× Banner
সর্বশেষ
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক যোগাযোগের খবরে কমেছে তেলের দাম ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ৫০% কমানোর অঙ্গীকার বাংলাদেশের ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা, ১৭ জেলার নদীবন্দরে সতর্কতা আজ ৪ শ্রাবণ মঙ্গলবারের রাশিফল ও গ্রহদোষ প্রতিকারের উপায় আজ ২১ জুলাই মঙ্গলবারের পঞ্জিকা ও ইতিহাসের এইদিনে সততা চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন পাইলট প্রকল্পে ৯৯ হাজার শিক্ষার্থী পাবেন বিনামূল্যের পাটের স্কুল ব্যাগ সরকারের ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিমার্জনের উদ্যোগ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগে এনজিওদের এগিয়ে আসার আহ্বান জ্বালানিমন্ত্রীর ২০২৭ সালের হজে ব্যাকঅ্যাপ আবাসন ১% রাখার অনুরোধ বাংলাদেশের

বেরোবি’র ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি, ২১ জনের বিরুদ্ধে প্রমান পেয়েছে তদন্ত টিম

admin
হালনাগাদ: বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৫

শেখ মামুন-উর-রশিদ, রংপুর ব্যুরো : রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির মাধ্যমে ২১ জন পরীক্ষার্থীর ভর্তির বিষয়ে ওঠা অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। দীর্ঘ পাচঁ মাস তদন্ত করে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন কমিটির সদস্যরা।

জালিয়াতির মাধ্যমে ২১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে এ ইউনিটের ১৬ জন, সি ইউনিটের ৪ জন ও ডি ইউনিটের ১ জন রয়েছে।  তবে জালিয়াতি করে ভর্তির সুযোগ পেয়েও কোনো শিক্ষার্থীই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হননি। কেউ কেউ ভর্তির হলেও পরবর্তী সময়ে তাঁদের ভর্তি বাতিল হয়ে যায়। গত মে মাসে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই পরীক্ষায় ২১টি জালিয়াতির অভিযোগ ওঠলে তদন্তে জন্য গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আর এম হাফিজুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিত্য ঘোষ ও পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সিরাজুদ্দৌলা। পাঁচ মাস দীর্ঘ তদন্ত শেষে সোমবার প্রতিবেদন জমা দেন তারাঁ ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কলা অনুষদের (এ ইউনিট) ভর্তি পরীক্ষার ১৪টি উত্তরপত্র মূল্যায়ন (ওএমআর) না করে তাঁদের পাস দেখিয়ে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এই ১৪ জনের মধ্যে মাত্র ২ জন পাস করলেও তাঁরা ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। বাকি ১২ জন ছিলেন অকৃতকার্য। একই ইউনিটের একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা না দিয়েও মেধাতালিকায় ১৬১তম মেধাস্থান দখল করেন। কিন্তু ধরা পড়ার আশঙ্কায় ওই শিক্ষার্থী ভর্তি হননি। এই ইউনিটের মেধাতালিকায় সপ্তম স্থান দখলকারী শিক্ষার্থী ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে প্রাথমিকভাবে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ায় তাঁর ভর্তি বাতিল হয়ে যায়।

বিজ্ঞান অনুষদের (ডি ইউনিট) প্রশ্নকর্তা ছিলেন গণিত বিভাগের প্রভাষক ইসমাইল হোসেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে আপন ছোট বোনকে মেধাতালিকার দ্বিতীয় স্থান করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগেরও সত্যতা মিলেছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়। ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইসমাইলকে পাঁচ বছরের জন্য ভর্তি পরীক্ষার কমিটি থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া নেয়। সেই সঙ্গে বাতিল করা হয় তাঁর বোনের ভর্তির সুযোগও।

তবে এই জালিয়াতির কথা অস্বীকার করে শিক্ষক ইসমাইল হোসেন দাবি করে বলেন, ‘আমার বোন যোগ্যতা অনুযায়ী মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছে।’ কোনো নিকটাত্মীয় ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিলে কোনো শিক্ষক প্রশ্ন প্রণয়নসহ ভর্তি পরীক্ষার কোনো প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকতে পারেন না—এ প্রসঙ্গে শিক্ষক ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না।’ তদন্ত কমিটির প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব ছিল কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্য অনুসন্ধান করা। দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে এ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।’

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোরশেদ উল আলম তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। উপাচার্য এ কে এম নূর-উন-নবী বলেন, ভর্তির সময় এসব ঘটনা ধরা পড়েছে। ওই সময়ই সমস্যার সমাধান ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। চলবে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..