়েছে তখনই এই মৈত্রীর বন্ধন ছিন্ন করতে চেয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে জামায়াত ও তাদের সহযোগীরা ভারতের মাটিতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এবং সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে, মৌলবাদী সন্ত্রাসের ক্ষেত্র প্রসারিত করছে।

একথা আমরা সব সময় বলেছি ‘৭১-এর পরাজয়ের প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের পাকিস্তানপ্রেমী সহযোগীরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা কিংবা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সংবিধান ধ্বংস করেই ক্ষান্ত হয়নি, বাংলাদেশকে মোল্লা উমরের আফগানিস্তান বা জিয়াউল হকের পাকিস্তান বানাবার জন্য এবং সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহাজোট সরকারকে উৎখাত করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করবার জন্য একের পর এক ধরনের ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী কর্মকা- চালিয়ে যাওয়া কখনোই সম্ভব হত না যদি না তাদের সকল দুষ্কর্মের দোসর হিসেবে বিএনপি পাথে থাকত।

দেশের ভেতর বিএনপি এবং দেশের বাইরে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও আমেরিকার মদদে জামায়াত বাংলাদেশকে ধ্বংস করবার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।

জামায়াতের জঙ্গী সন্ত্রাসীরা ধাওয়া খেয়ে এখন আশ্রয় নিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। সেখানকার তৃণমূল সরকার পশ্চিমবঙ্গে জামায়াত ও মুসলিম মৌলবাদীদের প্রতি নমনীয় হওয়ার কারণে গত কয়েক বছরে সেখানে কীভাবে তাদের ডালপালা ও শেকড় বিস্তার লাভ করেছে ভারত ও বাংলাদেশের গণমাধ্যমেও তা প্রকাশিত হয়েছে।
স্বাধীনতার ৪০ বছর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখার জন্য ভারত ও অন্যান্য বন্ধুপ্রতীম দেশের রাষ্ট্রনায়ক, সমরনায়ক ও বরেণ্য নাগরিকদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান করেছে যার সূচনা হয়েছে ২০১১ সালে শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে। এ পর্যন্ত শতাধিক ভারতীয়কে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে, যা এখনও চলমান রয়েছে।

গত মাসে বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যেককে পাঁচ লাখ ভারতীয় রূপী ও সম্মাননাপত্র প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে।

তিনি বলেছেন ভারতে নির্মূল কমিটির কার্যক্রম বিস্তৃত হচ্ছে। জঙ্গী মৌলবাদ প্রতিহত করতে না পারলে ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের প্রতি দুই দেশের অঙ্গীকার কিংবা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আর্থসামাজিক অগ্রগতি কোন কিছুই নিরাপদ বা নির্বিঘ্নে হবে না।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..