সালথায় খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছে গাছীরা

সালথায় খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছে গাছীরা

আবু নাসের হুসাইন, সালথা প্রতিনিধি: দেশের মধ্যে খেজুরের রস ও গুড়ের জন্য বিখ্যাত ফরিদপুর জেলা। এবছর জেলার সালথা উপজেলায় খেজুরের রস ও গুড় সংগ্রহের জন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা।

আবহমান গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য খেজুরের রস আহরণের জন্য উপজেলার আটটি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে গ্রামে গাছিরা গাছ প্রস্তুত করতে শুরু করেছেন। তবে আগের তুলনায় বর্তমানে গাছির খুব অভাব দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, এই জেলার ঐতিহ্য খেজুরের গুড়ের সুনাম রয়েছে দেশ জুড়ে। এ অঞ্চলে শীতের আভাস অনেক আগেই দেখা দিয়েছে।
উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের যদুনন্দী গ্রামের মাঠ জুড়ে কিংবা সড়কের দুই পাশে সারি সারি অসংখ্য খেজুর গাছ রয়েছে। গাছিরা হাতে দা নিয়ে ও কোমরে দড়ি বেঁধে গাছ চাঁচাছোলা ও নলি বসানোর কাজ করছেন।
আর ১৫দিন পরেই পাওয়া যাবে খেজুরের রস ও সুস্বাদু গুড়। শীতের সকালে মিষ্টি রোদে বসে এই সুস্বাদু খেজুর গাছের রস পানের মজাই আলাদা। আবার অনেকেই খেজুরের রস বা গুড় দিয়ে তৈরি করবে হরেক রকমের শীতের পিঠা।
শীত মৌসুমে খেজুরের রস আহরণ ও গুড় তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন এ অঞ্চলের গাছিরা। তাদের মুখে ফুটে ওঠে রসালো হাসি। শীতের দিন মানেই গ্রামাঞ্চলে খেজুর রস ও নলেন গুড়ের ম-ম গন্ধ। খেজুরের তাজা রস যে কতটা তৃপ্তিকর তা বলে বোঝানো যায় না। আর খেজুর রসের পিঠা এবং পায়েসতো খুবই মজাদার। এ কারণে শীত মৌসুমের শুরুতেই গ্রামাঞ্চলে খেজুর রসের ক্ষির, পায়েস ও পিঠে খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। শীতের দিনে জামাই আদরেও ব্যবহার করা হবে খেজুরের গুড়ের তৈরি পিঠা।
যদুনন্দি গ্রামের রস সংগ্রহকারী (গাছি) কামাল মোল্যা, আবু সাইদ বলেন, রস সংগ্রহের জন্য গাছ প্রস্তুত করতে শুরু করেছি। এবছর আমরা একজন গাছি, প্রায় দুইশ টি খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করবো। আর মাত্র পঁনেরো দিন পরই গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হবে। রস থেকে গুড় তৈরি চলবে প্রায় মাঘ মাস পর্যন্ত।  এই গুড় বাজারে বিক্রি করে আমাদের সংসার চালাবো। আশা করি এবার গুড়ের উৎপাদন ভালো হবে। দামও ভালো পাবো বলে আশা করি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।