× Banner
সর্বশেষ
ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে স্কুলছাত্রীকে হত্যা, ৪ বছর পর যুবকের মৃত্যুদণ্ড দেশে হামের উপসর্গে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু রাজবাড়ীতে চিকিৎসা ব্যবস্থায় আরো আন্তরিক হতে হবে – সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী মেজর মোজাফফরের বিচার সেনা আইনে – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইবার সক্ষমতা ও দেশীয় উদ্ভাবনে নতুন গতি আনতে হবে – প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা নিশ্চিতে নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার গড়ার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে বিজিবিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ বেনাপোলে বিজিবি অভিযানে মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান পণ্য আটক  জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় স্পেনকে অভিনন্দন জানা‌লো বাংলাদেশ দূতাবাস

স্টাফ রিপোর্টার

১৫ বছর পর ন্যায়বিচার, স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ; ৩ আসামির আমৃত্যু, তিনজনের যাবজ্জীবন

ACP
হালনাগাদ: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
১৫ বছর পর ন্যায়বিচার
১৫ বছর পর ন্যায়বিচার

ঠাকুরগাঁওয়ে এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের প্রায় ১৫ বছর পর মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। মামলায় তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অপর তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে দণ্ডিতদের সম্পত্তি বিক্রিরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মনসুর এ রায় ঘোষণা করেন।

আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোয়ালপাড়া এলাকার ইউনুস কসাইয়ের ছেলে আনিস রানা, মুসলিমনগর এলাকার মাইরুদ্দিনের ছেলে সাইফুল ইসলাম এবং ভোট কসাইয়ের ছেলে মো. দুলাল। আদালত তাঁদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও দিয়েছেন।

এ ছাড়া পৌর শহরের মুসলিমনগর এলাকার মো. সেলিমের ছেলে আনিছুর, বাংরু মোহাম্মদের ছেলে মো. খতিবুর খতু এবং বজলুর ছেলে মো. লালুকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তবে আসামিদের মধ্যে আনিস রানা পলাতক রয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর বিকেলে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী দক্ষিণ সালন্দর এলাকায় এক বান্ধবীর বাড়ি থেকে ফেরার পথে ঠাকুরগাঁও–পঞ্চগড় সড়কের পাশে এনামুল পেট্রোলপাম্পের পেছনের নির্জন এলাকায় কয়েকজন যুবকের কবলে পড়েন।

তাঁকে জোর করে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনজন পর্যায়ক্রমে তাঁকে ধর্ষণ করেন এবং অপর তিনজন এ ঘটনায় সহযোগিতা করেন।

ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে স্থানীয় এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। পরে ভুক্তভোগী বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের ঘটনাটি জানান।

শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ২০১১ সালের ২৪ অক্টোবর ভুক্তভোগীর বাবা মো. মোসলেম উদ্দিন ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. বদিউজ্জামান চৌধুরী বাদল। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. মেহেদী হাসান ও অ্যাডভোকেট মো. দিদার আলী।

রায়ে আদালত বলেন, আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫(এ) ধারার সুবিধা পাবেন না। তারা জেল কোড অনুযায়ী কোনো ধরনের সাজা মওকুফ বা রেমিশনের সুবিধাও ভোগ করতে পারবেন না।

এছাড়া আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, দণ্ডিতদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। আপিলের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর দণ্ডিতদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি থেকে ওই অর্থ আদায় করা হবে। প্রয়োজন হলে জেলা প্রশাসক তাঁদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেবেন। পরে সেই অর্থ ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে।

এ রায়ে সন্তুস্ট রাষ্ট্রপক্ষে  অ্যাডভোকেট মো. বদিউজ্জামান চৌধুরী বাদল। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অসন্তুস্ট প্রকাশ করেন।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..