চট্টগ্রাম খাতুনগঞ্জে জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া দরের চেয়ে কমে বিক্রি হচ্ছে ছোলা

রাজিব শর্মা,চট্টগ্রামঃ রমজান উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ছোলার পাইকারি ও খুচরা দর বেঁধে দিয়েছে। খাতুনগঞ্জের পাইকারি দোকানে সেই দর সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে। কিন্তু সেই দরের চেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে ছোলা।

জেলা প্রশাসনের দর বেঁধে দেওয়ার উদ্দেশ্যই হচ্ছে এর চেয়ে দাম বেশি না রাখা। অথচ এর চেয়ে কমদামে ছোলা বিক্রিতে ক্রেতার খোঁজ মিলছে না খাতুনগঞ্জে। ১৫ দিন আগেও খাতুনগঞ্জে ছোলা কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন ক্রেতারা, এখন ঠিক তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে। ক্রেতা না থাকায় অলস সময় পার করছেন আড়তদাররা। তবে এবার রমজানের অন্তত এক মাস আগে থেকেই দাম বাড়িয়ে দিয়ে বড় অঙ্কের মুনাফা তুলে নিয়েছেন ছোলা ব্যবসায়ীরা।

জানতে চাইলে ছোলার বড় ব্যবসায়ী পায়েল ট্রেডার্সের কর্ণধার আশুতোষ মহাজন দি নিউজকে বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া দরের চেয়ে ৪ টাকা কমে লোকসান দিয়ে ছোলা বিক্রি হচ্ছে। ৭৫ টাকার ছোলা ৭২ টাকায় এবং ৮০ টাকার ছোলা ৭৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এর পরও ক্রেতা খুঁজে পাচ্ছি না। ’

তিনি বলেন, রমজানে চাহিদার সমপরিমাণ ছোলা বিক্রি হয়ে গেছে অনেক আগেই, বাজারে প্রচুর ছোলা কিন্তু সে পরিমাণ ক্রেতা নেই। এখন পাইকাররা চাইছেন রমজানের মধ্যেই বাকি ছোলা লোকসান দিয়ে বিক্রি করে ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করতে।

খাতুনগঞ্জের আরেক পাইকারি ব্যবসায়ী আরিফ মোহাম্মদ ফোরকান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগে দিনে ৫০০ থেকে ৬০০ গাড়ি ছোলা বিক্রি হলেও এখন কমে দেড় শ গাড়ি বিক্রি হচ্ছে। বাজারে বিক্রেতা প্রচুর কিন্তু ক্রেতা নেই। ফলে দাম কমানোর প্রতিযোগিতার মধ্যে লোকসান দিয়েই ছোলা বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, রমজানে চাহিদার সমপরিমাণ ছোলা শবেবরাতের এক সপ্তাহ আগেই খুচরা বিক্রেতারা কিনে রেখেছেন। একসঙ্গে সব খুচরা বিক্রেতা কিনতে গিয়ে বাজারে ছোলার সরবরাহে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়। সে কারণে ছোলার দাম হু হু করে বেড়ে গেছে। সে সময় প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) ছোলা ২৯০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। শবেবরাতের পর থেকে পাইকারি বাজারে ছোলার চাহিদা ও বিক্রি দুটিই কমতে থাকে। রমজান শুরুর দিন থেকে একেবারেই কমে গেছে।
জানা গেছে, ট্যারিফ কমিশন ও সরকারি হিসাবে বছরে ছোলার চাহিদা গড়ে ১২ হাজার টন অর্থাৎ পুরো বছরের চাহিদা ১ লাখ ৪৪ হাজার টন।

বিগত ২০১৬ সালের পুরো বছরে আমদানি হয়েছে দুই লাখ ৫৩ হাজার টন, যা দিয়ে একটি রমজান শেষ করে চলতি রমজান পার করে আরো কয়েক মাস পর্যন্ত চলার কথা। অর্থাৎ এক বছরে ২১ মাসের চাহিদার সমান ছোলা আমদানি হয়েছে। এর পরও আমদানি থেমে নেই। চলতি ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মোট আমদানি হয়েছে আরো ৫৬ হাজার টন। এর পরও সরবরাহ কম এমন অজুহাত তুলে ছোলার বাজার কৌশল করে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। সেই বাড়তি দামেই খুচরা বিক্রেতারা ছোলা কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। আরো দাম বেড়ে যাবে এই শঙ্কায় খুচরা ব্যবসায়ীরা ছোলা কিনে মজুদ করে রাখেন। এখন খুচরা বিক্রেতারা বাড়তি দামে কেনা সেই ছোলা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। কারণ তাঁদের কেনা দামের চেয়ে পাইকারি বাজারে ছোলার দাম কম।

একাধিক ব্যবসায়ী বলেছেন, বাজার চড়া থাকলেই শুধু খুচরা ব্যবসায়ীদের কেনার ধুম পড়ে যায়। রমজানের শুরুর দিকে এই চাপ থাকলেও এখন সেটি আর নেই। দাম আরো বেশি বাড়বে এই শঙ্কায় অনেক খুচরা ব্যবসায়ী পুরো মাসের জন্য ছোলা কিনে মজুদ করে রেখেছেন। মজুদ থাকায় এখন তাঁরা পাইকারি বাজারে আসছেন না।

জানতে চাইলে কাজীর দেউড়ী আল মদিনা স্টোরের কর্ণধার নাছির উদ্দিন দি নিউজকে বলেন, ‘বেশি দামে কিনে এখন বিপাকে পড়েছি। কেনা দামের চেয়ে কমদামে কিভাবে বিক্রি করব। কত লোকসান দেব। ভ্রাম্যমাণ আদালত এসে আমাদের চার্জ করছেন, ভোক্তাদের কাছেও আমাদের জবাবদিহি করতে হচ্ছে। ’

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া দর অনুযায়ী খুচরা পর্যায়ে ছোলা কেজি ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।