তাইওয়ানের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েনকে যুক্তরাষ্ট্রঘেঁষা বলে মনে করা হয়। তার উত্তরসূরি হিসেবে ডেমোক্রেটিক প্রোগ্রেসিভ পার্টি থেকে এবার ভাইস প্রেসিডেন্ট লাই চিং তে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখন পর্যন্ত তিনি এগিয়ে আছেন।
চীনের কমিউনিস্ট পার্টি তাইওয়ানকে নিজস্ব ভূখণ্ড বলে দাবি করে, যদিও এটি কখনও নিয়ন্ত্রণ করেনি। চীনা কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের লক্ষ্য শান্তিপূর্ণ ‘পুনর্মিলন’। কিন্তু দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিতে শক্তি প্রয়োগের বিষয়টি অস্বীকার করেনি। জিনপিংও এর আগে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে হলেও তাইওয়ানকে চীনের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে একীভূত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
মাও সে তুংয়ের পর চীনের অন্যতম শক্তিশালী নেতা জিনপিং। যিনি তাইওয়ানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে তার বৃহত্তর লক্ষ্যের প্রধান অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। চীনকে বিশ্বব্যাপী শক্তি ও মর্যাদার জায়গায় ‘পুনরুজ্জীবিত’ করার জন্য তিনি এর আগেও একই কথা বলেছেন।
২০২২ সালে তৎকালীন মার্কিন হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফর ঘিরে চীন ব্যাপক সামরিক মহড়া দিয়ে দ্বীপটি ঘিরে ধরে। মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের সামরিক যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। সে উত্তেজনা চলে বেশ কিছুদিন।
গত মাসে সান ফ্রান্সিসকোতে সম্মেলন চলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে চীনা প্রেসিডেন্ট সি বলেছিলেন, চীনের সঙ্গে তাইওয়ানের পুনরেকত্রীকরণকে থামানো যাবে না। যুক্তরাষ্ট্র অনানুষ্ঠানিকভাবে তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। আবার ‘এক চীন’ নীতিও সমর্থন করে। এ নীতি অনুযায়ী তাইওয়ান চীনের অংশ। তবে ওয়াশিংটন কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে তাইওয়ানকে বেইজিংয়ের অংশ হিসেবে স্বীকার করেনি।
শি জিনপিং বলেন, ‘মাতৃভূমির সঙ্গে ফের একত্রীকরণের প্রক্রিয়া শেষ করা উন্নয়নের জন্য অনিবার্য শর্ত। এটি এমন ন্যায়সংগত একটি প্রক্রিয়া, যা জনগণ চায়। অবশ্যই এবং আবারও এক হবে মাতৃভূমি।’
মঙ্গলবার জিনপিং বক্তৃতায় আরও বলেন, যে কোনোভাবেই হোক, তাইওয়ানকে চীন থেকে আলাদা করা থেকে দৃঢ়ভাবে বাধা দিতে হবে। শুধু তাইপের জন্য নয়, ওয়াশিংটনের জন্যও এটি সতর্কবার্তা। তাইওয়ান মার্কিন-চীন সম্পর্কের অন্যতম কণ্টকাকীর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।



