চিকিৎসক সংকট দায়িত্বের অবহেলায় সেবা থেকে বঞ্চিত সাধারন মানুষ

রতি কান্ত রায় (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: চিকিৎসক সংকট এবং যারা আছেন তাদের দায়িত্বের অবহেলার কারনে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সাধারন মানুষ। দেশের বিভিন্ন জাতীয়, স্থানীয় ও অনলাইন গনমাধ্যমে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেহাল দশার অনেক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রংপুরের উপ-পরিচালক মহোদয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে কর্মরত ডাক্তার, কর্মচারীদের না পেয়ে হাজিরা খাতায় ১৭ জনকে অনুপস্থিত করে দেন। কিন্তু আজও বদলায়নি ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হালচাল। বাইরের চাকচিক্যতা বৃদ্ধি করা হলেও ভেতরের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেকে।

সরে জমিনে গিয়ে জানাগেছে, জরুরী বিভাগে ডাক্তাদের টিউটি থাকলেও উপস্থিত থাকেন না। রোগীর স্বজনরা জরুরী বিভাগে রোগী নিয়ে উপস্থিত হয়ে কর্তব্যরত ডাক্তার না পেয়ে চেচামেচি ও মোবাইল ফোনে যােগাযােগ করেও অনকক্ষণ পার হওয়ার পরে ডাক্তার উপস্থিত হওয়ার মত ঘটনা নিত্যদিনই ঘটছে। উপজলার চিকিৎসা বঞ্চিত মানুষের কথা চিন্তা করে সরকার কােটি কােটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটি চালু করলেও ডাক্তারের অবহেলায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারন মানুষ। সরকারী ভাবে ২টি এম্বুলেন্স থাকলেও ১টি দীর্ঘদিন অকেজাে হয়ে পরে আছে। অপরটি দিয়ে জরুরী রােগীদের যাতায়তে ব্যবহার থাকলেও তার সুফল পাচ্ছেন না রোগীরা।

জানাগেছে, ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ১৬ জন ডাক্তারের পদ রয়েছে কিন্তু কর্মরত রয়েছেন ৪ জন। ২৪টি নার্স পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ২২জন।

উপজেলার ভাঙ্গামােড় ইউনিয়নের রাবাইতারী গ্রামের নুর আলম মিয়া জানান, গত ১৩ তারিখ রাত ১০টায় ডায়রিয়া রোগে আক্রাত আমার পুত্র রিফাত (১) কে হাসপাতালে নিয়ে এসে জরুরী বিভাগে প্রায় ৩৫মিনিট অপক্ষা করার পরও কর্তব্যরত ডাক্তার না থাকায় রোগী নিয়ে বিপাকে পড়ি। পরে কর্তব্যরত ডাক্তার না আসায় ডাক্তার সাদ্দাম হোসেন এসে আমার ছেলেকে চিকিৎসা প্রদান করেন।

ফুলবাড়ী ইউনিয়নের ইউপি সদস্যা মামেনা বেগম জানান, আমার মেয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর আমি হাসপাতালে নিয়ে এসে সময়মত ডাক্তার পাইনি। যদিও দেরিতে ডাক্তার পাই কিন্তু রােগীর ওষধপত্র সব বাইরের দােকান থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। স্যালাইন দেয়ার ক্যানুলাটিও বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে।

উপজেলার রামপ্রসাদ গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রেফার্ট রােগী মমিনুল ইসলাম (৩৩) এর স্বজন সিরাজুল ইসলাম জানান, ১৪ এপ্রিল দিবাগত রাত রােগী নিয়ে রংপুর যাওয়ার জন্য ফুলবাড়ী হাসপাতালের এম্বুলেন্স ড্রাইভার একাব্বরকে জানালে তিনি বলেন বিশেষ কাজে বাইরে আছি। পরে তিনি তার ব্যক্তিগত মাইক্রোবাসটি রােগী নিয়ে যাওয়ার জন্য  ১৭ শ টাকা ভাড়া ঠিক করে দেন।

দাশিয়ারছড়ার এমনই একজন সেবা বঞ্চিত হওয়া মহিলা শরিফা বেগম(২৮)জানায়, শুক্রবার(১৩/৪/১৯)  তার ৯ মাস বয়সী এক বাচ্চার ডায়রিয়া হলে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। বাচ্চাটির পায়ে ক্যানুলা পড়ানো হয়েছিল, শিশুটিকে খাবার স্যালাইন সহ পুশ করার স্যালাইন দেয়া হয়। নড়াচড়া করার কারণে ১৩/৪/১৯ সকালে শিশুকে পুশ করা ক্যানুলাটিতে সমস্যা দেখা দেয়। তিনি নার্সের কাছে ছুটে যান। কিন্তু নার্সরা এসে সমস্যার সমাধান না করে ক্যানুলা সহ সব খুলে নিয়ে যায়। তিনি সকাল ১১ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত কমপক্ষে ৩০-৪০ বার নার্সের রুমে গিয়ে আরজি করেছিলেন কিন্তু কোন নার্স এসে ক্যানুলা লাগিয়ে দেন নি। পরে তিনি কান্নাকাটি করে বাচ্চাটিকে নিয়ে বাড়ি চলে যান।

এ ব্যাপারে গত রবিবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে কর্মরত নার্সদের সাথে কথা হলে জানায়, বাচ্চাটির মা এসে ক্যানুলা খুলে দিতে বলেছিল। তখন তিনি জানায় হাসপাতালে আর থাকবেন না বাড়িতে চলে যাবেন। আমরা তাকে বুঝিয়ে বলেছি ক্যানুলার কারনে নয় বাচ্চা এমনিতেই কান্নাকাটি করতেছে। ছোট বাচ্চাকে ক্যানুলা পড়াতে ভেইন খুঁজে পাওয়া কঠিন বাড়িতে নিয়ে গেলেও  খুলে দেয়া যাবে না। তবুও তারা জোর করে ক্যানুলা খুলে নেন। পরে আবার থাকতে চাইলে ক্যানুলা পরাতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসি।

ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ গোলাম কিবরিয়া, জরুরী বিভাগে কর্মরত ডাক্তার দেরিতে আসার  কথা স্বীকার করে বলেন মিস আন্ডারস্টার্নিংয়ের কারনে ১৫ মিনিট পর ডাক্তার এসেছে।

কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডাঃ আমিনুল ইসলামের সাথে মুঠাফোনে কথা হলে তিনি জানান, অবহেলাকারী ডাক্তার ও নার্সের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযােগ পেলে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
সংবাদ প্রতিনিধি

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।