আজ বিশ্ব মস্তিষ্ক দিবস (World Brain Day)। প্রতি বছর ২২ জুলাই বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয় মানুষের মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য, স্নায়ুরোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মস্তিষ্কের যত্ন নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরতে। বিশ্ব মস্তিষ্ক দিবসের এবারের বার্তা হলো— মস্তিষ্কের যত্ন নিন, স্নায়ুস্বাস্থ্য রক্ষা করুন এবং সচেতনতা বাড়ান।
মস্তিষ্ক মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি। চিন্তা, স্মৃতি, অনুভূতি, চলাফেরা, শেখার ক্ষমতা ও শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্ক। স্ট্রোক, ডিমেনশিয়া, পারকিনসনস, মৃগী, মাইগ্রেনসহ বিভিন্ন স্নায়ুরোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করাই এ দিবসের অন্যতম লক্ষ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান ও ক্ষতিকর অভ্যাস পরিহার এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা মস্তিষ্কের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক।
আধুনিক যুগে মস্তিষ্কের উপর চাপ বেড়ে গেলেও তা নিয়ন্ত্রণে রাখার খুবই প্রয়োজন ৷ তাই মানিসক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে বেশ কয়েকটি নিয়ম মেনে চলা দরকার ৷
শরীরের রোগ প্রতিরোধে মস্তিষ্কের বিশেষ ভূমিকা: শরীর সুস্থ রাখতে ইমিউনিটি সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি ৷ যা খাবার থেকে তৈরি হলেও মস্তিষ্কের ভূমিকাও থাকে ৷ শারীরিক অসুস্থতা মনকে প্রভাবিত করে ৷ তাই এই পরিস্থিতিতে মস্তিষ্ক পারে আমাদের সুস্থ রাখতে ৷ আর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সুষম খাদ্যাভাস গড়ে তোলা জরুরি ৷
নিয়মিত যোগব্যামায় ও ধ্যান: ব্রেনকে সুস্থ রাখতে মানসিক চাপ মুক্ত হওয়া জরুরি । তাই নিয়মিত যোগব্যায়াম এবং ধ্যান প্রতিদিনের জীবন-যাপনের তালিকায় যোগ করতে হবে । যোগব্যায়াম আপনার শরীরকে ফিট রাখতে সাহায্য করবে ৷ অন্যদিকে, ধ্যান করলে মনের স্থিরতা বজায় রাখে । প্রতিদিন নিয়মিত হাঁটাও জরুরি ব্রেনের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে ৷
পর্যাপ্ত ঘুম: শরীরকে সুস্থ রাখতে ঘুম অত্যন্ত জরুরি ৷ তাই ব্রেন বা মাথাকে সচল রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন ৷
খাদ্যাভ্যাস : খাবার আপনার মস্তিষ্ককেও প্রভাবিত করে । তাই মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে অ্যালকোহল, সিগারেট, তামাক, ফাস্ট ফুড, জাঙ্ক ফুড ইত্যাদি থেকে দূরে থাকুন । আখরোট, বাদাম, কুমড়োর বীজে থাকা উপাদান মস্তিষ্কের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে ৷