সত্যনিষ্ঠ ইতিহাস ও জনগণের ক্ষমতায়নই হবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি -সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী

সত্যনিষ্ঠ ইতিহাস ও জনগণের ক্ষমতায়নই হবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি -সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী

সত্যনিষ্ঠ ইতিহাস ও জনগণের ক্ষমতায়নই হবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি। মহান স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ইতিহাসের সত্য অনুসন্ধানের মাধ্যমেই একটি জাতি সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি পায়। বলেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে আজ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল বীর শহিদদের। তিনি বলেন১৯৭১ এ দেশ যখন এক চরম সন্ধিক্ষণে এবং নেতৃত্বশূন্য তখনই শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন যা জনযুদ্ধের সূচনা করেছিল। তিনি বলেনপ্রকৃত ইতিহাসকে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করে যার যতটুকু অবদানতা যথাযথভাবে তুলে ধরতে হবে।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেনআমরা এক বিধ্বস্ত অবস্থা থেকে নতুন স্বপ্ন বুনছি। দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংক-বিমা খাতের যে প্রতিকূল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছেতা কাটিয়ে উঠতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। মনে রাখতে হবেরাষ্ট্রের প্রকৃত সার্বভৌমত্ব থাকে জনগণের হাতে এবং জনগণ তা প্রয়োগ করে ভোটাধিকারের মাধ্যমে। আমরা ব্যর্থ হওয়ার জন্য ক্ষমতায় আসিনিবরং বর্তমানের সকল চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে দেশটাকে পুরোপুরি বদলে দিতে চাই।

ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরো যোগ করেনআমাদের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের সামর্থ্যকে সারা বিশ্বের কাছে সগৌরবে তুলে ধরা। আমাদের যা কিছু প্রাকৃতিক সম্পদ আছেতার সর্বোচ্চ ব্যবহারের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। তবেই আমরা একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর জাতি হিসেবে বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব।

গৌরবময় সংস্কৃতি নিয়ে মন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেনএকটি জাতির প্রাণ হলো তার সংস্কৃতি। আমরা আমাদের সংস্কৃতিকে আবারও পুনর্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। গ্রাম-বাংলার লোকজ শিল্প থেকে শুরু করে জীবনমুখী প্রতিটি শাখায় শুদ্ধ চর্চা ফিরিয়ে আনা হবে। আমরা এমন এক সাংস্কৃতিক জাগরণ ঘটাতে চাইযা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে সগৌরবে পরিচিত করবে।

বক্তব্য শেষে মন্ত্রী শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মফিদুর রহমানঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামবাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদমন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবিশিষ্ট শিল্পী ও গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।