সৃষ্টি ধারার সাথে সাংঘর্ষিক ভ্রান্ত মতবাদই হিন্দু সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণ

দেবাশীষ মুখার্জী (কূটনৈতিক প্রতিবেদক) : সনাতন ধর্ম ছেড়ে অন্য ধর্মে কেন লোক যাচ্ছে? অন্য ধর্ম থেকে সনাতন ধর্মে যে একদম লোক আসে না,তা নয়। তবে সেটা এক লক্ষ জন চলে যাওয়ার বিপরীতে হয়তো একজন মাত্র আসে। তাহলে এই যে বিপুল সংখ্যক মানুষ সনাতন ধর্ম ছেড়ে চলে যাচ্ছে, এর কারণগুলো কি? অনেকে বলে বাপু,ওইসব চিন্তাভাবনা তুমি ছেড়ে দাও। ভগবানের ধর্ম ভগবান রক্ষা করবেন।

সমস্যা হচ্ছে, এই সমস্ত কথাবার্তা যারা বলে,তাদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে দেখেছি, তারা না পড়েছে ইতিহাস – না পড়েছে ভূগোল ; জগৎ সম্পর্কে তাদের কোন বাস্তব ধারণা নেই। তারা কিছু অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার আঁকড়ে আছে। জাতির নীরব ক্ষয়-প্রাপ্তি তারা অনুধাবন করতে ব্যর্থ। বিগত দিনগুলোতে কমপক্ষে অর্ধশত রাষ্ট্র থেকে, সনাতন ধর্মালম্বীরা শতভাগ সংখ‍্যাগরিষ্ঠতা সত্ত্বেও কেন মুছে গেল – ওই বিষয়ে তারা কোনো চিন্তাভাবনা করেছে বলে, মনে হয় না।

হিন্দু জাতির সংখ্যা হ্রাস যদি এই হারে চলতে থাকে, তাহলে আগামী ৫০/৬০ বছরের মধ্যে হিন্দু জাতির শেষ ভরসা, ভারত রাষ্ট্রটি হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে এবং পরবর্তী ২০/৩০ বছরের মধ্যে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের মতো ভারত ভূমি থেকে হিন্দুরা একবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। পৃথিবীর প্রাচীনতম জাতি হিসেবে হয়তো দু’চারটা হিন্দুর স্থান হবে চিড়িয়াখানায়।

আমি জটিল কোন তাত্ত্বিক আলোচনায় যাব না। হিন্দুরা ধর্ম বলতে সাধারণত বোঝে কিছু উপাসনালয় ও ধর্মগুরুদের আশ্রম-কে। ঐ সমস্ত ভজনালয়ে গিয়ে হিন্দুরা যেসব আলোচনা-উপদেশ শোনে, তার উপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে হিন্দুর আধ্যাত্বিক মাইন্ডসেট।

আপনি যেকোন একটি ভজনালয়ে গিয়ে কান পাতুন, সর্বত্রই শুনতে পাবেন একটি কমন আলোচনা ও উপদেশ ; তা হচ্ছে, “তোমার জীবনের একটাই লক্ষ্য – সেটা ঈশ্বর প্রাপ্তি বা মোক্ষলাভ। ঈশ্বরকে যদি তোমার পেতে হয়, তাহলে তোমার অবশ্য অবশ্যই কামনা-বাসনা ত্যাগ করতে হবে। কামনা-বাসনা ত্যাগ করার সহজ উপায় হচ্ছে, বিষয় সম্পত্তির মোহ পরিত্যাগ, উত্তেজক আহার পরিহার ও যৌনকামনা অবদমন।…”

আমার কথা হচ্ছে, একজন মানুষকে যদি পৃথিবীতে টিকে থাকতে হয় – প্রথমেই তাকে দৈহিক ভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে উঠতে হবে। শরীরে শক্তি না থাকলে মনে সাহস আসে না। সাহস না থাকলে বুদ্ধি বিকশিত হয় না।

সামর্থবান নর-নারী যৌন আকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করার মাধ্যমে, সন্তান জন্ম দিয়ে, বংশধারা তথা মানব প্রজাতি-কে টিকিয়ে রেখেছে। মানবজাতির জীবনধারণের জন্য বিষয়-সম্পদ অত্যাবশ্যক।

হিন্দু আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বরা যা প্রচার করছে সেটা সম্পূর্ণ অবাস্তব এবং সৃষ্টি ধারার সাথে সাংঘর্ষিক। এই ভ্রান্ত তত্ত্ব প্রচারের ফলেই সনাতন ধর্মালম্বীরা দেশে-দেশে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ব্রিটিশ না এলে, হিন্দুরা ভারত ভূমি থেকেও এতদিনে বিলুপ্ত হয়ে যেত। যেমন শতভাগ হিন্দু অধ্যুষিত দেশ আফগানিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ায় ব্রিটিশ যাইনি, সেখানে এখন আর হিন্দু অবশিষ্ট নেই বললেই চলে। ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পরে, ভারতে হিন্দু জনসংখ্যার হার কমপক্ষে ৭% কমেছে ; পাকিস্তান থেকে হিন্দুরা বিলুপ্ত হয়ে গেছে ; বাংলাদেশ থেকেও হিন্দুরা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পথে। এই বিষয়ে আমি প্রতিটা হিন্দুকে অনুরোধ করছি, আপনারা বাস্তবসম্মত চিন্তা ভাবনা করুন – ভ্রান্ত আধ্যাত্বিক ধ‍্যানধারনা নিয়ে বসে থাকলে কিন্তু, জাতির অস্তিত্ব থাকবে না।

বেশ কিছু তরুণী আমার কাছে লিখেছে, “কাকু মশাই, আপনি সামাজিক সমস্যা নিয়ে লিখছেন, পারিবারিক সমস্যার দিকে নজর দিচ্ছেন না কেন?”

তারা যে কথাটা বলতে চায়, তা হচ্ছে এরকম – হিন্দু তরুণরা ভজনালয়ে গিয়ে, আধ্যাত্বিক ব্যক্তিত্বদের প্রভাবে, উত্তেজক আহার পরিহার করে – শারীরিকভাবে যেরকম দুর্বল হয়ে পড়ছে ; পাশাপাশি তারা ক্রমশ যৌনতা বিমুখ হয়ে যাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে, হিন্দু তরুণীরা স্বজাতি যুবকদের প্রতি আকৃষ্ট না হয়ে, ভিন্নধর্মী যুবকদের স্বামী হিসেবে ব‍্যাপকহারে গ্রহণ করছে ; এমনকি বহু তরুণী,হিন্দু স্বামীর সংসার ত্যাগ করে, ভিন্নধর্মী যুবকদের সাথে চলে যাচ্ছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
সংবাদ প্রতিনিধি

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।