বিশেষ প্রতিবেদক অসিত কুমার ঘোষ (বাবু)ঃ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় কারাগারে থাকা আসামী মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে মাসুম বিল্লাহ ওরফে খাজা ওরফে আবু জান্দালের সাফাই সাক্ষ্য শুরু হয়েছে।
আজ বুধবার ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এ আসামী সাফাই সাক্ষ্যে জবানবন্দি প্রদানের পর রাষ্ট্রপক্ষ তাকে আংশিক জেরা করেন। বিচারক শাহেদ নুরুদ্দিন এদিন জেরা শেষ না হওয়ায় আগামী ১০ ও ১১ অক্টোবর পর্যন্ত জেরা মুলতবি করেন।
এর আগে এদিন রাষ্ট্রপক্ষ আসামী হিজবুল মুজাহিদীন নেতা কাশ্মিরি নাগরিক আব্দুল মাজেদ ভাটকে বাকী জেরা করার পর তার সাফাই সাক্ষ্য শেষ। রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌশলী সৈয়দ রেজাউর রহমান ওই জেরা শেষ করেন। এর আগে গত ১২ জুন মামলাটিতে জামিনে ও কারাগারে থাকা ৩১ আসামীর আত্মপক্ষ শুনানি শুরু হয়, যা গত ১১ জুলাই শেষ হয়।
উল্লেখ্য, আত্মপক্ষ শুনানিতে ৩১ আসামীর সকলেই নিজেদের নির্দোষ দাবী করেছেন। মামলাটিতে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৮ জন আসামী পলাতক থাকায় তারা আত্মপক্ষ শুনানির সুযোগ পাননি। এর আগে গত ৩০ মে মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর এ আত্মপক্ষ শুনানি শুরু হয়।
মামলাটিতে ২০০৮ সালের ১১ জুন ২২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রথম চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি। ওই বছর ২৯ অক্টোবর আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে ট্রাইব্যুনাল। ২০০৯ সালের ৯ জুন পর্যন্ত ৬১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল।
২০০৯ সালের ৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে অধিকতর তদন্তের নির্দশ দেয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। ২০১১ সালের ৩ জুলাই অধিকতর তদন্ত শেষে তারেক রহমানসহ আরও ৩০ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি।
২০১২ সালের ১৮ মার্চ বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সম্পূরক চার্জশিটের ৩০ আসামীর অভিযোগ গঠন করে ফের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।
মামলাটিতে আসামি খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লেঃ কমান্ডার (অবঃ) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক আইজিপি মোঃ আশরাফুল হুদা, শহিদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরী এবং মামলাটির তিন তদন্ত কর্মকর্তা সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সিআইডির সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, এএসপি আব্দুর রশীদ ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম জামিনে রয়েছেন।
অন্যদিকে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ২৩ জন কারাগারে রয়েছে। মামলার আসামী জামায়াত নেতা আলী আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদের মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় এবং হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান ও শরিফ শাহেদুল ইসলাম বিপুলের ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর হামলার মামলায় মৃত্যুদ- কার্যকর হয়েছে।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভায় গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জনের নির্মম মৃত্যু হয়। গ্রেনেডের স্পিন্টারের আঘাতে আহত হন কয়েক শতাধিক। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও শ্রবনশক্তি হারান।



