রাজিব শর্মা, চট্টগ্রামঃ চট্টগ্রাম আদালত অঙ্গনে আইনজীবীদের দুই গ্রুপের মধ্যে চেম্বার বরাদ্দ নিয়ে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে।সাধারণ আইনজীবীদের একটি পক্ষের সঙ্গে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি রতন কুমার রায়ের অনুসারীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। সোমবার (০৮ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
সাধারণ আইনজীবীরা জানান, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি রতন কুমার রায় এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত এই দুই আইনজীবী নেতার বিরোধের জেরে এই অপ্রীতিকর ঘটনার সূত্রপাত। আইনজীবীদের জন্য নির্মিত শাপলা ও দোয়েল ভবনে চেম্বার বরাদ্দ, বিনিময় ও স্থানান্তর চলছে। শাপলা ভবনে টেন্ডার ছাড়া ৭৩টি চেম্বার বরাদ্দ নিয়ে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।
গত ২০ ডিসেম্বর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি গঠনতন্ত্রের ৪২ (১) বিধি অনুযায়ী সাধারণ সম্পাদককে ওই বিষয়ে আলোচনার জন্য সাধারণ সভা আহ্বানের নির্দেশ দেন। সাধারণ সম্পাদক ২১ জানুয়ারি সভা আহ্বান করলে বিষয়টি সভাপতির মনঃপূত হয়নি। এর মধ্যে সাধারণ সম্পাদক ভারতে যান। তিনি ভারতে থাকাকালীন সভাপতি তার নির্দেশ প্রতিপালিত হয়নি মর্মে কারণ দেখিয়ে ৮ জানুয়ারি (সোমবার) সমিতির ৩ নম্বর মিলনায়তনে সাধারণ সভা আহ্বান করেন।
এর মধ্যেই আইনজীবী চেম্বার স্বার্থ রক্ষা কমিটি নামে সাধারণ আইনজীবীরা একটি সংগঠন গড়ে তুলেন, যারা সভাপতির অবস্থানের বিরোধিতা করে আসছেন। তারাও ৮ জানুয়ারি একই স্থানে সভা আহ্বান করেন।
সোমবার দুপুর ১টার দিকে চেম্বার স্বার্থ রক্ষা কমিটি এবং আইনজীবী সমিতির সভাপতির সমর্থক অংশটি একইসময় সভা করার জন্য তিন নম্বর মিলনায়তনে যান। এসময় উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের এক পর্যায়ে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। তবে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা গিয়ে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সভাপতির সঙ্গে বিরোধের বিষয়ে জানতে চাইলে সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ বলেন, চেম্বারগুলো তৈরির জন্য দেড় থেকে দুই কোটি টাকা খরচ হয়েছে। সমিতিতে ছিল মাত্র ৩৩ লাখ টাকা। বাকি টাকার জোগান দিয়েছেন চেম্বার গ্রহীতা আইনজীবীরা। তারা নিজেরাই সরাসরি বারের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিয়েছেন। কিন্তু হঠাৎ করে সভাপতি বলছেন বরাদ্দ বাতিল করে টেন্ডার আহ্বান করতে হবে। আমি বলেছি গঠনতন্ত্রে এরকম কোনো বিধান নেই।
এই বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও সভাপতি রতন কুমার রায় রিসিভ করেননি।





