নারী-শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণদের সুরক্ষায় তিন অধিদপ্তরের সমঝোতা

নারী-শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণদের সুরক্ষায় তিন অধিদপ্তরের সমঝোতা
নারী-শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণদের সুরক্ষায় তিন অধিদপ্তরের সমঝোতা

দেশের সুবিধাবঞ্চিত নারীশিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষাপুনর্বাসনন্যায়বিচার প্রাপ্তি এবং সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করতে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে এক ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘সমাজসেবা অধিদপ্তর’মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর’ এবং আইনবিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর’-এর মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

আজ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেনমহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনআইনবিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামানসমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীনসমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফমহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ইয়াসমীন পারভীন এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা।

সমঝোতা স্মারকে নিজ নিজ সংস্থার পক্ষে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার মহাপরিচালক মোঃ মঞ্জুরুল হোসেনসমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহ্বুব এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শায়লা শার্মিন জামান।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেনবর্তমান সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক মানবিক বাংলাদেশ গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমাজের নারীশিশু এবং অবহেলিত শ্রেণির অধিকার যেন কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে এবং কেউ যেন বিচারের অভাবে নিভৃতে না কাঁদে -সে লক্ষ্যে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। যাদের আইনি সহায়তা প্রয়োজন কিন্তু আর্থিক সামর্থ্য নেইরাষ্ট্র সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তাদের আইনি সহায়তাও প্রদান করবে।

আইনবিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী বলেনআইনি সহায়তা পাওয়া প্রতিটি মানুষের মানবাধিকার এবং মৌলিক অধিকার। বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই দেশে সরকারি পর্যায়ে লিগ্যাল এইডের ধারণার সূত্রপাত হয়। তিনি চেয়েছিলেন যাদের আইনি লড়াই চালানোর আর্থিক সামর্থ্য নেইরাষ্ট্র তাদের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করুকতারই ধারাবাহিকতায় আজকের বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেনপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেনসেই লক্ষ্য বাস্তবায়নেই সরকার কাজ করে চলেছে। প্রান্তিক ও অসহায় জনগোষ্ঠীর কল্যাণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়িত হলে সুবিধাবঞ্চিত নারীশিশুপ্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ যেকোনো সহিংসতার শিকার মানুষ এক ছাতার নিচে আইনি সহায়তানিরাপদ আশ্রয়চিকিৎসামনোসামাজিক কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসন সেবা পাবে।

পাশাপাশি একটি সমন্বিত রেফারেল ও কেস ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের ফলো-আপ নিশ্চিত হবে এবং ১৬৬৯৯১০৯৮ ও ১০৯ হেল্পলাইনগুলোর মধ্যে আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে জরুরি সহায়তা কার্যক্রম আরো দ্রুততর হবে।

সমঝোতা স্মারকের শর্তানুযায়ী মাঠপর্যায়ে সেবা বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ে যৌথ কমিটি কাজ করবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যৌথ প্রশিক্ষণজনসচেতনতা বৃদ্ধিতথ্য বিনিময় ও গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে। সামগ্রিকভাবেএটি আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি করে অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সরকারি সেবা প্রাপ্তিকে সহজসমন্বিত ও সময়োপযোগী করবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
ACP
লেখক / প্রতিবেদক

ACP

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।