আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক সুপ্রিম কোর্টের ৮৬ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১৭৯ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ তালিকায় কোনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি স্থান পাননি। তালিকার ধরন ও প্রক্রিয়া নিয়ে আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ ল’ অফিসার্স অর্ডার, ১৯৭২ (রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ৬/১৯৭২)-এর ৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ নিয়োগ প্রদান করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর অনুবিভাগ।
প্রকাশিত তালিকা বিশ্লেষণ করে আইনজীবীদের একটি অংশের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে, কারণ এ তালিকায় কোনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি স্থান পাননি। এ নিয়ে কোনো কোনো মহলে প্রশ্ন উঠলেও আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা জাতিগত সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত কোটা ব্যবস্থা নেই।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন আইন কর্মকর্তা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টে অনুশীলনরত আইনজীবীদের পেশাগত অভিজ্ঞতা, দলীয় রাজনৈতিক আনুগত্য, মামলা পরিচালনায় দক্ষতা এবং জ্যেষ্ঠতাকে মূল মাপকাঠি হিসেবে ধরা হয়। সরকারের নীতি ও অনুশাসনের আলোকে যোগ্য আইনজীবীদের তালিকা থেকেই এই প্যানেল চূড়ান্ত করা হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রীয় পদগুলোতে আইন কর্মকর্তা নিয়োগ মূলত প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। কোনো একটি নিয়োগ তালিকায় নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব না থাকার প্রধান কারণ হতে পারে নির্ধারিত প্রাতিষ্ঠানিক প্যানেলে প্রার্থীর সুপারিশ না থাকা অথবা জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার শর্ত পূরণের ক্ষেত্রে প্রার্থী কম থাকা।
এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় বা অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই নিয়োগ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং আইন কর্মকর্তারা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপক্ষে দায়িত্ব পালন করবেন।