কোনো ধরনের আধুনিক জিপিএস (GPS) কিংবা ইনারশিয়াল ন্যাভিগেশন সিস্টেম (INS) ব্যবহার না করেই যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রিত সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরানের বিমানবাহিনী। সম্প্রতি প্রেস টিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান এয়ার ফোর্সের (IRIAF) ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ জাফারি।
তিনি জানান, দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানি পাইলটরা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও অত্যাধুনিক নেভিগেশন সুবিধা ছাড়া উড্ডয়ন ও মিশন পরিচালনায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। আধুনিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে মূলত ম্যাপ রিডিং (মানচিত্র পাঠ) এবং প্রথাগত নেভিগেশন দক্ষতার ওপর ভিত্তি করেই এই সামরিক মিশন সম্পন্ন করা হয়।
জাফারি বলেন, এই অভিযানের মূল কৌশল ছিল গোপনীয়তা বজায় রাখা। শত্রুপক্ষের রাডার বা নজরদারি এড়াতে বিমান থেকে কোনো প্রকার রেডিও সিগন্যাল বা ইলেকট্রনিক সংকেত নির্গত করা হয়নি।
ইরানি কমান্ডারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ শিরাজের শহীদ দৌরান বিমানঘাঁটি থেকে চারটি এসইউ-২৪ (Su-24) যুদ্ধবিমান কাতারের আল-উদেইদ মার্কিন বিমানঘাঁটির উদ্দেশে রওনা দেয়। একই দিনে ইরানি এফ-৫ (F-5) যুদ্ধবিমান কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত আল-আদিরি ঘাঁটিতেও হামলা চালায়।
তিনি আরও দাবি করেন, এই ঝটিকা হামলার মুখে মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তীব্র সতর্ক অবস্থানে চলে যায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কুয়েতি বাহিনীর ভুলে তিনটি মার্কিন এফ-১৫ই (F-15E) স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। আল-উদেইদ অভিযানে অংশ নেওয়া পাইলটদের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ কাজেমির মরদেহ সম্প্রতি ইরানে ফিরিয়ে আনা হলেও বাকি তিন পাইলটের সন্ধান এখনো মেলেনি।